sliderস্থানীয়

রাজাপুরে উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে কাঁচা ধান কর্তনের অভিযোগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামে উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে কাঁচা ধান কর্তনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে ধান কাটা শুরু করলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধান কাটা বন্ধ দেয়। ততক্ষণে ভূমিদস্যু প্রতিপক্ষরা বিপুল পরিমাণ কাঁচা ধান কেটে সরিয়ে ফেলে। 
জানাগেছে, নারিকেল বাড়িয়া মৌজার এসএ ৪৬ নং খতিয়ানের এসএ ২৬৬ নং দাগের ১একর ২৬ শতাংশ সম্পত্তির ৯৫ শতাংশতে রেকর্ড সংশোধনীর জন্য ল্যান্ডসার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা (নং- ৭২/১৬) দায়ের করা হয়। মামলাটির আদেশের বিপক্ষে উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন (নং ১০৪০২/১৮) দায়ের করা হয়। আদালতে ৫বছর মামলা চলমান থাকা অবস্থায় পর্যালোচনায় উচ্চ আদালতের (হাই কোর্ট) বিচারপতি কাশিফা হোসাইন ও বিচারপতি ফাতিমা নাজিব ২৬-০৭-২২ তারিখে এক আদেশ দেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়, “ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে খারিজকৃত মোকদ্দমার আপীল বিভাগ চালু হলে সেখানে আপিল মোকদ্দমা চালু করতে পারবে। এছাড়াও উক্ত জমিতে যে যেভাবে দখলে বিদ্যমান আছে সেখানে স্থিতি অবস্থা জারী করেন।” 
উচ্চ আদালতে রীটকারী জমির মূল মালিক মৃত. আনোয়ার হোসেনের পুত্র আতিকুর রহমান জানান, ১৯৯৬ সালে ৪টি দাগ থেকে ৯৫ শতাংশ জমি জনৈক মিজানুর রহমানের কাছে ২টি দলিলমূলে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে ২৬৬ নং দাগ থেকে ১২৬ শতাংশ জমির ১৬ শতাংশ জমি প্রদান করা হয়। উক্ত দাগ থেকে একুনে ৯৫ শতাংশ জমি কৌশলে গোপনীয়ভাবে রেকর্ড করিয়ে নেয়। পরবর্তিতে ওই জমির রেকর্ড অনুযায়ী ৯৫ শতাংশই নুরে আলম রাব্বানীর কাছে হস্তান্তর করেন মিজানুর রহমান। ঝালকাঠি যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দলিল বাতিল ও সুষ্ঠ বণ্টনের মামলা চলমান রয়েছে। আগামী ৩ জানুয়ারী বাদী পক্ষের স্বাক্ষীর জন্য দিন ধার্য্য রয়েছে। 
তিনি আরো জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশে জমিতে চাষাবাদ, বীজ রোপন, সার দেয়া এবং জমির ধান সুরক্ষায় জাল দেয়া হয়। বুধবার সকাল ৮টায় নুরে আলম রাব্বানী, নূরে আলম মল্লিক, মজিবর রহমান, সোহরাব হোসেন, বাদল মল্লিক, মাকিব মল্লিক, ভাড়াটিয়া মাস্তানসহ অর্ধশতাধিক লোক বিরোধীয় জমির বিপুল পরিমান (৩০ আঁটি) কাঁচা ধান অবৈধভাবে কেটে নেয়। এমন ভূমিদস্যুতার বিষয়ে সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন আতিক। 
বিরোধীয় পক্ষের নূরে আলম মল্লিক জানান, আমরা দলিলমূলে উক্ত জমির মালিক হওয়ায় ধান কেটে নিয়েছি। 
রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বিরোধীয় জমির ধান কাটার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে যে পরিমাণ ধান পাওয়া গেছে তা স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সোবাহান হাওলাদার ও চৌকিদার ইউসুফ আলী’র জিম্মায় রাখা হয়েছে। জমিতে যে চাষাবাদ করেছে ও বীজ রোপন করেছে তিনি ওই জমির ধান পাবেন।

Related Articles

Back to top button