sliderস্থানীয়

রসিক নির্বাচনে জামানত হারালেন আ’লীগসহ ৭ মেয়র প্রার্থী

আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর ব্যুরোঃ রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়াসহ সাত মেয়র প্রার্থী।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন। এরপর রসিকের ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ২২৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। মেয়র পদে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যার মধ্যে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেয়া জামানতের টাকা ফেরত পাবেন না বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আব্দুল বাতেন ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিধিমালা অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তাকে জামানতের টাকা ফেরত দেয়া হবে না। সদ্য সমাপ্ত রসিক নির্বাচনে নয় মেয়র প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থী ছাড়া অন্য সাত প্রার্থীই তাদের জামানত হারিয়েছেন। তারা আইন অনুযায়ী জামানতের টাকা ফেরত পাওয়ার মতো ভোট পাননি। জামানতের টাকা ফেরত পেতে হলে তাদের ৩৫ হাজার ১২৬ ভোট পেতে হতো।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাতি প্রতীকের লতিফুর রহমান মিলন শর্ত অনুযায়ী কম পেয়েছেন এক হাজার ২৩৮ ভোট। তিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৮৩ ভোট। অন্যদিকে চতুর্থ অবস্থানে থাকা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শর্তের ১২ হাজার ৮১৫ ভোট কম পেয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ২২ হাজার ৩০৬টি। পঞ্চম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ কংগ্রেসের আম প্রতীকের আবু রায়হান ভোট পেয়েছেন পেয়েছেন ১০ হাজার ৫৪৯ ভোট। তিনিও ২৪ হাজার ৫৭২ ভোট কম পেয়েছেন শর্তের। ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের খোরশেদ আলম খোকন পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৮০৯ ভোট। তিনি শর্তের থেকে ২৯ হাজার ৩১২ ভোট কম পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

সপ্তম অবস্থানে থাকা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের মশাল প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ১৫৬ ভোট। তিনিও জামানতের শর্তের চেয়ে ২৯ হাজার ৯৬৫ ভোট কম পেয়েছেন। অষ্টম অবস্থানে থাকা খেলাফত মজলিশের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু পেয়েছেন দুই হাজার ৮৬৪ ভোট। তিনি কম ভোট পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৫৭ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হরিণ প্রতীকের মেহেদী হাসান বনি দুই হাজার ৬৭৯ ভোট। তিনি ৩২ হাজার ৪৪২ ভোট কম পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, এই সাত মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেয়া জামানাতের টাকা ফেরত দেয়া হবে না। তবে বিজয়ী ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দুই প্রার্থী জামানতের টাকা ফেরত পাবেন।

রসিক নির্বাচনে এবার ভোটার সংখ্যা ছিল চার লাখ ২৬ হাজার ৪৭০ জন। এবার নির্বাচনে বৈধ ভোট পড়েছে দুই লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৬টি আর বাতিল হয়েছে এক হাজার ৩৬টি ভোট। নয় মেয়র প্রার্থী, ১৭৮ জন সাধারণ এবং ৬৭ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

রসিকের ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের ফলাফল

ফলাফলে দেখা যায়, ১ নম্বর ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম, ২ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম সরওয়ার মির্জা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আশেক আলী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে হারাধন চন্দ্র রায়, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মোখলেছুর রহমান তরু, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবু হাসান চঞ্চল, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ারুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আফছার আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম দেওয়ানী, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে শাহ মো. কামরুজ্জামান, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াজেদুল আরেফীন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে মকবুল হোসেন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ফজলে এলাহী, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে মমদেল হোসেন সরকার, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে জাকারিয়া আলম, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আমিনুর রহমান, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল গাফফার, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুদ রানা, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাহমুদুর রহমান টিটু, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে তৌহিদুল ইসলাম, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে মাহবুবুর রহমান মঞ্জু, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে মিজানুর রহমান মিজু, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে লিটন পারভেজ, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে রফিকুল আলম, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুন্নবী ফুলু, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পুনরায় ভোটগ্রহণ, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে রেজওয়ান আল মেহেদী, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে শাহাদাত হোসেন, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে হারুন অর রশীদ, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর আলম তোতা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী, ৩১ নম্বর সামসুল হক, ৩২ নম্বর শাহাদৎ হোসেন এবং ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে সিরাজুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
এছাড়া সংরক্ষিত নারী ১ নম্বর ওয়ার্ডে দিলারা বেগম, ২ নম্বর ওয়ার্ডে সুলতানা পারভীন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মোসলেমা বেগম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে শামীমা আক্তার, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মোছলেমা বেগম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জাহেদা আনোয়ারী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ফেরদৌসী বেগম, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হাসনা বানু, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মনোয়ারা সুলতানা মলি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে সাজমিন রহমান শিউলি এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ঝরনা খাতুন নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। এবার রসিক নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৭০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৩০২ এবং নারী ২ লাখ ১৪ হাজার ১৬৭ জন।

Related Articles

Back to top button