sliderস্থানীয়

রংপুরে পূজিঁ সংকট, লবনের দাম বৃদ্ধির ফলে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা নি:স্ব

আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর ব্যুরোঃ রংপুর অঞ্চলে কোরবানীর চামড়ায় সরকারী দাম নির্ধারণের পরেও সস্তাদামে কেনাবেচা হয়েছে পশুর চামড়া। সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্য মুল্য পাননি সাধারণ মানুষ। পূজিঁ সংকট লবনের দাম বৃদ্ধির ফলে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের নি:স্ব হয়েছেন অনেকে।
আজ রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ ও চামড়া ব্যবসায়ীরা ন্যয্য মুল্য না পাওয়ায় পূজিঁ হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছেন। তাদের দাবি সরকারের নির্ধারিত মুল্য অনুযায়ী চামড়া কেনা বেঁচা হলে কিছুটা পূষিয়ে নিতে পারবে।
রংপুর অঞ্চলে এ বছর কোরবানি করার মত পশু মজুদ ছিল ১৮ লাখেরও বেশি। প্রতি বছর ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ থেকে ১৪লাখ চামড়া খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ব্যাপারীদের হাতে বিক্রি হলেওচলতি মৌসুমে এক লাখ চামড়াও বিক্রি হয়নি আর সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৮ লাখ চামড়া।
চামড়া ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান রংপুরের তারাগঞ্জের হাড়িয়ালকুঠি থেকে চামড়া হাটে এসেছিলেন চামড়া বেঁচতে। তিনি বলেন
২০০টি চামড়ার মধ্যে লোকসানে বেঁচতে হয়েছে মাত্র ১৪০টি । লবনের দাম বৃদ্ধি ও লেবার খরচ দিয়ে তার লোকসান ৩০ হাজার টাকা। এ হাটে তার মতো দেড় হাজার খুচরা ব্যবসায়ীরও চিন্তা শেষ পর্যন্ত চামড়া বেঁচতে পারবেন কিনা।
আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা চামড়া চামড়াজাত করে এবার লোকসানে পড়েছি। সরকারি মুল্য দেওয়ার কথা থাকলেও সঠিক দাম পাচ্ছি না।
এদিকে পলাশবাড়ী থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন বলেন, গত বারের চেয়ে এবার চামড়ার দাম একটু বেশি। তবে লবনের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় পুষিয়ে উঠতে পারছি না।
ব্যবসায়ীরা জানান,ট্যানারী মালিকদের কাছে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ প্রায় দুশো থেকে আড়াইশো” কোটি টাকা। আর হাট ইজারাদাররা বলছেন, এ হাটে ৭০ থেকে ৮০ হাজার চামড়া উঠলেও বিক্রি হয়েছে মাত্র সাত হাজার।
আরকে লেদার ম্যনেজার মাহমুদ হাসান জানান,
কোরবানির চামড়া কিনে বুলু করে রংপুর থেকে বাহিরের দেশ গুলোতে রপ্তানি করা হয়। এতে করে তুলনা মুলক ভাবে তেমন কোন দাম পাচ্ছি না।
রংপুরের তারাগঞ্জের হাট ইজারাদার আনিসুর রহমান বলেন, ঈদের মৌসুমে প্রায় ৫০ হাজার চামড়া বিক্রি হয়। গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রকার ভেদে চামড়া প্রতি দুই এক শত টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় পুষিয়ে উঠতে পারাচ্ছেন না চামড়া ব্যবসায়ীরা। এজন্য বর্তমান সরকারের কাছে দাবি তাদের ন্যায্য মুল্য দেওয়া হোক।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান সিন্ডিকেট করে দাম কমায় আর একারনে ঈদের চামড়ার ৪০ শতাংশই সীমান্ত চোরাচালানিদের দখলে চলে যায়। সরকারি ভাবে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নানলে চামড়া শিল্প দিন-দিন ধবংস হয়ে যাবে।

Related Articles

Back to top button