sliderঅর্থনৈতিক সংবাদ

ভারত থেকে গরু আনা বন্ধের দাবি ফার্মরস অ্যাসোসিয়েশনের

দেশে যে পরিমাণ গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া রয়েছে তাতে কোরবানির চাহিদা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব জানিয়ে ভারত থেকে চোরাই কিংবা বৈধ পথে গরু আনা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
গুড়া দুধের আমনানি বৃদ্ধি আমাদের দেশের দুগ্ধ খামার শিল্পের প্রধান অন্তরায় দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুধের আমনানি কমিয়ে দেশেই গুড়া দুধ তৈরির প্লান্ট করাতে হবে এবং ভেজাল ‘কনডেন্সড মিল্ক’ পুরোপুরিভাবে বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান হোসেন, মহাসচিব শাহ ইমরান, সহসভাপতি আলি আজম শিবলী, যুগ্মমহাসচিব নাসিম উল্লাহ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান হোসেন বলেন, ভারত থেকে গোশত আমদানির উদ্যোগ বাস্তায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের বিপুলসংখ্যক গরু ব্যবসায়ী, কসাই ও ক্ষদ্র খামারি মূলধন হারিয়ে পথে বসবেন। সেই সাথে দেশের ট্যানারি শিল্পও হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, সরকার যদি বাজার মনিটরিং জোরদার করে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে পারে তবে গরুর মাংসের দাম কমে যাবে। আমরা সাধারণ মানুষকে ৪০০ টাকার নিচে গরুর গোশত দিতে পারবো।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১০-১১ সালে বাংলাদেশে দুগ্ধ খামারের সংখ্যা ছিল ৭৯ হাজার ৯৪২টি, যা ২০১৫-১৬তে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ এক হাজার ৪৩২টিতে।
২০১০-১১ অর্থবছরে দেশে দুধের চাহিদা ছিল এক কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ২৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে দুধের চাহিদা ছিল এক কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন, এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৭২ লাখ ৭০ মেট্রিক টন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৬ সালে পশু কোরবানি হয় এক কোটি চার লাখ দুই হাজার। এর মধ্যে গরু-মহিষ ছিল ৪৮ লাখ ২০ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া ছিল ৫৫ লাখ ৮২ হাজার।
বর্তমানে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৫ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে জানিয়ে বলা হয়, এর মধ্যে গরু-মহিষ আছে ৪০ লাখ। আর ছাগল-ভেড়া আছে ৭৫ লাখ ৫৫ হাজার। যা দেশের মোট চাহিদা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করতে সক্ষম।
এ অবস্থায় যদি পশু আমদানি ও চোরাইপথে পশু আসা বন্ধ না করা যায়, তাহলে দেশীয় গোশত উৎপাদনকারী খামার ব্যবসায়ীরা লোকসানের সম্মুখীন হবেন। যা ভবিষ্যতে দেশের গোশত শিল্পের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে।
দেশে পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে জানিয়ে তারা বলেন, বাজারে বর্তমানে ৫০ কেজির এক বস্তা কুড়ার দাম এক হাজার ১০০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। ভূষির দাম এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা। যা আগে বিক্রি হতো সাড়ে ৪০০ টাকায়। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে এসব খাদ্যের দাম বাড়িয়েছে। সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button