ভারতে মানুষের মতো অধিকার পেল নদী

নিউজিল্যান্ডের পর এবার ভারতের আদালত গঙ্গা ও যমুনা নদীকে ‘জীবন্ত মানবিক সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে এ নদী দুটি এখন থেকে মানুষের মত সমান অধিকার এবং মর্যাদা পাবে। পৃথিবীতে এটি দ্বিতীয় রায় যা কিনা নদীকে জীবন্ত মানবিক সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিল।
ভারতের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে গঙ্গা ও যমুনা নদীকে পবিত্র নদী হিসেবে মানা হয়। এ নদীতে স্নান করলে পাপ মুক্ত হয় বলেও তাদের বিশ্বাস। ভারতীয় হিন্দুরা এই নদী দুটিকে দেবতা হিসেবেও ভক্তি করে। তবে যুগ যুগ ধরে নদী ‍দুটি দূষিত হয়ে আসছে। নানাভাবে দখল দূষণ করার ফলে দিন দিন নদী দুটি তাদের প্রবাহ পথে নানা ধরনের বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসের ১৫ তারিখে নিউজিল্যান্ডের হোয়াংগুই নদীকে দেশটির আদালত ‘জীবন্ত মানবিক সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল। ওই ঘোষণার ৬ দিনের মাথায় এবার ভারতের আদালতে গঙ্গা ও যমুনাকে ‘জীবন্ত মানবিক সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হল।
হিমালয় রাজ্য উত্তরখন্ডের হাইকোর্টের দেয়া এই স্বীকৃতির ফলে এই দুটি নদীকে সংরক্ষণ এবং দূষণ থেকে রক্ষায় সরকার সহায়তা করবে। উত্তরখন্ডের হাইকোর্ট তাদের রায়ে বলেছে, এই দুটি নদীর ব্যাপারে হিন্দুদের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে এবং তারা সম্মিলিতভাবে এই দুই নদীর সঙ্গে এক ধরণের একাত্মতা বোধ করে।
ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন, নদী তাদের জীবনের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। এটি তাদের শারীরিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগায়। কিন্তু শিল্পায়ন আর দ্রুত নগরায়নের ফলে দুটি নদীই এখন মারাত্মকভাবে দূষিত। আদালতের রায়ের পরে উত্তরখন্ডের দুজন সরকারি কর্মকর্তাকে এই দুটি নদীর আইনগত অভিভাবক নিয়োগ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের মাওরি সম্প্রদায় হোয়াংগুই নদীর স্বীকৃতির জন্য দীর্ঘ ১৪০ বছর ধরে লড়াই করে আসছিলো। তবে একটা প্রাকৃতিক সম্পদকে আইনগত অধিকার দেয়ার ঘটনা অনেকের কাছে বিস্ময়কর বলেও মনে হতে পারে। তবে ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের পরিবেশবাদীরা আশা করছেন আদালতের এই রায়ের পর স্বীকৃতি পাওয়া নদীগুলো দূষণমুক্ত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।

Check Also

নবাবগঞ্জে শীতার্তদের পাশে প্রবাসী কল্যাণ ফান্ড

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় দুস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ …