sliderস্থানীয়

বড়াইগ্রামে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

দেড় মাসেও ব্যবস্থা নেয়নি শিক্ষা বিভাগ

নাটোর প্রতিনিধি : বড়াইগ্রামের কুশমাইল সংগ্রামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আতœসাৎসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে জেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কোন প্রকার তদন্ত করেননি সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সোহেলী পারভীনের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, স্লিপ কমিটি এবং সামাজিক মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে কাজ না করেই ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের দুই লাখ টাকাসহ গত চার বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা আতœসাতের অভিযোগ উঠে। এভাবে অর্থ আতœসাৎ এবং সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে রুঢ় আচরণ করাসহ নানা অভিযোগে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্তের জন্য দু’জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কিন্তু প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এ ব্যাপারে কোন তদন্ত করেননি। এতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই কারণে বিক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৮ জানুয়ারী দাতা সদস্য নুরুল ইসলাম পুনরায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবর পুনরায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, সুস্পষ্ট অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলেও শিক্ষা অফিস ন্যূনতম তদন্তটুকুও করার প্রয়োজন বোধ করেনি। এটা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়ারই নামান্তর। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির সদস্য ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. নাসিম রানা বলেন, দায়িত্ব দেয়া হলেও ওই শিক্ষিকা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় তদন্ত করা সম্ভব হয়নি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম নবী বলেন, কমিটি মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণ দেখিয়ে তদন্ত করতে পারেননি বলে জানিয়েছে। তবে পুনরায় আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় উপ-পরিচালকের দপ্তর থেকে সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল কবীবের নেতৃত্বে একটি এবং জেলা শিক্ষা অফিস থেকে বড়াইগ্রামের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঝর্ণা মন্ডল ও ড. নাসিম রানাকে দায়িত্ব দিয়ে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে তার নামে বিভাগীয় মামলা করা হবে।

Related Articles

Back to top button