sliderস্থানীয়

বড়াইগ্রামের রামেশ্বরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের বড়াইগ্রামের রামেশ্বরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারোয়ার হোসেন পিঞ্জুর অনাচার, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দূর্নীতি সহ নানা অপকর্মের কথা তুলে ধরে তাকে গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগিরা। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক সারোয়ার হোসেন পিঞ্জু চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা রয়েছে। গত ২০দিন ধরে সে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। এতে করে ব্যাহৃত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের একটি রেষ্টুরেন্টে এলাকার ভুক্তভোগিদের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম মনির।
এ সময় অন্যান্য ভুক্তভোগিদের মধ্যে ছিলেন, রবিন হোসাইন, নজরুল ইসলাম, ইলিয়াস পারভেজ, ভেকু মালিক তরিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
মনিরুল ইসলাম মনির স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে দাবী করা হয় শিক্ষক সারোয়ার হোসেন পিঞ্জুর অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তিনি চাকরী দেওয়ার নাম করে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। চাকরী না পেয়ে তারা তাদের টাকা ফেরৎ চাইলে তাদেরকে মারপিট ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এলাকার বিল গরিলা খননের জন্য ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেও শিক্ষক সারোয়ার হোসেন পিঞ্জু ভেকু দিয়ে খনন কাজ করে ভেকু মালিক তরিকুলকে ভেকু ভাড়া না দিয়ে সে টাকা আত্মসাৎ’ করেন। ভেকু মালিক বাধ্য হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্কুল মাঠ সংলগ্ন ডোবা ভরাট করার জন্য টাকা বরাদ্দ হলেও তিনি ডোবা ভরাট না করে আত্মসাৎ করেছেন। স্কুলের জমি বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি ছাড়াও বিভিন্ন জনের কাছে লীজ দিয়ে সেসব অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। নিজের পক্ষাঘাতগ্রস্ত চাচা নিজাম উদ্দিনকে স্কুল কমিটির সভাপতি বানিয়ে তার স্বাক্ষরে জাল করে স্কুলের সমস্ত আর্থিক ও দাপ্তরিক কাজ সমাধা করে থাকেন।
শিক্ষক সারোয়ার হোসেন পিঞ্জু তার নিজের স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে ৭ লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন জনকে চাকরী দেওয়ার নামে বিপুল অর্থেও টাকা নিয়ে তাদের চাকরী না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ওইসব ভুক্তভোগিরা তার কাছে টাকা ফেরৎ চাইলে তিনি তাদেরকে মারপিট ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখেন। এসব বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ অন্তঃত ১১ জন বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় অভিযোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আদালতেও প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা রয়েছে।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাওনাদারদের ফাঁকি দিয়ে গাঢাঁকা দেওয়ায় তার স্কুলের সকল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের পক্ষে গণাম্যমে কথা বলার কারণে শিক্ষক সারোয়ার হোসেন পিঞ্জু তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষক সারোয়ার হোসেন পিঞ্জু বৃহস্পতিবার নাটোর শহরে সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে সুবিধা নিচ্ছেন যা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। তিনি কখনই কোথাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করেননি। প্রকৃতপক্ষে ভুক্তভোগী মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণে শিক্ষক সারোয়ার হোসেন পিঞ্জু তার প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগিরা তার কথায় সমর্থন জানিয়ে শিক্ষক সারোয়ার হোসেন পিঞ্জুকে তার এসব কর্মকান্ডের জন্য গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button