sliderদূর্ঘটনাশিরোনাম

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন ছিল বেইলি রোডের আগুনে নিহত বৃষ্টির

সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষার কোচিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন অভিশ্রুতি শাস্ত্রী ওরফে বৃষ্টি। স্বপ্ন পূরণ করতে দিল না ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বৃষ্টির লাশ এখন পড়ে রয়েছে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হিমঘরে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকার বেইলি রোডে ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনে আগুনে মারা যাওয়া ৪৬ জনের একজন সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রী ওরফে বৃষ্টি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মায়ের সাথে শেষবারের মতো কথা হয়েছে বৃষ্টির। আর রাতেই বৃষ্টির মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। শোকে পাগলপারা মা বিউটি বেগম।

শুক্রবার (১ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বনগ্রাম পশ্চিম পাড়ায় বৃষ্টির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির সাথে কথা বলবেন বলে দ্রুত নিজের ফোন খুঁজছেন বিউটি বেগম। কখনো ফোনের জন্য চিৎকার করে সারা বাড়ি মাতম করে ফিরছেন। ফোন পেলেই মেয়ে বৃষ্টির কাছে ঢাকায় যাবেন। ছোট মেয়ে বর্ষা মাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে দর্শনে ভর্তি হন বৃষ্টি। স্নাতক (সম্মান) ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। উচ্চ শিক্ষা শেষ করার আগে থেকেই বিসিএস কোচিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল দ্য রিপোর্ট ডট লাইভের নির্বাচন কমিশন বিটের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক ছিলেন বৃষ্টি। তবে মাসখানেক আগে অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়েছিলেন তিনি। ঢাকার মৌচাকের সিআইডি অফিসের বিপরীতে একটি মেসে থাকতেন।

বাবা শাবলুল আলম সবুজ রাজধানী ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। অভিশ্রুতি শাস্ত্রী বা বৃষ্টি খাতুন সবার বড়। মেজো মেয়ে ঝর্ণা রাজবাড়ি সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে বর্ষা পড়ে দশম শ্রেণিতে। ছোট মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন মা বিউটি বেগম।

ছোট বোন বর্ষা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মায়ের সাথে বৃষ্টির শেষ বারের মতো মুঠোফোনে কথা হয়। বৃষ্টি সাংবাদিকতা করলেও বাড়ি থেকে মা পড়ালেখার খরচ পাঠাতেন। বড় বোনের মৃত্যুতে তাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।

নিহতের চাচা জোয়াদ আলী জানান, ঢাকায় ছোট চাকরি করে দুই মেয়েকে বাইরে রেখে শিক্ষিত করার চেষ্টা করতেন বাবা সবুজ। গত ঈদেও বাড়ি এসেছিল বৃষ্টি। সবার সাথে ঈদের আনন্দ করেছে মেয়েটি। সুস্থ মেয়েটি নাকি পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে।

বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মজিদও বৃষ্টির অকাল মৃত্যুতে সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, মেয়েটি মেধাবী ছিল।

বনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় বৃষ্টি। মেয়েটি স্বাধীনচেতা ছিল। ছোট বেলা থেকে সে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখত।

বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অভিশ্রুতি শাস্ত্রী ওরফে বৃষ্টিসহ এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র : ইউএনবি

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button