sliderবিবিধশিরোনাম

বার্মা এ্যাক্ট-বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সম্ভাব্য লিখিতপত্র-ডব্লিউএলপি

পতাকা ডেস্ক: We Love Politics-WLP এর উদ্যোগে “বার্মা এক্ট- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক চিত্র” শীর্ষক এক আলোচনা সভা সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাডভোকেট আলী নাসের খানের সঞ্চালনায় সভায় বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তের ঠিক ওপারে মায়ানমারে চলছে গনতন্ত্রকামী যোদ্ধাদের বিজয়াভিযান, ছত্রখান হয়ে পড়ছে সামরিক জান্তা। ২০২১ সালে ক্ষমতা গ্রহনের পর থেকে হাজারো নির্যাতন, হত্যা,গুম দমাতে পারেনি গনতন্ত্রপন্থীদের। আজ মায়ানমারে সেনাবাহিনী কোনঠাসা হয়ে পড়েছে, বার্মা এ্যাক্টের বাস্তবায়ন এগিয়ে চলেছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মায়ানমারে গনতন্ত্র ফিরে আসবে। একইসাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সূচিত বার্মা এ্যাক্ট পুরোটাই বাস্তবায়িত হবে। এই বার্মা এ্যাক্ট শুধুমাত্র মায়ানমারের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ,ভারতও এর বাইরে নয়। কৌশলগত খাতে অনেক কিছুর পরিবর্তনও আশা করা যাচ্ছে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়।
এদিকে বাংলাদেশের আজ গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বন্ধু রাষ্ট্রের প্রয়োজন, নচেৎ গভীর সংকটে পড়তে যাচ্ছে দেশ।
একদলীয় শাসন ব্যবস্থা, গনতন্ত্র হরন ও উপর্যুপরি ভুল সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে বন্ধু শূন্য রাষ্ট্রে পরিনত করছে- ডব্লিউএলপি আয়োজিত এক ঘরোয়া সভায় এই অভিমত ব্যক্ত করেন সিনিয়র সাংবাদিক বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবু রূশদ।
তিনি আরোও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো গনতন্ত্রের কথা মুখে বললেও তারা মূলত স্বৈরতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণাকে লালন করে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা, গনতন্ত্র হরন ও উপর্যুপরি ভুল সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে বন্ধু শূন্য রাষ্ট্রে পরিনত করছে। কি সরকারি দল, কি বিরোধী দল তাদের বেশিরভাগই স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত বিষয়াদিতে মোটেও গুরুত্বারোপ করছে না। যা একসময় এই অঞ্চলের মূল ইস্যু হয়ে দাড়ানোর সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে সেই বার্মা এ্যাক্ট নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই। বুদ্ধিবৃত্তিক মহল, এমনকি মিডিয়াতেও এনিয়ে তেমন কোন বিশ্লেষণ দাড় করানো হয়নি।
আবু রূশদ উল্লেখ করেন যে, ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনের স্বাক্ষরিত বিশেষ যে অ্যাক্টটি সামনে এসেছে তা হচ্ছে BURMA ACT.- Burma Unified Through Rigorous Military Accountability Act। এর মূল বিষয় হচ্ছে একটি কঠোর সামরিক ব্যবস্থার গ্রহনের মাধ্যমে বার্মাকে পুনরায় একত্রিত করা, গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। বার্মা এ্যাক্টের সাথে একসময় না চাইলেও আমাদের চট্রগ্রাম অংশ জড়িত হয়ে যেতে পারে। আমাদের নিরাপত্তা ধারনায় নতুন বিষয় যুক্ত হতে পারে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, নেই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। রাজনীতির নামে অপরাজনীতি চলছে, বিরোধী মতের মানুষদের গুম, খুন, হত্যা ও মামলা দিয়ে লাখ লাখ বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীকে কোনঠাসা করে জেলে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর বিরোধী রাজনীতিকরাও আছেন চুপ করে। তাদের কাছে রাজনীতি ছাড়া আর কোন বিষয় বিবেচ্য নয়।
বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগর তথা এই বার্মা এ্যাক্টের বাহিরে নয়। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিয়ে নিজেদের আখের গুছানোর যে অপচেষ্টায় লিপ্ত তা শীগ্রই মুখথুবড়ে পড়বে। যথাযথ পদক্ষেপ না নিতে পারলে বিপদগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ নামক অপার সম্ভাবনাময় এই ভূখন্ড। বাংলাদেশের সকল রাজনীতি ও অধিকার সচেতন নাগরিককে বার্মা এ্যাক্ট সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

আলোচনায় আরোও অংশ নেন দ্য মুসলিম পোস্ট ইউকে’র সাবেক প্রধান সম্পাদক আলতাফ হোসাইন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা, ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী শিহান মির্জা, এক্টিভিষ্ট ও সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম আদিব। উই লাভ পলিটিক্স (ডব্লিউএলপি) এর সংগঠকবৃন্দ; অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান, অ্যাডভোকেট তারেক আব্দুল্লাহ, জনাব মিনহাজুল আবেদীন শরীফ, অ্যাডভোকেট এসএম তাসমিরুল ইসলাম জনাব সাইফুল ইসলাম মির্জা।

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাড. মোঃ জহিরুল ইসলাম মূসা, ব্যারিস্টার আব্বাস আলী খান নোমান, ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন, ব্যারিস্টার জারিন তাসনিম প্রভা, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও ফাউন্ডার সুবিচার ট্রাস্ট ব্যারিস্টার শাইখ মাহদি, অ্যাড. সাঈদ আল হক, অ্যাড. আব্দুল্লাহ আল হাসিব সহ আরো অনেকে।
খবর বিজ্ঞপ্তির।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button