বাগেরহাটে বিরল প্রজাতির ঈগল উদ্ধার

বাগেরহাটে মাছের ঘেরের মাছ শিকার করতে এসে পেতে রাখা জালে বিরল প্রজাতির একটি ঈগল পাখি ধরা পড়েছে। সম্প্রতি বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কাফুরপুরা গ্রামের একটি মাছের ঘেরের পাতা জালে ঈগল পাখিটি ধরা পড়ে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিরল প্রজাতির ঈগল পাখিটিকে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয়রা।
তাৎক্ষণিকভাবে ঈগল পাখিটির জাত শনাক্ত করতে না পারলেও এটি বিরল প্রজাতির বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। জালে জড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া ইগল পাখিটির চিকিৎসাসেবা দিয়ে পরে বনে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের জুনিয়র স্কাউট মো. শাহিন এই প্রতিবেদককে বলেন, “স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আমরা পাখিটিকে উদ্ধার করেছি। এটি বিরল প্রজাতির ঈগল পাখি।”
“বনের ভারত ও বাংলাদেশ অংশে ঈগল পাখি রয়েছে। এটির গায়ের রং বাদামি কালচে ধূসর। ভেতরের পালক কিছুটা সাদা। বয়স আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় বছর হতে পারে। মাছ ও মাংস এদের প্রধান খাদ্য। পাখিটি মাছ শিকার করতে এসে জালে আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। পাখিটি অসুস্থ থাকায় উড়তে পারছে না। পাখিটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর আমরা এই পাখিটিকে বনে অবমুক্ত করব।”
জানা গেছে, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার, ভুটান, আফগানিস্তান রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ঈগল পাখির মূল বাসস্থান। এরা শীতের পরিযায়ী পাখি। বাংলাদেশে টাঙ্গুয়ার হাওর ইগলের মূল বিচরণক্ষেত্র।
সুন্দরবন ও উপকূল অঞ্চলেও এদের দেখা যায়, তবে সংখ্যায় খুবই কম। দিন দিন ঈগলের বিচরণস্থলে মাছের সংখ্যা কমছে। আর বাসা বানাবার জায়গাও দিন দিন কমে আসছে। খাবার ও আবাসস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পানি দূষণও বাড়ছে অধিক হারে। কচুরিপানার বিস্তারের ফলে এদের স্বাভাবিক শিকার পদ্ধতিও ব্যাপক হারে ব্যাহত হচ্ছে।
তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির বাগেরহাটের সদস্যসচিব ফররুখ হাসান জুয়েল এই প্রতিবেদককে বলেন, গত ২৮ জুলাই বিকেলে কাফুরপুরা গ্রামের একটি মাছের ঘেরের পেতে রাখা জালে ঈগল পাখিটি আটকা পড়ে। পরে তারা এটি জাল থেকে ছাড়িয়ে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পাখিটি উড়তে না পারায় তারা খাঁচায় বন্দী করে রাখে। পরে পাখিটিকে বনে অবমুক্ত করতে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে খবর দিলে তারা এসে পাখিটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্মল কান্তি পাল বলেন, এই ধরনের ঈগল পাখির আবাসস্থল সুন্দরবনের উপকূল ও হাওর এলাকা। শীত মৌসুম ছাড়াও এরা খাবার আহরণ করতে নদী বা হাওর এলাকায় বের হয়ে থাকে। বাগেরহাট সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা। সুন্দরবনে এদের আবাসস্থল রয়েছে। সুন্দরবন থেকে বেরিয়ে খাবার আহরণ করতে ঈগলটি এসে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। সুত্র : দেশ রূপান্তর।

Check Also

অনার্স শেষ করেই চাকরি পেতে পারেন যেভাবে

বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষে যত দ্রুত সম্ভব ভালো বেতনে চাকরি করতে চান। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ে …