sliderদূর্ঘটনাশিরোনাম

বাংলাদেশে একসাথে এতজন ফায়ার সার্ভিস কর্মীর প্রাণহানি আর ঘটেনি

বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ড চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের একটি কনটেইনার ডিপোতে ঘটলেও এতে যেন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কাছের দুটি ফায়ার স্টেশন।
শনিবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩০ কিলোমিটারের মতো দূরে সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকায় কনটেইনার টার্মিনালে যখন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় তখন সে আগুন নেভাতে একদম শুরুতে গিয়েছিলেন সীতাকুণ্ড ও কুমিরা ফায়ার স্টেশনের অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা।
আগুন প্রায় নিভিয়ে ফেলেছিলেন তারা। কিন্তু ঠিক ৪০ মিনিটের মাথায় ঘটে একের পর এক বিস্ফোরণ। সেই বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকেও শব্দ শোনা গেছে, কম্পন অনুভূত হয়েছে।
বিস্ফোরণে ডিপোতে থাকা মালবাহী কনটেইনারগুলো দুমড়ে মুচড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। পরপর বেশ ক’টি বিস্ফোরণ হয়েছে।
বাংলাদেশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বলছে, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে এপর্যন্ত ৯ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী।
গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২ জন। দুজনকে নেয়া হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আহত আর একজনকে সোমবার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মৃত, নিখোঁজ ও গুরুতর আহত সবাই সীতাকুণ্ড ও কুমিরা ফায়ার স্টেশনের কর্মী।
সংস্থাটির সিনিয়র স্টাফ অফিসার ও মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো: শাহজাহান শিকদার জানিয়েছেন, ১৯৮১ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পুনর্গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১৭ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী মারা গেছেন। বাংলাদেশে একসাথে এতজন ফায়ার সার্ভিস কর্মীর প্রাণহানি আর কখনোই ঘটেনি।
একসাথে এত সহকর্মীর মৃত্যুতে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন সীতাকুণ্ড ও কুমিরা ফায়ার স্টেশনের যে কয়জন বেঁচে আছেন তারা। শোকের সুযোগও তারা পাচ্ছেন না। অগ্নি নির্বাপণের কাজ করে যেতে হচ্ছে। আর আহতরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন।
কুমিরা ফায়ার স্টেশনের দুজন দলনেতার একজন আতিকুর রহমান বলছিলেন মৃত অপর দলনেতা মিঠু দেওয়ান সম্পর্কে।
‘রাঙামাটিতে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন। মাত্র শুক্রবারই ফিরে এসেছেন। ছুটির পর এটাই ছিল প্রথম ফায়ার রেসপন্স। রাঙামাটির আনারস খুব ভালো হয়। আমাদের সবার জন্য আনারস নিয়ে এসেছিলেন। ওই দিন আগুন নেভাতে আমাদের স্টেশনের টিম লিডার হিসেবে গিয়েছিলেন। ছুটি থেকে এসেই এইভাবে মারা গেলেন।‘
এই ফায়ার স্টেশনে বাকি যারা কাজ করতেন তাদের সবার বয়স ২৫-এর নিচে। বেশিরভাগের ফায়ার সার্ভিস কর্মী হিসেবে চাকরির বয়স দুই থেকে তিন বছর।
‘এরা সবাই আমার ছেলের মতো ছিল। এত কম বয়স। এদের নিয়ে কথা বলতে গেলেই আমার কান্না পাচ্ছে। আমার পুরো স্টেশন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। একটা ভালো কাজ করতে গিয়ে ওরা আত্মাহুতি দিয়েছে। এইটুকু ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা চেষ্টা করছি,‘ বলছিলেন আতিকুর রহমান।
সূত্র : বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button