পুরুষের পেয়াজ কাটার থেকে আকর্ষণীয় আর কিছু নেই

কাজল ঘোষ : ডগ এবং আমি ২০১৪ সালের ২২শে আগস্ট শুক্রবার শুভ পরিণয়ে আবদ্ধ হই। বিয়েতে আমাদের ভালোবাসার ও পছন্দের মানুষজন উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিকতার দেখাশোনা করছিল মায়া এবং মায়া অ্যাঞ্জেলোর লেখা থেকে পড়ছিল মিনা। ভারতীয় এবং ইহুদি মতের প্রতি সম্মান রেখে আমাদের বিয়ে হয়। আমি ফুলের মালা পরিয়ে দিলাম ডগের গলায় এবং সে একটি আয়নার দিকে তাকালো আর এর মধ্য দিয়েই আমাদের বিয়ে হয়ে গেল।
কোল এবং এলার সঙ্গে আমি একমত হলাম তারা আমাকে সৎ মা ডাকবে না। এর পরিবর্তে তারা আমাকে মমালা ডাকতে চাইলো।

আমার পছন্দের বিষয় ছিল সানডে ফ্যামিলি ডিনার।
যখন থেকে ডগ আর আমি একসঙ্গে এটাই আমাদের রীতি। সে এবং আমি যখন ডেট শুরু করি তখন ডগ ছিল সিঙ্গেল পিতা। সে দেখাশোনা করতো কেরস্টিনকে। ফ্যামিলি ডিনারে চাইনিজ টেকআউট এবং প্লাস্টিক ফর্ক থাকে। এগুলো বাচ্চারা শোবার ঘরে পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখতো। আমি তাদের এই অভ্যাসটি বদলে ফেললাম। এখন সকলেই জানে যে সানডে ফ্যামিলি ডিনার নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। আমরা একসঙ্গে আসবো, সকলেই টেবিলে বসবো, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবরাও সেই ডিনারে আমন্ত্রিত এবং আমি খাবার রান্না করে সকলকে পরিবেশন করবো। সানডে ফ্যামিলি ডিনার ছিল আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সকলেই খুব তাড়াতাড়ি এই নিয়মের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং নিজেদের করণীয় ঠিক করে নেয়। কোল টেবিল গুছানো, মিউজিক ঠিক করা এবং রান্নাঘরে সস তৈরির কাজ করে। এলা তৈরি করে রেস্তরাঁর আদলে গুয়াকামালো এবং এক্সকুইসিট ডেজার্ট এবং তাজা ফলে তৈরি টার্ট। সে ময়দা দিয়ে চমৎকার উপায়ে বাসায় তৈরি হুইপট ক্রিম বানাতো। ডগ একজোড়া বড় বড় পিয়াজ নিয়ে আসতো এবং তারপর সেটি কেটে কেটে ছোট ছোট টুকরো বানাতো। আপনাদেরকে আমার বলতেই হবে একজন পুরুষের পিয়াজ কাটার থেকে আকর্ষণীয় আর কিছু নেই।
আমি মূল ডিশটি তৈরি করি। হয়তো বা পর্কে তৈরি স্টিয়ু বা স্পেগেটি বলোনিজ বা ভারতীয় বিরিয়ানি অথবা ফেটা চিজে তৈরি চিকেন এবং বাগান থেকে আনা অর্গানিক সবজি। সাধারণত আমি রান্না শুরু করি শনিবারে, কখনও বা শুক্রবারে। আমি ব্যস্ত থাকলে এটি খুব সহজভাবে করার চেষ্টা করি। যেমন খুব ব্যস্ততায় আমি মাছের তৈরি টাকোস বানাই। এটা সব সময় পরিকল্পনামাফিক হয় না। কখনো কখনো পিজাটি ফুলে ওঠে না। আবার যে সসটি বানাই সেটি ঘন হয় না। কখনো মূল একটি উপাদান দিতেই ভুলে যাই। আমাকে এর থেকে উন্নতি করতে হবে। এটাই ঠিক। সানডে ফ্যামিলি ডিনার আসলে খাবারের চেয়ে বেশি কিছু।

রাতের খাবার শেষে বাচ্চারা ডিশ পরিষ্কার করে থাকে। আমি তাদের একবার আঙ্কেল ফ্রেডির গল্প বলেছিলাম। কারণ, তিনি হারলেমে অবস্থিত একটি বেজমেন্ট অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন যেখানে ছোট একটি রান্নাঘর ছিল। আঙ্কেল ফ্রেডি প্রতিটি ডিশ নিজে পরিষ্কার করতেন। যেসব পাত্র তিনি ব্যবহার করতেন কাজ শেষে সব পরিষ্কার করে ফেলতেন। এবং ‘আঙ্কেল ফ্রেডি’ তাদের কাছে একটি ক্রিয়াপদে পরিণত হলো। যখনই পরিষ্কার করার সময় আসতো তখন তারা প্রতিজ্ঞা করতো ‘আঙ্কেল ফ্রেডির’ জায়গা বলে এবং তারা খুব ভালো কাজ করতো। আমি জানি সকলেই রান্না পছন্দ করে না। কিন্তু এটা আমাকে সকলকে এক কেন্দ্রে আনতে ভূমিকা রেখেছে। যতদিন পর্যন্ত আমি সানডে ফ্যামিলি ডিনারের খাবার তৈরি করি আমি জানি ততদিন আমি আমার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছি। যেসব মানুষকে ভালোবাসি তাদের জন্যই কিছু করছি। যাতে আমরা ভালোভাবে একত্রে সময় কাটাতে পারি।
কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি ‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে,মানবজমিন

Check Also

রাজপথ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে: টুকু

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ইতোমধ্যে রাজপথ উত্তপ্ত হতে শুরু …