sliderস্থানীয়

পীরগাছায় নিখোঁজের ৩ দিন পর গর্তে মিললো গৃহবধূর মরদেহ : জিডি করতে গিয়ে আটক স্বামী

রংপুর ব্যুরো : রংপুরের পীরগাছায় নিখোঁজের তিনদিন পর মিলি বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ স্বামী মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার বিকেল ৪ টার দিকে উপজেলার পারুল ইউনিয়নের বিরাহীন কুঠিয়ালপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়ির পাশে গর্ত খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্ত্রী নিখোজের জিডি করতে গিয়েই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন মানিক মিয়া।
নিহত মিলি ওই গ্রামের মানিক মিয়ার স্ত্রী ও পাশর্^বর্তী সেচাকন্দি গ্রামের আসাদ আলীর মেয়ে। তাদের একটি ১২ বছর বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে। ছেলেটি নানা বাড়িতে থাকে। এর আগে গত বুধবার (১ জুন) রাত থেকে মিলি বেগম নিখোঁজ হয় বলে প্রচারণা চালান স্বামী মানিক মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত একটা থেকে মিলি বেগমের খোঁজ মিলছে না বলে প্রচারণা চালান মানিক মিয়া। বৃহস্পতিবার মিলি বেগমকে খোজার নাম করে বাড়িতে পালিয়ে যান নিহতের ভাসুর তৌহিদ মিয়া, শ^াশুড়ী রোকেয়া বেগম ও জা লাকি বেগম। এরপর গতকাল শনিবার দুপুরে মিলির বাবা একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী সেচাকান্দি গ্রামের আসাদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য যান মানিক। এদিকে, থানায় অবস্থানকালীন সময় মানিকের বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে একটি গর্ত থেকে একজনের মরদেহ দেখতে পেরে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানোর পর মানিককে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। আটক মানিক মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলি বেগমকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মারার কথা স্বীকার করেছেন। মানিক তার বাড়ির লোকজনের সহায়তায় বাড়ির পাশে একটি পুকুর পাড়ে গর্ত খুড়ে মরদেহের শরীরে লবন মাখিয়ে পুতে রাখে।
নিহতের পিতা আসাদ আলী বলেন, মানিক সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ বিয়ে বৈধ করতে সে প্রায় মিলিকে কাগজে স্বাক্ষর দিতে থাকেন। এ নিয়ে মিলি আমার বাড়িতে চলে যান। বুধবার তাকে ডেকে এসে এভাবে হত্যা করলো। আমি আমার মেয়ে হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর হয়েছে। এ ঘটনায় মানিক মিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ কাজ করছে। ।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button