sliderউপমহাদেশশিরোনাম

পাকিস্তানে ইমরান খানের সর্মথকদের বিক্ষোভ

পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে ইমরান খান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হয়েছেন। রোববার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নির্বাচনী অফিসের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দেয়। জাতীয় ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনেছে তারা।

রোববার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

কারাবন্দী সাবেক প্রথানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইসনাসফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্ররা ১০১টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল ৭৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে সমর্থনকারী পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪টি আসন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। অন্য ১১টি দল জাতীয় পরিষদে মোট ৩৪টি আসন পেয়েছে।

সর্বোচ্চ আসন পেয়েও খুশি নন ইমরান-সমর্থকেরা
এই ফলাফলে খুশি নয় পিটিআই সমর্থকেরা। ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে দেশের নানা জায়গায় পিটিআই সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখান রোববার। ইমরান খানের সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। রাওয়ালপিন্ডি শহরে এবং পূর্ব লাহোরে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। একাধিক শহরে বিক্ষোভ দেখান ইমরান খানের সমর্থকেরা। পুলিশ আগেই সতর্ক করেছিল যে তারা বেআইনি জমায়েতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। রোববার একাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

কারাবাসে থাকায় ইমরান খানের দল পিটিআই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। তাই ইমরানের সমর্থকদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছিল। তবে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও স্বতন্ত্ররা সরকার গঠন করতে পারবে না।

পিটিআই নেতাদের দাবি, ভোট কারচুপি না হলে তারা আরো বেশি আসন পেতেন।

রোববার ইসলামাবাদের পুলিশ বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিছু ব্যক্তি নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সরকারি অফিসের আশেপাশে অবৈধ সমাবেশে উস্কানি দিচ্ছে। বেআইনি সমাবেশের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা উল্লেখ্য, জমায়েতের জন্য অনুরোধ করাও একটি অপরাধ।’

রাওয়ালপিন্ডিতেও একইরকম সতর্কতা জারি করা হয় রোববার। লাহোরের লিবার্টি মার্কেটের কাছে সঙ্ঘাত এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।

রাওয়ালপিন্ডিতে একাধিক পিটিআই সমর্থকদের জমায়েতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। নির্বাচনী অফিসে বিক্ষোভ-অবস্থান বন্ধ করার আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছিল পিটিআই সমর্থকেরা। লাহোরে প্রায় ২০০ জন পিটিআই সমর্থকের আরেকটি সমাবেশ দ্রুত ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণে করাচিতে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ এলাকা খালি করার নির্দেশ দিলেও সে কথা শোনেননি ইমরানের সমর্থকেরা।

জোটের পরিস্থিতি কী
যদিও ইমরান খানের পিটিআই এবং নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) উভয়ই নিজেদের জয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা করে। তবে বলা হচ্ছে, সরকার গড়তে জোট গঠনের জন্য সবচেয়ে ভালো সুযোগ রয়েছে পিএমএল-এনের। এরই মধ্যে জোটসঙ্গী খোঁজা শুরু করেছে দলটি।

নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষের জেরে ইন্টারনেট বন্ধ
বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে ভোটাভুটি শেষ হওয়ার ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় পরে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। এত দেরি হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল। দেশের বেশ কিছু জায়গায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া বন্ধ ছিল ইন্টারনেট সেবা।

দেশটির জাতীয় পরিষদের ২৬৬টি আসনের মধ্যে ২৬৪টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন-পূর্ববর্তী সহিংসতায় একজন প্রার্থী নিহত হলে সেই আসনের ভোট স্থগিত করা হয়। তাছাড়া নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগ ওঠায় একটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়।

ইমরান কয়েক দশক কারাবাসে?
সাবেক ক্রিকেট তারকাকে ২০২২ সালে একটি অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ১৫০টার বেশি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।

ইমরান দাবি করেন, ‘এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

দুর্নীতির দায়ে ইমরান খানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁস করার দায়ে আরো ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়াও আরেকটি মামলায় দুর্নীতির কারণে আরো ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সম্প্রতি ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবি উভয়কেই সাজা দেয়া হয়।

আদালত জানিয়েছে, তাদের বিবাহ পাকিস্তানের আইনবিরোধী। এ কারণে দুজনকে সাত বছর কারাদণ্ডে দেয়া হয়েছে।

‘ঐক্যের’ আহ্বান সেনাবাহিনীর
চূড়ান্ত ফলের আগে, পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রাজনীতিবিদদের ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ অসিম মুনির এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নির্বাচন জয়-পরাজয়ের শূন্য বা সংখ্যার কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এটা জনগণের মত নির্ধারণের একটি মহড়া।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘নৈরাজ্য ও মেরুকরণের রাজনীতি দূর করতে দেশের স্থিতিশীল হওয়া প্রয়োজন। একটি নিরাময় স্পর্শ প্রয়োজন।’

ইমরান খানের অভিযোগ, সামরিক বাহিনীকে তার বিরুদ্ধে কাজ করছে। যদিও সামরিক নেতারা সেসব দাবি অস্বীকার করেছেন।
সূত্র : ডয়চে ভেলে

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button