পশ্চিমবঙ্গে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়িতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনের লাশ উদ্ধার করতে পেরেছেন উদ্ধারকর্মীরা; আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরো ৫০ জনকে।
আহতদের মধ্যে ২৭ জনকে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল ও ১৬ জনকে ময়নাগুড়ি সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে বিভাগের উদ্ধারকারী কর্মীরা।
পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে আসামের রাজধানী গুয়াহাটির দিকে যাচ্ছিল বিকানের এক্সপ্রেস নামের এই ট্রেনটি। বিকেল ৫ টার দিকে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় দুর্ঘটনায় পড়ে সেটি।
ট্রেনের ৪-৫ টি বগি দুমড়েমুচড়ে গেছে। একটি বগির ওপর উঠে গেছে আর একটি বগি। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে, ট্রেনটির ইঞ্জিনের পর থেকে ১২টি বগি দুর্ঘটনার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৭টি বগি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে বিভাগ জানিয়েছে, ট্রেনটি ছাড়ার সময় তাতে প্রায় ৭০০ যাত্রী ছিলেন। পরে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীরা নামা-ওঠা করেন।
আনন্দবাজার বলছে, ট্রেন দুর্ঘটনার স্থানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনায় ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে যাওয়ায় অনেকেই চাপা পড়েছেন। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও ট্রেনের নিচে চাপা পড়া যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ওই এলাকার আশপাশের সব হাসপাতাল এবং অন্যান্য হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক টুইটবার্তায় জানিয়েছেন, তিনি উদ্ধারকাজের কাজের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন এবং বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক টুইটবার্তায় এই দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাজ্য সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও রেলওয়ে বিভাগকে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও আহতদের হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি তদারক করতে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আহতদের সুচিকিৎসার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
পৃথক এক টুইটবার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘রেলমন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সাথে আমি কথা বলেছি। পশ্চিমবঙ্গে ট্রেন দুর্ঘটনার নিয়ে খোঁজ নিয়েছি। শোকাহত পরিবারদের পাশে রয়েছি। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এই কামনা করি।’
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ভারতের মূল রেল দফতর রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারপার্সনকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রণালয়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ট্রেনটির ইঞ্জিনের পর থেকে ১২টি কামরা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে সাতটি কামরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই ট্রেনটি ছাড়ার সময় তাতে প্রায় ৭০০ যাত্রী ছিলেন। পরে বিভিন্ন স্টেশন থেকে যাত্রীরা নামা-ওঠা করেন।
দুর্ঘটনার পরে রেললাইনের দু’পাশে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় যাত্রীদের। অনেকে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া কামরায় আটকেও পড়েন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। গ্যাস কাটার নিয়ে এসে কামরা কেটে যাত্রীদের বার করার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আলিপুরদুয়ার থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনটি থেকে অনেকেই নিজেই বের হয়ে এসেছেন। বাকিদের উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।
জলপাইগুড়ির জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু জানিয়েছেন, আপাতত তিনজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ১০-১২ জন আহত যাত্রীকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্ধকার নেমে যাওয়ায় উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় আলো এবং জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মেডিক্যাল কলেজের দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে।
এছাড়া, ইতোমধ্যে হতাহতদের জন্য ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করেছে মন্ত্রণালয়। এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে দুর্ঘটনায় নিহতদের ৫ লাখ, গুরুতর আহতদের ১ লাখ ও আহতদের ২৫ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

Check Also

নবাবগঞ্জে শীতার্তদের পাশে প্রবাসী কল্যাণ ফান্ড

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় দুস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ …