sliderস্থানীয়

নিয়ামতপুরে একাধিকবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর নিয়ামতপুরে জমি নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে একাধিকবার আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার জমি দখলের অভিযোগ তুলেছেন একটি পক্ষ। তাদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনার পরেও প্রতিপক্ষের ক্ষমতার দাপটে নিজের জমিতেই যেতে পারছেন না তারা। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেশে জমিদার প্রথা উচ্ছেদের কিছু পূর্বে জমিদারের নিকট হতে হুকুম নামার চেক বলে করিমপুর মৌজার ১১১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি মালিকা পান পূর্বে রাজশাহী জেলা বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার লম্পট গ্রামের মৃত- সবির বক্সের ছেলে শাহজাহান মন্ডল। শাহজাহান মন্ডলের নিকট হতে অংশ মোতাবেক একই গ্রামের নইমুদ্দিনের স্ত্রী সালেহা খাতুন, বেলায়েতের পুত্র তৈমুর রহমান, মহির উদ্দিনের স্ত্রী লালমন নেছা, সাইফুদ্দিনের স্ত্রী আসমা খাতুন এবং মনির উদ্দিনের পুত্র ইজ্জত হোসেন ১২ একর ৭৭ শতাংশ সম্পত্তি ১৯৫৫ সালে ক্রয় করেন।
১৯৬২ এবং ৭২ খতিয়ান মূলে সালেহা মালিকানা পাওয়ায় সালেহার নিকট হতে ২০১১ সালে তৈমুর রহমানের ছেলে মজিবুর রহমান ১ একর ৩০ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন। মজিবুর রহমানের নিকট হতে ক্রয় করেন নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের কুড়ান বিশ^াসের ছেলে দূরুল হুদা ফটিক ৩৫ শতাংশ, জমশেদ আলীর ছেলে বাবর আলী ৭ শতাংশ, মৃত- পিয়ার আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ২০ শতাংশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ সদরের মফিউদ্দিন ৩৪ শতাংশ এবং নাচোল উপজেলার গনইর গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে আব্দুল কাদের ৩৪ শতাংশ। যা খাজনা খরিজ সম্পূর্ণ রয়েছে। বাকী অংশ কুড়ান বিশ^াস খতিয়ান মূলে বাকী অংশ ভোগ দখল করে আসছেন। অপরদিকে করিমপুর মৌজার ১১১ নম্বর খতিয়ান মূলে মালিক আসমা খাতুন এর নিকট হতে তার সম্পূর্ণ অংশ ২ একর সাড়ে ৫৫ শতাংশ সম্পত্তি উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের পৈলানপুর গ্রামের নোমন মন্ডল ১৯৬৯ সালে ক্রয় করেন। ১৯৬৯ সাল হতে আজ পর্যন্ত নোমান মন্ডলই ভোগ দখল করে রয়েছেন।

উক্ত সম্পত্তি কোন কাজজপত্র ছাড়ায় উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের খোদাবক্সের ছেলে আহাদ বক্স মালিকানা দাবী করে ২০০১ সালে আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। মামলা চলা অবস্থায় আদালত যার যার অবস্থানে থাকার নিদের্শ প্রদান করলেও আহাদ বক্স তার শক্তির বলে উক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। আহাদ বক্সের নিকট সম্পত্তির কাগজ দেখতে চাইলে তারা কোন কাগজ দেখাতে পারিনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দূরুল হুদা বলেন, আমার দাদা ১৯৫৫ সালে শাহজাহান মন্ডলের নিকট হতে করিমপুর মৌজার ১১১ নম্বর খতিয়ানের ৫৬৪, ৫৭৩, ৫৮০, ৫৯০ এবং ৫৬১ নম্বর দাগের ১২ একর ৭৭ শতাংশ সম্পত্তি কয় করে। এছাড়া আমিসহ আরো ৫ জন উক্ত সম্পত্তি ২০১১ সালে ২ একর ৫৫ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করি। সে সময় থেকে আমরা ঐ সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু করিমপুরের আহাদ বক্স খতিয়ানভুক্ত ওয়ারিশের কোন অংশদার না হওয়া সত্ত্বেও একটি মিথ্যে মামলা দায়ের করে আমাদের হয়রানী করছে। সম্প্রতি প্রায় ৭ বিঘা জমিতে গম রয়েছে। এ মূহুর্তে কাটার প্রয়োজন। কিন্ত আহাদ বক্স ও তার ওয়ারিশরা লাঠির জোরে আমাদের গম কাটতে দিচ্ছে না। বোরো ধানও লাগাতে দিচ্ছে না। যদিও আদালত পূর্বের অবস্থানে উভয় পক্ষকে থাকতে বলেছে।

নোমান আলীর নাতি মিলন বলেন, বিবাদমান সম্পত্তি আমরাই আজ পর্যন্ত ভোগদখল করে খাচ্ছি। বোন সমস্যা নেই। হঠাৎ কোথা থেকে আহাদ বক্স ভূয়া মালিক সেজে মিথ্যে মামলা দায়ের করে আমাদেরকে হয়রানী করছে। তার ছেলে বৌ, মেয়েদেরকে নিয়ে আমাদের উপর চড়াও হচ্ছে। জমিতে গেলেই আহাদ বক্স বাড়ীর মেয়ে মানুষকে দিয়ে আমাদের উপর আক্রমন করে। উক্ত সম্পত্তির উপর আমারা বাড়ী নির্মান করে বসবাস করে আসছি।
মামলার বাদী আহাদ বক্স বলেন, আমরা ১৯২০ সালের খতিয়ান মূলে আমাদের ওয়ারিশের সম্পত্তি দাবী করছি। আর সে কারণেই আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেছি। মামলায় যদি আমরা সম্পত্তি পাই তাহলে নিবো, না পেলে নিবো না। সম্পত্তি পড়ে থাক।
মামলার বাদী এস.এম শফিকুল আলম রানা অভিযোগ করেন, আমাদের ১১৭ শতাংশের একটি জমি যেটা কেনা সম্পত্তি, যার সকল বৈধ কাগজপত্র আছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button