sliderস্থানীয়

নির্মাণের দুই বছরেই খানাখন্দে ভরা মহাসড়ক

রতন ঘোষ,কটিয়াদী প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রী চালকদের পোহাতে হচ্ছে ব্যাপক ভোগান্তি। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকেই, আহত হয়ে হাত-পা হারিয়ে পঙ্গু হচ্ছেন কেউ কেউ। চলাচলে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়। সেই সময়ের ঘাটতি মেটাতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে প্রায়শই ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়াও সড়কে ছোট-বড় গর্তের ফলে প্রায়ই মালবাহী ট্রাক উল্টে রাস্তায় কিংবা খাদে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্ত ও কার্পেটিং করার জন্য একটি প্রকল্প শুরু করে কিশোরগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগ। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটির কাজের অনুমোদন পায়। ৫৬ কিলোমিটার রাস্তার জন্য দুটি প্রকল্পে প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শেষ হয় ২০২০ সালের শেষের দিকে। দুই বছর যেতে না যেতেই পড়হিসাবি কাজের ফলে কার্পেটিং উঠে রাস্তায় বড় বড় গর্ত উঁচু-নিচু ফুলে-ফেঁপে যাওয়ায় যাতায়াত অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ও কিছু কিছু স্থানে দেবে যায়। তবে মহাসড়কটি প্রশস্ত করে যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে সড়কটি যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। জোড়াতালি দিয়ে চলছে যাতায়াত ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী পৌর সদরের কামারকোনা এলাকা থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী উপজেলা বাজিতপুরের পিরিজপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। যাতায়াতে সৃষ্টি হয় কচ্ছপের গতি। যার ফলে প্রায়ই এখানকার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লেগে থাকে ছোট-বড় জ্যাম। যাত্রীদের পড়তে হয় দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তিতে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় যাত্রীবাহী তিন চাকার যান উল্টে যাওয়া, মালবাহী ট্রাক খাদে পড়ে যাওয়া, সৃষ্ট গর্তে পড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ নানা দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন যাত্রীরা। সড়কে যাতায়াতকারী চালকেরা বলছেন, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব এই আঞ্চলিক সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় পার্শ্ববর্তী সিলেট,ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মালামাল পারাপার ও যাত্রী পরিবহনে সড়কটি দিয়ে দিনরাত যান চলাচল করে। দীর্ঘদিন যাবৎ সড়কের এই বেহাল দশার ফলে তাদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। এসব ছোট-বড় গর্ত দিয়ে গাড়ি চালানোর ফলে প্রায়ই সড়কে মালবাহী গাড়ি উল্টে যায়। এ ছাড়াও ভাঙা কিংবা গর্তে পড়ে বিভিন্ন সময় তাদের যান অকেজো হয়ে পড়ে রাস্তায়।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেষ বড়ুয়া জানান, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে কটিয়াদী থেকে পিরিজপুর পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রয়েছে। সেটা মেরামত করার জন্য যে প্রোগ্রাম পিএমপি মেজর
থেকে অনুমোদিত হয়েছে, অর্থ বরাদ্দ হয়েছে এবং এটির জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ময়মনসিংহ জোন অফিস থেকে। দরপত্র বর্তমানে গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটির মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলমান আছে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার শেষে ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করার সঙ্গে সঙ্গে এই সড়কে কাজ শুরু হবে এবং জনদুর্ভোগ লাঘব হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button