sliderস্থানীয়

নিয়ামতপুরে সবুজ বোরো ধানের শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন বাম্পার ফলনের আশা

জনি আহমেদ,নিয়ামতপুর(নওগাঁ)প্রতিনিধি: বসন্তের বাতাসে ইরি বোরো ধানের সবুজ ঢেউ কৃষকের মন ভরিয়ে দিচ্ছে। ঢেউয়ের মতো দুল খাচ্ছে ধান গাছের সবুজ পাতা ও কাঁচা শীষ। এমনি কদিনের মধ্যেই শীষে দুধ-দানা গঠন শুরু হবে। আর এমন সবুজ সমুদ্রের ঢেউয়ে দুলে উঠছে প্রকৃতি। ইরি-বোরো ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। ধানের কাঁচা শীষ দেখে আনন্দে বুক ভরে উঠে কৃষকের মন। দিগন্ত জোড়া সবুজ ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো বিকশিত করে তুলেছে। অনুকূল আবহাওয়া,কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা, যথাসময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে ইরি বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। মাঠে মাঠে দোল খাওয়া নতুন ধানের নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।
নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কম জমিতে উন্নত জাতের বোরো ধান চাষ করে বেশি ফলন পেতে ব্যাপক সহায়তা করছে কৃষি বিভাগ। উন্নত জাতের বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ উপজেলার কৃষকদেরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসছে।
কদিন পরেই ধানের সবুজ চারা এবং আধাপাকা শীষ হলুদ বর্ণ ধারণ করবে। কিছুদিনের মধ্যেই সোনালী ধানের শীষে ঝলমল করবে মাঠের পর মাঠ। মাঠ ভরা ফসলের স্বপ্ন দেখে কৃষকদের চোখে মুখে ফুটবে আনন্দের ছোঁয়া। রাশি রাশি সোনালী ধানে ভরে উঠবে কৃষাণীর শূন্য গোলা। ইরি বোরো মৌসুমকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখে এ অঞ্চলের চাষীরা। এবছর বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল অনেক ভালো । সার, বীজ ও বালাইনাশক সংকট ছিল না। ফলে ফসলের মাঠ অনেক সুন্দর হয়েছে। ধানের সবল-সতেজ চারা এবং শীষ বের হয়েছে। তাই এবার ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে চলতি ইরি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে চাষাবাদকৃত ইরি-বোরো ধান গতবারের চেয়ে এবার ভালো হয়েছে। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ধান কাটা শুরু হবে। কোনো ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে বিগত বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারব। তখন পূরণ হবে কৃষকের স্বপ্ন।
নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আমীর আব্দুল্লাহ ওয়াহেদুজ্জামান জানান, ইরি বোরো ধান চাষে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় বোরো ধানের রোগবালাই কম হওয়ায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান কাটা করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button