sliderস্থানীয়

নাটোরে কলেজ শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী মামুনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরে কলেজ শিক্ষিকা খায়রুন নাহার(৪০) মৃত্যুরে ঘটনায় স্বামী মামুন হোসেনকে (২২) জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আলাদত।
নাটোরের গুরুদাসপুরে শিক্ষক খায়রুন নাহারের (৪০) মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী মামুন (২২) তাদের দাম্পত্য কলহের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার। সোমবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী মামুন তাদের দাম্পত্য কলহের কথা স্বীকার করেছেন। শনিবার দিবাগত রাত ২টায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে খাইরুনকে লাথি মেরে বাইরে চলে যান মামুন। খায়রুন নাহার বেশ কয়েকবার ফোন করলেও মামুন ফোন ধরেননি। এতে ক্ষোভে খায়রুন নাহার আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান মামুন।’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘শনিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে ভোড় ৬টা পর্যন্ত নাটোর শহরের বিভিন্ন স্থানে মামুনের ঘোরাঘুরির তথ্য পেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’
এদিকে খায়রুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী মামুন হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোসলেম উদ্দীন মামুনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে আটক মামুনকে এদিন দুপুর ১টার দিকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। নাটোর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ও কোর্ট ইন্সপেক্টর নজমূল হক সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ১৪ আগস্ট ওই শিক্ষিকার লাশ উদ্ধারের পর একই বাড়ি থেকে মামুন হোসেনকে আটক করে পুলিশ। মৃত্যুর বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, এক বছর আগে ফেসবুকে শিক্ষিকা নাহারের সঙ্গে একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র মামুনের পরিচয় হয়। পরে তাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ স¤পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরে ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের ৬ মাস পর তাদের স¤পর্ক জানাজানি হলে ছেলের পরিবার মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার থেকে বিয়ে মেনে নেয়নি। এর আগে ওই কলেজ শিক্ষিকা বিয়ে করেছিলেন রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার এক ছেলেকে। পারিবারিক কলহে সেই সংসার বেশি দিন টেকেনি। প্রথম স্বামীর ঘরে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানা যায়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিম আহম্মেদ জানান, নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খাইরুন নাহার ভালবেসে শহরের নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মামুন হোসেনকে বিয়ে করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তারা দুজন শহরের বলারিপাড়ায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। এরই এক পর্যায়ে গতকাল রোববার সকালে সেই ভাড়া বাসা থেকে খাইরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত কলেজশিক্ষকের চাচাতো ভাই ছবের উদ্দিন বাদি হয়ে গতকাল রাতে সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। মামলায় কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী মামুন হোসেনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে রোববার দুপুরে সিআইডির সুরতহালের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার স্থানীয় আবু বকর সিদ্দিকী কওমী মাদ্রাসা মাঠে জানাযা শেষে খামার নাচকৈড় কবরস্থানে দাফন স¤পন্ন করা হয়। এঘটনায় খাইরুন নাহারের চাচাতো ভাই সাবের উদ্দিন রোববার রাতে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button