sliderস্থানীয়

ধামরাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কতৃক ঠিকাদারকে নির্যাতনের অভিযোগ

সোহেল রানা : ঢাকার ধামরাইয়ে চুরির অপবাদে হাশেম আলী নামে এক ব্যক্তিকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চোর অপবাদে চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে হাশেমকে নির্যাতন করেছেন। নির্যাতনের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম শেখ।

গত মঙ্গলবার উপজেলার বড় চন্দ্রাইল এলাকায় চোর অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর করেন স্থানীয় কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ও তার লোকজন।

আহত হাশেম আলী (৩৯) কুল্লা ইউনিয়নের খাতরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাড়ি নির্মাণের কাজ করে থাকেন (ঠিকাদার)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জায়গা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফরের সঙ্গে হাশেমদের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিবাদেও জড়িয়েছেন তারা। সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন স্থানীয় আবদুল বারেকের পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ করছিলেন হাশেম আলী। মঙ্গলবার রাতে বারেক সেই কাজের জন্য হাশেমকে ১ লাখ টাকা বিল দেন। ওই বিল নিয়ে হাশেম বাড়ি ফেরার পথে, আনোয়ার হোসেন নামে একজনের বাড়িতে চুরির চেষ্টার অপবাদ দিয়ে, চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে আটকে রাখে। পরে তাকে চেয়ারম্যান লুৎফরের বাড়িতে নিয়ে মারধর করা হয়।

ভুক্তভোগী হাশেমের বড় ভাই জাহের আলী বলেন,
মারধরে হাশেমের চিৎকারে এলাকাবাসী বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের জানালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ কল করে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে হাশেমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

তিনি আরও জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চোর অপবাদ দিয়ে হাশেমকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তার পা ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের ভাড়া বাড়ির একটি কক্ষে চুরি করতে এসেছিলেন হাশেম। বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন চোর বলে চিৎকার দিলে, সে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে লোকজন তাকে আটকে মারধর করেছেন। পরে চেয়ারম্যান তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর কী হয়েছে, তা জানা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, এক বাড়িতে চুরি করতে গেলে, স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে মারধর করেছেন। পরে চৌকিদার তাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। ওসিকে বিষয়টি জানাই। পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়। আমার বাসায় তাকে মারধরের অভিযোগটি সত্য নয়। নির্যাতনের ভিডিওর ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বিতর্কিত এই চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে ধামরাই থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অসীম বিশ্বাস বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি সেবার কলে জানতে পারি, স্থানীয় চেয়ারম্যানের বাড়িতে চোর সন্দেহে একজনকে মারধর করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর চেয়ারম্যান দাবি করেন, এলাকাবাসী হাশেমকে চোর হিসেবে মারধর করেছেন। পরে দ্রুত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button