sliderশিরোনামশ্রমিক

দেশে শ্রমজীবী শিশুর সংখ্যা জানাল বিবিএস

বাংলাদেশে শিশুদের (৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী) সংখ্যা ৩ কোটি ৯ লাখ ৯৬ হাজার। এদের মধ্যে শিশুশ্রমে নিয়োজিত ৩৫ লাখ ৪০ হাজার বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে বিবিএস আয়োজিত ‘জাতীয় শিশুশ্রম ২০২২’ জরিপের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো: শহীদুজ্জামান সরকার, বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জরিপের ফোকাল পয়েন্ট অফিসার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন খাঁন।

অনুষ্ঠানে বিবিএস জানায়, শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন চুক্তি এবং কাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম নির্মূল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিশুশ্রম নির্মূলে কৌশল নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যগুলোকে সামনে রেখে জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ এবং সেক্টরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিশুশ্রম জরিপ ২০২৩ পরিকল্পনা করা হয়েছে। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ এবং সেক্টরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিশুশ্রম জরিপ ২০২৩ এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ৫-১৭ বছর বয়সী জনসংখ্যার শ্রমশক্তি, কর্মসংস্থান এবং বেকারত্বের ওপর তথ্য সংগ্রহ করা।

জরিপের ফোকাল পয়েন্ট অফিসার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন খান জানান, দেশে পরিচালিত জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ শিশুশ্রম সংশ্লিষ্ট চতুর্থ জরিপ। যা শ্রমজীবী শিশু, শিশুশ্রম এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম সংশ্লিষ্ট তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করবে। জেনেভায় ২০১৮ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আইসিএলএস ( ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অফ লেবার স্টাটিসটিসিয়ানস) সম্মেলনে গৃহীত শিশুশ্রম সম্পর্কিত পদ্ধতি অনুসরণ করে এ জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

জরিপে ১ হাজার ২৮৪টি প্রাথমিক স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) থেকে ৩০ হাজার ৮১৬টি খানা (১২টি নন-রেসপন্স খানাসহ) নির্বাচন করা হয় এবং ৬৪টি জেলা থেকে স্যাম্পল বেসিস তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই জরিপের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মে পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

তিনি আরো জানান, প্রতিবেদনে জাতীয় গণনার সাথে শ্রমজীবী শিশু, শিশুশ্রম এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের জনসংখ্যার পরিসংখ্যান বিষয়ক তথ্য রয়েছে। এই বয়সের মোট শিশু ৩ কোটি ৯ লাখ ৯৬ হাজার। এদের ৫৫ দশমিক ২ শতাংশের বয়স ৫ থেকে ১১ বছর। দেশে ২ কোটি ৭ লাখ ৬৩ হাজার খানায় ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শ্রমজীবী শিশু রয়েছে। এ বয়সীদের স্কুলে উপস্থিতির হার ৩৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

বিবিএসের জরিপে দেখা যায়, দেশে ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত শিশুশ্রমিকের সংখ্যা ১০ লাখ ৭০ হাজার। প্রতিবেদনে দেখা যায়, শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেশি।

জরিপের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গ্রামীণ এলাকায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। শহর এলাকায় এ সংখ্যা ৮ লাখ ১০ হাজার। ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় বেশি শিশুকে কাজ করতে দেখা যায়।

বিবিএস জানায়, দেশে শিশু শ্রমিকের ৮২ শতাংশ তাদের নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে। এসব শিশুর ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ উৎপাদনে এবং কৃষি, বনায়ন এবং মাছ ধরায় ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ নিযুক্ত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে শিশু শ্রমিক কর্মচারী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং স্কুলে যায় ৫২ দশমিক ২ শতাংশ। শিশু শ্রমিকদের গড় মাসিক আয় ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এছাড়াও ২০ লাখ ১০ হাজার শিশু গৃহকর্মী রয়েছে, যাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। আট লাখ শিশু রয়েছে যারা পারিশ্রমিক পায়। উভয় ক্ষেত্রেই পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। তিনটি প্রাথমিক সেক্টর কৃষি, শিল্প এবং পরিষেবা শিশু শ্রমিক নিয়োগ করে।

তাদের মধ্যে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কাজ করে ৩৮ হাজার শিশু। বিবিএস বলছে, শুটকি মাছ উৎপাদনে ৮৯৮, চামড়ার তৈরি পাদুকা তৈরিতে ৫ হাজার ২৮১, ওয়েল্ডিং বা গ্যাস বার্নার মেকানিকের কাজে ৪ হাজার ৯৯, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপে ২৪ হাজার ৯২৩ এবং অনানুষ্ঠানিক এবং স্থানীয় টেইলারিং বা পোশাক খাতে ২ হাজার ৮০৫ জন শিশু কাজ করে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button