sliderরাজনীতিশিরোনাম

দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন করার চেষ্টা হলে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য-এবি পার্টি

পতাকা ডেস্ক: রেল ট্রানজিটের নামে কৌশলে ভারতকে একতরফা করিডোর প্রদান করে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন করা হলে এবং বৈষম্যমূলক কোটা পুণপ্রবর্তনের মাধ্যমে ৭১ পূর্ব পাকিস্তানী বৈষম্য বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে যাবে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।
আজ ট্রানজিটের নামে সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্নকারী একতরফা রেল করিডোর, কোটা পুণপ্রবর্তণ বাতিল ও ডামি সরকারের পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী অবস্থান থেকে এ হুশিয়ারী জানান এবি পার্টির নেতারা। বিকেল ৪ টায় রাজধানীর বিজয় নগরস্থ বিজয়-৭১ চত্বরে প্রথমে প্রতিবাদী অবস্থান ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করে দলটি। দলের কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা’র সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্মআহবায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার। বক্তব্য রাখেন যুগ্মআহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও বিএম নাজমুল হক, সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, কেন্দ্রীয় নেতা কর্ণেল (অব.) দিদারুল আলম, সহকারী সদস্যসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেইন, যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল ও কেন্দ্রীয় সদস্য এনামুল হক প্রমূখ।


সভাপতির বক্তব্যে মেজর (অব.) মিনার বলেন; বিনা বাধায়, অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যেই সরকার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একতরফা ভাবে ভারতকে রেল করিডোর দিয়েছে। এই ডামি সরকার মুক্তিযুদ্ধের মুল চেতনা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার
লক্ষ্যকে ভুলুন্ঠিত করে, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আবার নতুন করে কোটা প্রথা চালু করতে চাইছে। যা ছাত্রসমাজের আন্দোলনের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছিলো। নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতেই এই সরকার আজিজ, বেনজিরদের মতো চোরদের জন্ম দিয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ভারতকে করিডোর দিয়ে, জনগণের সম্পদ লুটপাটকারীদের সুবিধা দিয়ে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা আরও দীর্ঘায়িত করতে চায়। তিনি বলেন ডামি সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং গণতন্ত্র উদ্ধার করে দেশকে এই ফ্যাসিবাদিদের কবল থেকে মুক্ত করতে হবে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটা সাধারণ রিক্সা ওয়ালার সাথেও আমরা ভাড়া এবং গন্তব্যস্থান নিয়ে মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে রিক্সায় চড়ি। কিন্তু ভারতের সাথে কীসের বিনিময়ে সরকার রেল, স্যাটেলাইট ও সামরিক চুক্তি করলো তা জনগণ কিছুই জানেনা। তিনি রেল ট্রানজিটের নামে কৌশলে ভারতকে একতরফা করিডোর প্রদান করে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বলেন; কানেকটিভিটি’র কথা বলে ভারত আমাদের দেশের ভেতর দিয়ে ট্রেনে করে তার এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলাচল করতে চাইলে বাংলাদেশের জনগণ কেন ভারতের মধ্যদিয়ে সড়কপথে নেপাল, ভুটান ও চীনে যাতায়াতের রাস্তা পাবেনা?
বৈষম্যমূলক কোটা পুণ:প্রবর্তনের মাধ্যমে ৭১ পূর্ব পাকিস্তানী বৈষম্য বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে যাবে বলেও তিনি সরকারকে হুশিয়ার করেন।

ব্যারিষ্টার ফুয়াদ বলেন, অতীতে আমরা দেখছি সেতু বা বড় প্রকল্পের কাজ শুরু করার সময় জাকজমক উদ্বোধনের নামে দেশের প্রচুর অর্থ অপচয় ও লুটপাট করা হয়। এবার পদ্মা সেতুর প্রকল্প সমাপনীর নাম করে সরকার নতুন উৎসব ও লুটপাটের নিয়ম চালু করেছে। যখন বৃহত্তর সিলেট ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষ বন্যায় বিপর্যস্থ সে সময় প্রকল্প সমাপনীর উৎসবে শত শত কোটি টাকা অপচয় ও লুটপাটের মাধ্যমে এই সরকার প্রমাণ করেছে জনগণ মরলে তাদের কিছু আসে যায়না। তিনি জনগণকে লুটপাটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন হত্যা করতে দেয়া যাবেনা। আওয়ামী মীরজাফর ও ঘসেটি বেগমদের আমরা কখনও ক্ষমা করবোনা।

কর্ণেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন; সব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক কেন শুধু ভারতের স্বার্থে? তিনি অভিযোগ করে বলেন; ৫৪টি নদীর উজানে ভারত যে বাঁধ দিয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের লংঘন। তিনি সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে তিস্তা নদীসহ ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার চুক্তি কই? সরকার এত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে কিন্তু সীমান্তে বাংলাদেশী জনগণকে নির্বিচার হত্যা বন্ধের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেনা কেন?

প্রতিবাদী অবস্থান ও বিক্ষোভে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব আব্দুল বাসেত মারজান, সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন, এম আমজাদ খান, হাদীউজ্জামান খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক গাজী নাসির, আব্দুল হালিম খোকন, উত্তরের সদস্যসচিব সেলিম খান, দক্ষিণের যুগ্ম সদস্যসচিব সফিউল বাসার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মশিউর রহমান মিলু, আমেনা বেগম, রুনা হোসাইন, অ্যাডভোকেট তারেক আব্দুল্লাহ, ইকবাল হোসাইন, ফেরদৌসী আক্তার অপি, তাসলিমা আক্তার রেবা, শরণ চৌধুরী, রিপন মাহমুদ, জামিল আব্দুর রব, আমান উল্লাহ সরকার রাসেল, পল্টন থানা আহবায়ক মুন্সি আব্দুল কাদের, সিএম আরিফসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button