sliderস্থানীয়

দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার শপথ নিয়েছেন মেয়র প্রার্থীরা

রংপুর ব্যুরোঃ রংপুর মহানগরী দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার শপথ নিয়েছেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীরা। 
জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে রংপুর নগরীর চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল-আমিন সুমন বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করতে সব প্রার্থীর সহযোগিতা প্রয়োজন। নির্বাচনটি উৎসবমুখর করতে প্রার্থীদের সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
সোমবার দুপুরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে তারা এই শপথ নেন। অনুষ্ঠানে নগরবাসীরাও প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশা তুলে ধরেন।
জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (লাঙ্গল), আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া (নৌকা), আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমান মিলন (হাতি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল (হাতপাখা), জাসদের শফিয়ার রহমান (মশাল), জাকের পার্টির খোরশেদ আলাম (গোলাপ ফুল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু রায়হান (ডাব), খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল (দেওয়াল ঘড়ি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান বনি (হরিণ)।
নগরীর বাসিন্দা বিলকিস বেগম বলেন, ‘মেয়র নির্বাচিত হয়ে জরাজীর্ণ শ্যামাসুন্দরী খালটি যেন সংস্কার করেন সেটি আমি চাই। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন রাস্তা সংকীর্ণ হয়েছে, সেগুলো প্রশস্ত করতে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নগরীতে খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। তাই অল্প বয়সি শিক্ষার্থীরা মাদকের দিকে ঝুঁকছে। তারা শিক্ষা থেকে দূরে সরে মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে গেছে। নগরীতে শিক্ষার্থীদের জন্য রাস্তা পারাপারের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকায় শিক্ষার মান ও জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে।’
জাতীয় পার্টির প্রার্থী সদ্য বিদায়ী মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়নের জন্য দখলদার উচ্ছেদ, ডিজিটাল সার্ভে ও পরমার্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাব। সিটি করপোরেশনের পক্ষে খেলার মাঠ তৈরি করা অনেক ব্যয়বহুল। এরপরেও আমার মেয়াদে কুকরুল ও চানকুটিতে খেলার মাঠ করেছি। নগরীর মূল সকল সড়কের কাজ হয়েছে। আগামীতে নির্বাচিত হলে যে কয়েকটি লিংক রোড রয়েছে তা পাকা করা হবে। এ ছাড়া আমার ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়ন করব।’ 
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া বলেন, ‘আমি মেয়র নির্বাচিত হলে রংপুর নগরীকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করতে কাজ করব। নগরীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব, শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়ন করা হবে। আমার ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়ন করব। আওয়ামী লীগের মার্কা নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করলে উন্নয়ন বহুগুণে বেড়ে যাবে।’
জাসদের প্রার্থী শফিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নগরী বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সকলকে সাথে নিয়ে মাদকমুক্ত নগর গড়ব। পরিকল্পিত নগর গড়তে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। আধুনিক পার্কিং ব্যবস্থা ও নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে আলাইকুড়ি, ঘাঘট, শ্যামাসুন্দরী খাল, কেডি ক্যানেলসহ ছয়টি খালের সংস্কার করব। ওয়ার্ডভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফুর রহমান মিলন বলেন, ‘আমি মেয়র হলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, কৃষিভিত্তিক আধুনিক নগরী গড়ব। নাগরিক মর্যাদাসম্পন্ন সিটি গড়ার পাশাপাশি নগরপিতাকে জবাবাদিহিতার আওতায় আনা হবে। এখন সিটিতে কর্মসংস্থান মানে অটো চালানো, তাই বেকারদের কর্মসংস্থান করা হবে। সিটি করপোরেশনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি উন্নয়ন করব।’
জাকের পার্টির প্রার্থী খোরশেদ আলাম বলেন, ‘আমি পরিকল্পিত নগরী গড়ে নগরীর সকল নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চাই। মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে নগরীর দুর্নীতি ও দুঃশাসন দূর করব। সকল নাগরিককে তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল বলেন, ‘একটি স্মার্ট নগরী গড়ার শপথ নিয়ে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমি সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলব। ধর্মীয়, রাজনৈতিক সহিংসতা দূর করতে সম্প্রতি পরিষদ গড়ে তুলব।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান বনি (হরিণ), খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল (দেয়াল ঘড়ি) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু রায়হান (ডাব) নগরীতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, নগরীর যানজট নিরসন, রাস্তার ঘাটের উন্নয়নসহ আধুনিক নগর গড়ার প্রত্যয় জানান। 
জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম জুমদার বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্যেক নাগরিক তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের আগে যাচাই করুক। এরই অংশ হিসেবে মেয়র প্রার্থীদের জনতার মুখোমুখি করা হয়েছে। জনগণ তাদের চাওয়াগুলোকে সরাসরি প্রার্থীদের কাছে তুলে ধরেছেন। পরবর্তী সময়ে যিনি নির্বাচিত হবেন, সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।’
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নয় জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৮৩ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬৮ জনসহ মোট ২৬০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৩টি ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৯ জন। আগামী ২৭ ডিসেম্বর ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনের ভোট নেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button