sliderস্থানীয়

দিরাইয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গভনিং বডির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলজ্ঞ ইউনিয়নের হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের এমপিও ভূক্তির আবেদনে প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন কর্তৃক প্রতিষ্ঠানের গভনিংবডির সভাপতির স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে গত ২০ ফেব্রæয়ারী সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক ও দিরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও কুলজ্ঞ ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ একরার হোসেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, দিরাই উপজেলার কুলজ্ঞ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের গভনিংবডির সভাপতি মোহাম্মদ একরার হোসেনের স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন(ইনডেস্ক নং-১০৬৭৯১৭) জালিয়াতি করে ২০০৩ সালের জুন মাসে হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। কিন্ত ঐ শিক্ষক হেলাল উদ্দিন তার আচার আচরণ এবং চলাফেরা পর্যবেক্ষন করার নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানের গভনিংবডির সভাপতি হিসেবে একরার হোসেন সহকারী প্রধান শিক্ষকের যোগদান সংক্রান্ত কোন সভা আহবান করা ও রেজুলেশন করা হয়নি। সে সময়কার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সদস্য সচিব তাতে কোন স্বাক্ষর ও করেননি। কিন্তু ঐ সরকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সব স্বাক্ষর ও রেজুলেশনে জালিয়াতি করে এমপিও ভূক্তির আবেদন করেছেন। এছাড়া ও ঐ শিক্ষক ইতিমধ্যে গ্রাম্য কোন্দল ও বিভিন্ন প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও য়ড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচারসহ সকল প্রকার নীতিমালা ও আচরণবিধি লংঘন করেই চলেছেন যা অসদাচরণ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। চলতি বছরের ২০২৪ সালের ৭ই মার্চ গভনিং বডির সদ্যরা মিটিং কওে এই জাল জালিয়াতির কারণে এই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছে। এই জাল জালিয়াতির বিষয়টি সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে এই নিয়ম বর্হিভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জালিয়াতিকারী সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয়।

উল্লেখ্য গত ২০২৪ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারী হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্যাডে গভনিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ একরার হোসেনের স্বাক্ষর স্ক্রেনিং করে উনার নামের নীচে ঐ শিক্ষকের মোবাইল নম্বও বসিয়ে এবং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (যার স্মারক নং-২৭/২৪)। এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভূক্তির জন্য গত ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারী জাতীয় দৈনিক সমকাল এবং দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় এবং এই বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক গত ২০২৩ সালের ২৭ মে তারিখে লিখিত,মৌখিক ও সনদ পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বর অনুযায়ী নিয়োগ কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত এবং বিদ্যালয় গভনিং বডির ২৮ মে তারিখের সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে সরকারী বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত হন। কিন্তু এই সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন,২০২৩ সালের ২১ জুন বিদ্যালয়ে কর্মে যোগদান করেন। তাহার এই্ যোগদান বিদ্যালয় গভনিং বডি কর্তৃক গত ২২ জুন ২০২৩ ইং তারিখে সভায় অনুমোদন করার জন্য সেই সময় গভনিং বডির কোন মিটিং আহবান করা হয়নি। । বিদ্যালয়ে গত ২০২৩ সালের ২১ জুন হতে প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সরকারী বেতনভাতা পাওয়ার দাবী রাখলে ও গ্রাম্য কোন্দলসহ বিভিন্ন অনিয়ম আর র্দূনীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার কারণে গভনিংবডির সদস্যরামিটিং আহবান করে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঐ বিতর্কিত সহকারী প্রধান শিক্ষককে চলতি বছরের ৭ই মার্চ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্থ করা হয়।

এ ব্যাপারে হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি মিথ্যা দাবী করেন।

এ ব্যাপারে হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের গভনিং বডির সভাপতি ও কুলজ্ঞ ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ একরার হোসেন জানান, একজন শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। এখন ঐ শিক্ষক কিভাবে আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করতে পারেন দেখে শুনে ও আমার ভাবতে অবাক লাগে। যিনি আমার স্বাক্ষর স্কজালিয়াতি করেছেন তিনি কোন সুস্থ মনের অধিকারী হতে পারেন না। এই স্বাক্ষর জালিয়াতি একটা ফৌজধারী অপরাধ। আমি শিক্ষা বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল উধর্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ঐ শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আজিজার রহমান হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্থের আবেদন পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে দেখা হবে বরখাস্থটি বিধি মোতাবেক হয়েছে কিনা হলে এবং অভিযোগটি প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button