sliderআন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

চীনা হুঁশিয়ারির মধ্যেই তাইওয়ান অবতরণ করেছেন পেলোসি

চীনা কঠোর হুঁশিয়ারির মধ্যেই তাইওয়ান অবতরণ করেছেন মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।
মঙ্গলবার রাতে পেলোসি তাইপেতে অবতরণ করেন। এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভয়াবহ সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে।
তাইওয়ানে অবতরণের পর পরই টুইটারে এক পোস্টে ন্যান্সি পেলোসি লিখেছেন, তার প্রতিনিধিদলের সফর ‘তাইওয়ানের প্রাণবন্ত গণতন্ত্রকে সমর্থন করার জন্য আমেরিকার অটুট প্রতিশ্রুতিকে সম্মানিত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘তাইওয়ানের দু’কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের সাথে আমেরিকার সংহতি আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ এবং তার সফর ‘কোনো ভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী নীতির বিরোধিতা করে না।’
ওই অঞ্চলে ‘স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের জন্য (চীনের) একতরফা প্রচেষ্টার বিরোধিতা যুক্তরাষ্ট্র করে চলেছে,’ টুইটে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে তার নিরপত্তার অজুহাতে দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপরাষ্ট্রে ঢুকে পড়েছে আমেরিকার যুদ্ধবিমানের বহর!
মঙ্গলবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন পেলোসিসহ আমেরিকার কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের সদস্যেরা। তাদের নিরাপত্তা দিতে জাপানের বিমানঘাঁটি থেকে ওড়ে আমেরিকার বিমানবাহিনীর ১৩টি ফাইটার জেটের একটি স্কোয়াড্রন। পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য চীনা হামলা থেকে হাউস স্পিকারকে রক্ষা করার জন্যই এই পদক্ষেপ।
চীনা পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হুয়া চুনইয়ং মঙ্গলবারও পেলোসির সফর নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, ‘এর বড় মূল্য দিতে হবে।’ ১৯৯৭ সালের পরে এই প্রথম আমেরিকার কোনো শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক তাইওয়ান সফরে যাচ্ছেন। আর তা নিয়েই আপত্তি তুলেছে শি জিনপিং সরকার।
চীনা পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ন গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ‘সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সমস্ত রকম পদক্ষেপ করব আমরা।’ এর পর এক ধাপ এগিয়ে চীনা প্রতিরক্ষা দফতরের মুখপাত্র ট্যান কেফেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। পেলোসির তাইওয়ান সফর সম্পর্কে কার্যত হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনা কিন্তু চুপ করে বসে থাকবে না।’ এই পরিস্থিতিতে চীন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে পেলোসির তাইওয়ান সফর কূটনৈতিক এবং সামরিক দিক থেকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু আকাশপথ নয়, পেলোসির সফরের আগে তাইওয়ানের নৌসীমার কাছে পৌঁছে গিয়েছে আমেরিকার চারটি যুদ্ধজাহাজও। এই তালিকায় রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস রোনাল্ড রেগন। সেই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ক্রুজার ইউএসএস অ্যান্টিয়েটাম, ডেস্ট্রয়ার গোত্রের রণতরী ইউএসএস হিগিন্‌স এবং দ্রুত সেনা অবতরণের উপযোগী রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলিও দক্ষিণ চীন সাগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

পেলোসির সফরের সময়ই তাইওয়ানের আকাশসীমায় ২০ চীনা যুদ্ধবিমান

রাজধানী তাইপেইয়ের সোংশান বিমানবন্দরে তখন অবতরণ করতে চলেছে মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বিমান। হঠাৎই চীন সাগরের দ্বীপরাষ্ট্রের পূর্ব সীমান্তে চীনা বিমানবাহিনীর প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়ে!
আমেরিকার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসের স্পিকার এবং সঙ্গীদের সফর শুরুর আগেই তাইওয়ানের আকাশসীমায় অন্তত ২০টিরও বেশি চীনা ফাইটার জেট অনুপ্রবেশ করে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে আদতে সামরিক অভিযান শুরুর বার্তা দিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
পেলোসির সফরের সময় বেইজিং যে তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে পারে আমেরিকার সামরিক সূত্রে তার আঁচ মিলেছিল। মঙ্গলবার রাতে পেলোসিরা মালয়েশিয়া থেকে তাইপেইয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়ার পরেই তাদের নিরাপত্তা দিতে জাপানের বিমানঘাঁটি থেকে তাইওয়ানে উড়ে এসেছিল আমেরিকার বিমানবাহিনীর ১৩টি ফাইটার জেটের একটি স্কোয়াড্রন।
পেলোসি এবং আমেরিকার কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোশেফ য়ুসহ অন্য সরকারি প্রতিনিধিরা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, বিমানবন্দরের প্রায় অন্ধকার রানওয়েতে টর্চের আলোয় হেঁটে যাচ্ছেন পেলোসিরা। এ বার প্রশ্ন উঠেছে, চীনা বিমান হামলার আশঙ্কাতেই কী বিমানবন্দরের অনেক আলো নিভিয়ে ফেলা হয়েছিল?
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

তাইওয়ানে সামরিক অভিযানের ঘোষণা চীনের

দফায় দফায় হুঁশিয়ারি দেয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরকে মোটেই সহজভাবে নেয়নি চীন। ন্যান্সির সফরের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানে সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উইউ কিয়ান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
উইউ কিয়ান বলেন, ‘চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং তারা সামরিক অভিযানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা তাইওয়ানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালাব।’
তিনি বলেন, ‘চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষা, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার নামে আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বহিরাগত শক্তির অযাচিত নাক গলানোর জবাব হিসেবে পরিচালিত হবে এ অভিযান।’
মঙ্গলবার রাতে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে পৌঁছান ন্যান্সি পেলাসি। ১৯৯৭ সালের পর এটি কোনো মার্কিন শীর্ষ রাজনীতিকের তাইওয়ান সফর।
পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ সফর করতে সোমবার ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন পেলোসি। এই সফরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান সফরের সূচি ছিল তার।
তবে তিনি ওয়াশিংটন ছাড়ার আগেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে চাউর হয়ে যায়- চলতি এ সফরে তাইওয়ানেও যাবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ানের আসতে পারেন- আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর সোমবারই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দেয় চীনের সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান সোমবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যদি পেলোসি সত্যিই তাইওয়ান সফরে আসেন, তাহলে তার পরিণতি খুবই গুরুতর হবে।
চীনের সেনাবাহিনী এক্ষেত্রে ‘চুপচাপ অলসভাবে বসে থাকবে না’ বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লিজিয়ান।
চীনের এই হুঁশিয়ারির জবাবে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা জন কিরবি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পেলোসির (তাইওয়ানে) যাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র চীনের হুমকিকে ভয় পায় না। যদিও পেলোসি তাইওয়ানে যাবেন কিনা তা নিশ্চিত করেননি তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনও মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘স্পিকার তাইওয়ানে সফর করবেন কিনা তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর।’
কিন্তু চীনের দফায় দফায় হুঁশিয়ারিকে আমলে না নিয়ে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে তাইপের বিমানবন্দরে অবতরণ করে ন্যান্সিকে বহনকারী উড়োজাহাজ। তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ নিজে উপস্থিত থেকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান ন্যান্সি পেলোসিকে।
ন্যান্সি তাইওয়ানে পৌঁছানোর কিছু সময় পরই সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিল চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
সূত্র: এএফপি

Related Articles

Back to top button