sliderস্থানীয়

ঘোড়ার প্রতি মানবিক হতে উপজেলা প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

এ আর লিমন,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : নদ-নদী বিধৌত কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি। জেলার বিভিন্ন চরে কয়েক শ’ পরিবার ঘোড়া পালন ও ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। চরাঞ্চলের এসব ঘোড়া ও তাদের মালিকদের নিয়ে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (৬ মার্চ) জেলা সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নে ঘোড়া লালন-পালন, খাদ্যাভাস, রোগবালাই এবং ঘোড়ার প্রতি নিষ্ঠুরতা পরিহার নিয়ে ঘোড়ার মালিক ও গাড়ি চালকদের সঙ্গে সচেতনতামূলক এক সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় শতাধিক ঘোড়ার গাড়ির চালক ও তাদের পালিত ঘোড়ার জন্য খাদ্য সহায়তা দেয় উপজেলা প্রশাসন। সভায় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুসফিকুল আলম হালিম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এআরএম আল মামুন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফিজানুর রহমান ও যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় প্রায় সাত শতাধিক ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে। ঘোড়ার সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। পণ্য পরিবহনে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার দিন দিন বেড়ে চলছে। গৃহপালিত এই প্রাণীটি পণ্য পরিবহন ছাড়াও জমি চাষ ও প্রতিযোগিতায় ব্যবহার হচ্ছে। ফলে এর প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া আবশ্যক। ঘোড়ার মালিক ও গাড়ি চালকরা যাতে ঘোড়ার প্রতি মানবিক আচরণ করেন, নিয়মিত সুষম খাদ্যসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন সেজন্য উপজেলা প্রশাসন এই সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করেছে।

ঘোড়ার প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা অবহিত করা হয় মালিকদের ঘোড়ার গাড়ি চালক আমিনুল ও মোন্নাফ মণ্ডল জানান, ঘোড়া পালন করলেও ঘোড়া সম্পর্কে তারা তেমন কিছু জানতেন না। ঘোড়া নিয়ে এমন আয়োজন কখনও তারা দেখেননি। উপজেলা প্রশাসনের এমন আয়োজনে ঘোড়ার খাবার, রোগবালাই, চিকিৎসা ও নিয়মিত যত্ন নিয়ে তারা অনেক বিষয় জানতে পেরেছেন। ঘোড়া নিয়ে তারা যে জ্ঞান অর্জন করেছেন তা আগামীতে তাদের অনেক কাজে দেবে।

আমিনুল বলেন, ‘আমি প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে ঘোড়া পালন করি। বর্তমানে আমার চারটি ঘোড়া ও দুটি গাড়ি আছে। আমার জীবনে ঘোড়া নিয়ে এমন আয়োজন কখনও দেখি নাই। আমাদের উপকার হইছে। তারা (আয়োজক) যে পরামর্শ দিয়েছেন তাতে আমাদের ম্যালা অভিজ্ঞতা হইছে। তারা বললো, আমরা শুনলাম। এখন থেকে তাদের দেওয়া পরামর্শ মোতাবেক ঘোড়া লালন-পালন করবো। গাড়িতে বেশি লোড দিবো না। ঘোড়াকে কষ্ট দিবো না, বাড়তি যত্ন নিব। আমাদের সবার একই মত।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এআরএম আল মামুন বলেন, ‘ঘোড়া নিয়ে এমন আয়োজন মূলত ইউএনও মহোদয়ের। ঘোড়ার গাড়ি চালকরা মূলত ঘোড়াকে একটি ইঞ্জিন মনে করেন। অতিরিক্ত মালামাল বহন করতে তারা ঘোড়ার সামর্থ্য ও কষ্ট আমলে নেন না। আমরা সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। ঘোড়ার কিছু সাধারণ রোগ বালাই ও নিয়মিত যত্ন সম্পর্কে তাদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। এ ছাড়াও ঘোড়ার রোগ চিকিৎসার আমাদের স্মরণাপন্ন হতে তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে।’

ঘোড়া নিয়ে এমন উদ্যোগ প্রসঙ্গে ইউএনও মুসফিকুল আলম হালিম বলেন, ‘উপজেলায় ঘোড়া ও ঘোড়া পালনকারীদের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য, ঘোড়ার প্রতি মানবিক আচরণ। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে ঘোড়াকে রক্ষা ও আক্রান্ত ঘোড়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এ ছাড়াও গাড়ি টানতে যে লোহার শ্যাফট ব্যবহার করা হয় তাতে ঘোড়ার ঘাড়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এতে প্রাণীটি অনেক কষ্ট পায়। আমরা বিনামূল্যে লোহার শ্যাফটে ফোম ও চামড়া লাগিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। ঘোড়ার মালিক ও গাড়ি চালকদের এই বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন করার জন্য আমাদের এই আয়োজন ছিল।’

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button