sliderস্থানীয়

ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারীর দুর্নীতি তদন্তে কমিটি

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব দুর্নীতি ও অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগ কপিতে স্থানীয় সাংসদ এ এম নাঈমুর রহমান দূর্জয় গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সুপারিশ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয় থেকে টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগের পর তদন্ত দল গত ১৩ জুলাই সরেজমিনে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্হার কথা জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এমএলএসএস পদ থেকে অফিস সহকারী এবং কিছুদিন পরেই ২০১৮ সালে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রধান অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন আবুল কালাম আজাদ। যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই তিনি অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ ও মহিলা কর্মচারীদের কাছ থেকে মাতৃকালীন ছুটির জন্য টাকা আদায় করেন। এরপর হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন, আনুতোষিক ভাতা ও অন্যান্য বিলের টাকা উত্তোলন করতে গেলে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কমিশন বাবদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ই.পি.আই কর্মী রফিকুল ইসলাম জানান, এম.আর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে উপজেলায় ৩১ হাজারের ওপরে শিশু-কিশোরদের হাম ও রুবেলা রোগের টিকা প্রদান করা হয়। এই কাজের জন্য বাইরে থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়ে কাজ করানো হয়। এই প্রকল্পের ৫০ হাজার টাকা কেটে নিয়েছেন প্রধান অফিস সহকারী আবুল কালাম আজাদ। ই.পি.আই খাতের পরিবহন ও আনুষঙ্গিক বিল ৪৫০ টাকা হারে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও কর্মীদের দেওয়া হয় ১০০ টাকা করে। বাকি টাকা আবুল কালাম আত্মসাৎ করেন।
অবসরপ্রাপ্ত সেনেটারি ইন্সপেক্টর মো. শহিদুল ইসলাম জানান, অবসরে যাওয়ার পর পেনশনের টাকা উত্তোলনের জন্য আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর পেনশনের কাজগপত্র গুছিয়ে দেওয়ার নাম করে নানা অজুহাতে ১ লাখ টাকা দাবি করেন আবুল কালাম আজাদ। বারবার অনুরোধ করার পরও কাজ হয় না। পরে বাধ্য হয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে পেনশনের কাজটি করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, প্রধান অফিস সহকারীর সীমাহীন দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সবাই অতিষ্ঠ। কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এক অঘোষিত শক্তিশালী খুঁটির জোরে তিনি অপকর্ম করেও পার পেয়ে যান।
এ বিষয়ে প্রধান অফিস সহকারী আবুল কালাম আজাদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভালো কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ এসব অভিযোগ করছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা বের হবে।
ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসিব আহসান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button