
মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: নলছিটিতে গোপনে এক গৃহবধূর গোসলের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ‘নলছিটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে’-এর ল্যাব সহকারী মো: জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার তিমিরকাটি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত মো: জাহিদুল ইসলাম (৩৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।
অভিযোগে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৭ জুন জাহিদুল ইসলাম প্রতিবেশী এক বিবাহিত নারীর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক জাহিদুল। শুধু অর্থ হাতিয়ে নিয়েই থামেননি। ভিডিওর ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে একাধিকবার ধর্ষণও করেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে ওই নারীকে বাড়িতে একা পেয়ে আবারো ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় নলছিটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেলে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিমিরকাঠি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। জাহিদুল ইসলাম তিমিরকাঠি গ্রামের হারুন অর রশিদ তালুকদারের ছেলে।
ভুক্তভোগী ওই নারী নলছিটি থানায় দায়ের করা এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, তার স্বামী ব্যবসার কাজে ঢাকায় থাকায় তিনি সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন। ২০২০ সালের ১৭ জুন দুপুরে বাড়ির গোসলখানায় গোসলের সময় প্রতিবেশী জাহিদুল ইসলাম গোপনে সেই গোসলের ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে নগদ আড়াই লাখ টাকা ও প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেন। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাহিদুল কৌশলে ওই নারীকে বরিশালে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেন। কয়েক মাস পর পরিস্থিতির চাপে ভুক্তভোগী ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এরপরও অভিযুক্ত বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ। সর্বশেষ গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং এ ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোঃ জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার তিমিরকাটি গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে সে ঘটনার সততা স্বীকার করে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
নলছিটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান আকন্দ জানান, অভিযুক্ত ল্যাব অপারেটরকে বিধি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



