sliderরাজনীতিশিরোনাম

গণতন্ত্র ও সুশাসন ছাড়া আইএমএফ ঋণ দেশের কাজে লাগবেনা-এবি পার্টি

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির নেতারা বলেছেন,গণতন্ত্র ও সুশাসন ছাড়া আইএমএফ ঋণ দেশের কাজে লাগবেনা, শুধুমাত্র ‘দুর্নীতিবাজদের বেইল আউট’করবে।

৪৫০ কোটি ডলার ঋণ সহযোগীতার প্যাকেজ আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের ঢাকায় আগমন উপলক্ষে এবি পার্টি আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, গত নভেম্বরে আইএমএফ প্রস্তাবিত ১৭ দফা আর্থিক খাতের সংস্কারের কোন অর্থবোধক উদ্যোগ সরকার নেয়নি। বরং ব্যাংক খাতে উদ্বেগজনক হরিলুট জাতি প্রত্যক্ষ করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায়, দৃশ্যমান ও অর্থবোধক সংস্কার না করার আগেই ঋণ পেলে সেটা দেশের বিশ কোটি মানুষের কোন উপকারে আসবে না, বরং এই টাকা বিভিন্ন সিন্ডিকেটের হাত ধরে বিদেশে পাচার হবার আশংকাই বেশী।
১৫ জানুয়ারী ২০২৩ রবিবার বিকেলে আয়োজিত এবি পার্টির ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন দলের আহবায়ক, অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এএফএম সোলায়মান চৌধুরী। দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের পরিচালনায় এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন ও অর্থনীতি বিষয়ক লেখক এবং জার্মান ফেডারেল শিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প গবেষক জিয়া হাসান এবং প্রকৌশলী, রাজনীতি বিশ্লেষক ও টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রতিনিধি বাংলাদেশ ভ্রমণ উপলক্ষে এবি পার্টির দলীয় বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৬-এ মধ্যম আয়ের দেশ হবার যে চ্যালেন্জ সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে, তার কোন প্রস্তুতি হাতে যেমন নেই, মৌলিক পরিকল্পনাও নেই। বরং আর্থিক সংকট আরো ঘনীভূত হবার কারনে সরকারকে যেমন মিথ্যাচারের আশ্রয় নিতে হচ্ছে, তেমনি দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ বিভিন্ন মহাজনদের কাছে ধর্না দিতে হচ্ছে যা সরকারের প্রতিদিনের উন্নয়নের গালগল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন নয়।
জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তা ইতিমধ্যেই ব্যবসা ও শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে শংকায় ফেলে দিয়েছে। হিসেবছাড়া মূল্যস্ফিতি প্রতিদিনকার জীবন যাপনকে দূর্বিসহ করে তুলেছে। ডলার সংকটের এই সময়ে বিদেশে অর্থপাচার বন্ধ করবার কোন উদ্যোগ নেই। তাই নির্বাচনপূর্ব বছরে অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে কোন অর্থবোধক সংস্কার হাতে নেয়া সম্ভব হবে না বলে মনে করে এবি পার্টি। আর জবাবদিহিতাহীন সরকার সংস্কার যাও করবে তা দেশের সাধারন মানুষের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেবার মত এক বিপর্যয় হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকদফা জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সরকারের ঋণ কমানোর ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়ে জনজীবন দূর্বিসহ করবার ক্ষমতাসীনদের পায়তারা দেশবাসীর নজরে এসেছে।
জিয়া হাসান বলেন, গত তিন চার বছর থেকেই আমরা আসন্ন ও চলমান অর্থনৈতিক সংকট, তার ধরন, মাত্রা, ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলেছি, লিখেছি কিন্তু সরকার তাতে মোটেই নজর দেয়নি বরং তাদের অসত্য বয়ান অব্যাহত রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বিপর্যয়, ডলার সংকট, ঋণপত্রের দায় মেটাতে না পারার বিপদ বারবার দেখানোর চেষ্টা করে বুঝানোর চেষ্টা করেছি যে, চলমান লুটপাটের উন্নয়নের ধারা দেশকে ব্যাপক ও এমন এক জটিল সংকটে ফেলবে যা কয়েক যুগের জন্য আমাদের সত্যিকার প্রবৃদ্ধিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিবে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এই সরকারের আমলে আমাদের ঋণ বেড়েছে প্রায় চারগুন। বেকারত্বের সংখ্যা ইতিহাসের সবোর্চ্চ স্তরে অবস্থান করছে। কিন্তু উদ্যোক্তা সৃষ্টি বা চাকুরীর বাজার তৈরীর কোন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেই বর্তমান সরকারের। কুইক রেন্টালের নামে যে ভয়াভহ লুটপাট হয়েছে, তার তদন্ত না করেই নতুন করে কয়েকগুন বেশী মূল্যে ডলারে সোলার বিদ্যুৎ উপাদানের চুক্তি করা হয়েছে; এটা লুটেরাদের জন্য টাকা পাচারের আরেক উর্বর খাত হবে। বিপরীতে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনবার কোন উদ্যোগ নেই।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এবং এবি পার্টির আহবায়ক ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, সরকার যদি এখনই আর্থিক খাতে সংস্কার শুরু না করে তাহলে সাধারন জনগনের জীবন আরো দূর্বিসহ হয়ে উঠবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বাড়তি চাপ মধ্য ও নিম্নবিত্তের জীবনকে কঠিনতর করে ফেলেছে। যেখানে দেশজ পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়েই চলছে, সেখানে অধিকতর রাজস্ব ও ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর অন্যায় চাপ দেয়া হচ্ছে। যা বাস্তবে আদায়যোগ্য এবং কাম্য নয়।
ওয়েবিনারে আরও অংশ নেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক প্রতিনিধি প্রফেসর ডা. মোজাহেরুল হক, এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার ও অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, দলের অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ প্রমূখ।
দলের সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু সকলকে ধন্যবাদ দিয়ে ওয়েবিনার সমাপ্ত ঘোষনা করেন।

Related Articles

Back to top button