sliderরাজনীতিশিরোনাম

গণতন্ত্রের কথা বলে আওয়ামীলীগ দেশে লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছে-এবি পার্টি

পতাকা ডেস্ক: পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর ও সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদকে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং তাদের লুটকরা অর্থ উদ্ধার করে ঘুর্ণিদুর্গতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি। আজ বিকেলে রাজধানীর পল্টন-বিজয়নগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। তারা বলেন; আওয়ামীলীগ মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী প্রধান শক্তি। কথায় কথায় গণতন্ত্রের বুলি আওড়িয়ে তারা দেশে একব্যক্তির শাসন ও লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছে।

বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগে বিজয়নগরস্থ বিজয়-৭১ চত্ত্বরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন
এবি পার্টির আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী। দলের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা’র সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব আব্দুল বাসেত মারজান, মহানগর উত্তরের আহবায়ক আলতাফ হোসাইন, সহকারী সদস্য সচিব এম আমজাদ খান, যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, সহকারী সদস্য সচিব শাহ আব্দুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ফারুক, ছাত্রপক্ষের আহবায়ক মোহাম্মদ প্রিন্স ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সেলিম খান প্রমূখ।

সভাপতির বক্তব্যে সোলায়মান চৌধুরী বলেন; সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহম্মেদ পদে থেকে অপরাধ করেছেন তাকে সেনা আইন ও ফৌজদারী দুই আইনেই বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি বেনজীর আহমেদের শুদ্ধাচার সনদ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন অশুদ্ধ ও রং হেডেড সরকার প্রধানের পক্ষেই এরকম চরম দুর্নীতিগ্রস্ত লোককে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেয়া সম্ভব। তিনি প্রতিবছর ৩১ শে জুলাইয়ের মধ্যে মন্ত্রী, এমপি, সকল বাহিনী প্রধান, আমলা, শীর্ষ ব্যাবসায়ী ও শিল্পপতির সম্পদের তালিকা শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা জাতীয় রাজস্ববোর্ডের এখতিয়ারে রাখার দাবি জানান।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন; আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের একসময় বলেছিলেন বেনজীর-আজিজ কোন দুর্নীতি করেনি এগুলো সব মিথ্যা গুজব। আর এখন তিনি বলছেন দূর্নীতির দায়ে বেনজীর-আজিজের বিচার করা হবে। ওবায়দুল কাদের যখন একথা বলছেন তাহলে বুঝতে হবে এর আড়ালে অনেক বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। তিনি প্রতিবছর উপকূল বেড়ীবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের নিন্দা জানিয়ে বলেন একটু শক্তিশালী ঝড় ও জোয়ার আসলেই বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যাওয়া থেকে প্রমাণ হয় সরকার গরীব উপকূলীয় জনগণের জানমালের বিষয়ে কোন দায় বোধ করেনা। তিনি লুটেরা সরকারের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন; গত ১৬ বছরে আওয়ামীলীগ সরকার কয়েক হাজার বেনজীর ও আজিজ তৈরী করেছে। এদেরকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুযোগ দিয়ে তার বিনিময়ে এদের কাছ থেকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ সার্ভিস নিয়েছে সরকার। ফলে দেশের সর্বক্ষেত্রে আজ হাহাকার। তিনি ৮ হাজার ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তি ও অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা লোপাটের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন; আওয়ামীলীগ মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী প্রধান শক্তি। কথায় কথায় গণতন্ত্রের বুলি আওড়িয়ে তারা দেশে একব্যক্তির শাসন ও লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছে। তিনি অবিলম্বে সাবেক আইজি বেনজীর ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদকে গ্রেফতার এবং তাদের লুটকরা অর্থ উদ্ধার করে ঘুর্ণিদুর্গতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান।

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঘূর্ণিঝড় রিমেলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন; দেশে আবহাওয়ার এত আগাম সতর্কীকরণ সত্ত্বেও প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ে কেন এত জান মালের ক্ষতি হয় তার কারণ জানতে হবে। দেশের দক্ষিণ উপকূলের জেলাগুলোতে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের যে ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক প্রচারে সরকার বাধা দিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন; এই সরকার বেনজীর-আজিজ ও আনারের ঘটনা সামনে এনে দেশের মেহনতী মানুষের ক্ষতির গল্পগুলো ঢেকে রাখছে।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে তা সেগুনবাগিচা, কাকরাইল, নয়াপল্টন, বিজয়নগর ও পল্টনসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বিক্ষোভে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সহকারী সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, মেহেদী হাসান চৌধুরী পলাশ, য়ুব পার্টির সদস্য সচিব হাদিউজ্জামান খোকন, এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক গাজী নাসির, যুগ্ম সদস্য সচিব সফিউল বাসার, আহমেদ বারকাজ নাসির, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, যুব পার্টি মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব শাহিনুর আক্তার শীলা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিপন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট সরন চৌধুরী, নারী নেত্রী আমেনা বেগম, ফেরদৌসী আক্তার অপি, যুব নেতা মাহমুদ আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক, মশিউর রহমান মিলু, যাত্রাবাড়ী থানা সমন্বয়ক সিএমএইচ আরিফ, যুব নেতা মিজানুর রহমান, মাসুদ আহমেদ, শরীফ হোসেন, মইন উদ্দিন, নাসির উদ্দিন গালিব, পল্টন থানা সদস্য সচিব আব্দুল ওয়াদুদ মোল্লা রনিসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button