sliderস্থানীয়

কোম্পানীগঞ্জে চেয়ারম্যানের সঙ্গে নারী ইউপি সদস্যকে জড়িয়ে আপত্তিকর মন্তব্য

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ৭নং মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.আইয়ুব আলীর সঙ্গে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আয়েশা আক্তারকে জড়িয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে উঠেছে ইউপি সদস্য আহছান উল্যাহ ভুট্রোর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হট্রগোল তৈরী হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে
গত মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ৭নং মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে মৌখিক ভাবে অভিযোগ দিয়েছেন সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আয়েশা আক্তারের স্বামী একই ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন বাবলু। এলাকার সুন্দর পরিবেশ ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আয়েশা আক্তারের ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। পরে এ বিষয়ে তার স্বামী মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন বাবলু কথা বলেন। ভুক্তভোগী নারী সদস্যের স্বামীর বক্তব্য এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
বাবলু বলেন, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আহছান উল্যাহ ভুট্রো গত ২০-২৫ দিন ধরে মিথ্যা কথা অপপ্রচার করছে। যেটা বলেছে সেটা আমি চেয়ারম্যানের সামনে প্রমাণ করে দিয়েছি। সে আমার স্ত্রী (মহিলা মেম্বার) কে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আজেবাজে কথা বলেছে। সে তার সহযোগী অন্যান্য মেম্বারের কাছেও বলেছে। তখন একজন মেম্বার স্বাক্ষী দিয়েছে যে সে এসব কথা বলেছে। তারপর বাজারের একজন ব্যবসায়ী ইউনিয়ন পরিষদে এসে স্বাক্ষী দিয়েছে যে সে এসব কথা বলেছে। এটা নিয়ে উচ্চ বাচ্য হয়েছে। তবে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। ইউপি সদস্য ভুট্রো চেয়ারম্যান মো.আইয়ুব আলীর সঙ্গে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আয়েশা আক্তারকে জড়িয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়াচ্ছে। যা গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে প্রমাণিত হয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এটা নিয়ে আমি যখন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আহছান উল্যাহ ভুট্রোকে অপমান করলে উচ্চ বাচ্য হয়। কিন্তু কোন হামলা বা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেনি।
বাবলু অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে প্যানেল চেয়ারম্যান করার একটা নিয়ম আছে। চেয়ারম্যান প্রথম মিটিংয়ে একটি প্যানেল গঠন করেন। তার মধ্যে তিনজনকে প্যানেল চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তার মধ্যে একজন হচ্ছে, আমার স্ত্রী। আমাদের এখানে কিছু দিন আগে ভোটার হলো। তারপরে স্টুডেন্টদের ইউনিট আইডি। আবার ৭নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৩০০-৪০০ জেলে এসছে তাদের চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট লাগবে। তখন চেয়ারম্যান বললো তিনজন প্যানেল চেয়ারম্যানসহ স্বাক্ষর করলে মানুষ দ্রুত চলে যেতে পারবে। পরে চেয়ারম্যান একজন গ্রাম পুলিশকে ডেকে বলেন চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট মহিলা প্যানেল চেয়ারম্যান সহ তিনজনের মধ্যে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য ভাগ করে দাও। তখন মহিলা মেম্বার সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করলে প্যানেল চেয়ারম্যান ভুট্রো মেম্বার এটা নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তখনই উচ্চ বাচ্য করে। এটাতে নাকি তার সম্মান নষ্ট হয়ে গেছে।
অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, সেই থেকে ভুট্রো মেম্বার চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে মহিলা মেম্বারকে জড়িয়ে নানা কথা বার্তা বলতেছে। আমরা প্রমাণ করতে পারতেছিনা। শেষ পর্যন্ত যখন প্রমাণ পেলাম। তখন গত মঙ্গলবার ভুট্রো মেম্বারকে ধরলাম। পরে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ মোহাম্মদ রাসেল ও বাংলা বাজারের একজন ব্যবসায়ী স্বাক্ষী দিয়েছে। একাধিক স্বাক্ষী প্রমাণে এটা প্রমাণিত হয়েছে। চেয়ারম্যানকে আমি বলার পর চেয়ারম্যান ভুট্রো মেম্বারকে ডেকে নেন। আর যারা যারা শুনেছে তাদেরকে ডাকেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান অভিযুক্ত ভুট্রো মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বলেও জানান মহিলা মেম্বারের স্বামী বাবলু।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ভুট্রোর বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি ইউপি চেয়ারম্যান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আহছান উল্যাহ ভুট্রোর অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন,এ রকম কোন ঘটনা এখানে ঘটেনি। নারী সদস্যদের স্বামীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে বলেছে সে জানে, আমি জানিনা। আমি কোন কথা বলিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, আমরা রাজনীতি করি আমাদের বিরুদ্ধে অনেক কথা আসে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button