sliderস্থানীয়

কে হচ্ছেন চিরিরবন্দর উপজেলার অভিভাবক?

পি.কে রায়, চিরিরবন্দর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় জমে উঠেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
সর্বত্রই চলছে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ও চুলচেড়া বিশ্লেষণ। গ্রামে, গঞ্জে, হাটেঘাটে এমনকি চায়ের দোকানেও এ নিয়ে ভোটারদের মাঝে আগ্রহের কমতি নেই। চলছে আশাবাদি হিসাব নিকাশ।
সকল প্রভাবশালী প্রার্থীই বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদি। তাহলে কে হচ্ছে চিরিরবন্দর উপজেলার নতুন অভিভাবক?
এমন অনেক প্রশ্নই উপজেলার কর্মী, সমর্থক, ভোটারদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ মে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন বাড়ছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও দৌড়ঝাঁপ।
যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দোয়াত কলম,হেলিকাপ্টার, আনারস, মোটর সাইকেল ও ঘোড়া প্রতিকের প্রভাবশালী প্রার্থীরা রাতকে দিন আর দিনকে রাত মনে করে উপজেলার এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন। নেতাকর্মীদের সরব পদচারণায় চিরিরবন্দর উপজেলা এখন উৎসব মুখর নির্বাচনী পরিবেশ। তবে অনেক সাধারণ ভোটারদের মাঝে চাপা নিরবতা উপলব্ধি করা গেছে।

২৯মে চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিরিরবন্দর উপজেলা সভাপতি সুনীল কুমার সাহা (দোয়াত কলম) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিরিরবন্দর উপজেলা সহ-সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী জ্যোতিষ চন্দ্র রায় (মটর সাইকেল), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিরিরবন্দর উপজেলা যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান ফিজার (ঘোড়া), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিরিরবন্দর উপজেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি জেলা শাখার সভাপতি ও খোচনা এসসি উচ্চ ও কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুল হক মুকুল (হেলিকাপ্টার) এবং সাইতাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো.মোকারম হোসেন (আনারস)।

এছাড়াও রয়েছে ৩জন ভাইস চেয়ারম্যান সুমন দাস (কারেন্ট বাল্ব) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (মাইক), জামাল উদ্দীন মুহুরী (তালা) এবং সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৪জন প্রার্থী বর্তমান সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোছা লায়লা বানু (প্রজাপতি) সাবেক সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী মহিলা লীগ উপজেলা শাখার সভাপতি তরু বালা রায় (কলস), পুর্নিমা রানী মহন্ত ছবি (পদ্দফুল) ও ওয়াজিদা খাতুন বেবী (বল)।

বুধবার (২২মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অলিগলি রাস্তার মোড়,চায়ের স্টোলে লোক সমাগম বেশি। নিশি রাতেও পাড়া মহল্লায় প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের আনাগোনা। চলছে সাউন্ড সিস্টেম,মাইক বাজিয়ে প্রচার প্রচারণা। বিরামহীন সময় পার করছেন তারা। প্রার্থীদের নির্বাচনী ফেস্টুন, লিফলেট,পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে উপজেলার সবকটি এলাকা। দমে নেই কর্মী সমর্থকরা। মিছিল, মিটিং বক্তব্যের বুলিতে নিজ প্রার্থীগণের পক্ষে জয়গান করছেন তারা।ভোটাররাও নির্বিঘ্নে তাদের সত্য মিথ্যা কথার শ্রোতা হচ্ছেন।

কয়েকজন ভোটার জানান, “প্রার্থীরা তাদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রতিদিন প্রার্থীদের ডাকে রাতের ঘুম তাদের হারাম হচ্ছে। নির্বাচিত হলে প্রার্থীরা এলাকার সব রকম উন্নয়ন ও সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিচ্ছেন”।
একজন ভোটার বলেন, “নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা ভোট চাইতে আসেন। হাতে পাঁয়ে ধরেন, মাথায় হাত বুলায় কিন্তু ভোট চলে গেলে এসব নেতাদের আর পাত্তা পাওয়া যায়না। তাঁদের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা বলা সম্ভব হয় না”।
অপর এক ভোটার বলেন, “যে প্রার্থী আমাদের খোঁজখবর নিবেন, এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন, আমরা তাকেই ভোট দেব”।
ভোটাররা আরো বলেন, “প্রার্থীদের মধ্যে যাকে উপজেলার অভিভাবক হিসাবে নিরাপদ মনে হবে আমরা তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চাই”।
বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী “দোয়াত কলম” প্রতিকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ চিরিরবন্দর উপজেলা শাখার সভাপতি সুনীল কুমার সাহা তার বক্তব্যে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন তেতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলাম এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরে যেভাবে মানুষের পাশে থেকেছি। জনগণের সুখ দুঃখের ভাগিদার হয়েছি। গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থ মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি মহোদয়ের হাত ধরে চিরিরবন্দর উপজেলার যে উন্নয়ন করেছি সেই উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতেই জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবেন”।

বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী “হেলিকাপ্টার” প্রতিকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ চিরিরবন্দর উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি জেলা শাখার সভাপতি ও খোচনা এসসি উচ্চ ও কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুল হক মুকুল তার বক্তব্যে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম এবং যেভাবে মানুষের পাশে থেকেছি। জনগণের সুখ দুঃখের ভাগিদার হয়েছি। গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থ মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি মহোদয়ের গত প্রিয়ডে তার হাত ধরে চিরিরবন্দর উপজেলার যে উন্নয়ন করেছি সেই উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতেই জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবেন” মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সাথে থেকে কিভাবে কাজ করতে হয় তা আমার জানা আছে, উনি কিভাবে কাজ করলে পছন্দ করেন তাও আমার জানা”।
মোটর সাইকেল প্রতিকের প্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চিরিরবন্দর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী জ্যোতিষ চন্দ্র রায় তার বক্তব্যে বলেন, আমি গত পাচ বছর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম চিরিরবন্দর উপজেলার যে উন্নয়ন করেছি সেই উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতেই জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবেন”।
অন্য প্রার্থীগণও তাদের নিজ নিজ উন্নয়নের কথা বলে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এস এম সাইফুর রহমান বলেন, “চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৯জন এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩০ হাজার ১২৬জন ও মহিলা ১ লাখ ২৮ হাজার ২৬২জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১জন। ৯৫টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে”।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ মে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button