sliderস্থানীয়

কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা হীরালার সেনের ১৫৬তম জন্মদিনে কিছু কথা

মো.নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ :
ক.
“চলচ্চিত্রের শিল্পরথে মানবতার গান করি,বহুত্ববাদি সাংস্কৃতিক চর্চা করি“। আজ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলার চলচ্চিত্র জগতের প্রবাদ পুরুষ হীরালাল সেন (জন্ম: ২ আগষ্ট ১৮৬৬- মৃত্যু: ২৬ অক্টোবর ১৯১৭) এর ১৫৬ তম জন্মদিন। মহান এই প্রবাদ পুরুষের জন্মভিটা মানিকগঞ্জের বকজুরী। আমরা তাঁর আদর্শের উত্তরসূরী হিসেবে তাঁর করকমলে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অন্তর্ময় ভালবাসা জানাচ্ছি। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ঘাটলেই অবধারিতভাবে হীরালাল সেনকে স্মরণ করতেই হবে। কেননা হীরালাল সেনই প্রধম বাঙালি, যিনি আপামর বাঙালির চোখে প্রথম চলচ্চিত্রের আলো দেখিয়েছেন। ঘটা করেই সংক্ষেপে তাঁর পরিচয় দেওয়া মুশকিল। তিনিই প্রথম বাঙালি চলচ্চিত্র প্রদর্শক, চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানের মালিক, চিত্রপরিচালক, চলচ্চিত্র আলোকচিত্রী, চলচ্চিত্র সংগঠক ও শিল্পী-কুশলীদের শিক্ষক। মানিকগঞ্জের সন্তান, কৃর্তিমান চলচ্চিত নির্মাতা হীরালাল সেনের নাম উপমহাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় স্থান দখল করে আছে। হীরালাল সেনের কল্যাণে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা নতুন দিগন্তের রূপ পায়। তিনি প্রায় ৪০টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর এই নির্মাণ কাজ চলচ্চিত্রের নির্বাক যুগেই সীমাবদ্ধ ছিল। এছাড়াও বাংলাদেশে এবং ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের জনক হিসেবে তাঁর অবদান আজও বিরাজমান। বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হীরালাল সেন। অথচ তার জীবন নিয়ে সে রকম তথ্য পাওয়া যায় না। গুগল মাধ্যমে যতটুক জানা যায় সেটি খুবই স্বল্প। ক’জনইবা জানেন যে, হীরালাল সেনই ক্যামেরা কিনে প্রথম বিজ্ঞাপন চিত্র তৈরি করেন? ভারতে প্রথম তথ্যচিত্রেরও নির্মাতা তিনিই। সেই অগ্রপথিক হীরালাল সেনের সম্পূর্ণ জীবন নিয়ে আমরা তেমন কোন গবেষণাগ্রন্থ খুঁজে পাচ্ছি না। ১৮৬৬ সালের আজকের দিনে ২ আগষ্ট চলচ্চিত্রের স্বপ্নদর্শী প্রবাদ পুরুষ হীরালাল সেন মানিকগঞ্জের বকজুরী মাটিতে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীর শতবর্ষ পালনের বড় কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো কি না আমার জানা নেই। সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে হীরালাল সেন আজীবন উপমহাদেশে অমর হয়ে থাকবেন। আজকের দিনে মহান এই মানুষটির স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি ও অসীম ভালবাসা।
খ.
চলচ্চিত্রকে বিশ্বে প্রথম আমদানি করেছিলেন লুমিয়ের ভাইয়েরা। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রের অবস্থা ও অবস্থান বিবেচনা করলে গণযোগাযোগের এই শক্তিশালী মাধ্যম চলচ্চিত্রের ইতিহাস সঙ্গত কারণেই খুব বেশিদিনের নয়। ১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্যারিসের হোটেল ডি ক্যাফেতে অগাস্ট লুমিয়ের (১৮৬২-১৯৫৪) ও লুই লুমিয়ের (১৮৬৪-১৯৪৮) নামে দুই ভাই চলচ্চিত্রের প্রথম প্রকাশ করেন। এর আগেও প্রদর্শনী হয়তো হয়েছে। কিন্তু এটিই ছিল প্রথম সফল বাণিজ্যিক প্রদর্শনী। কিংবা বলা যেতে পারে এর আগের কোনও তথ্য আমাদের হাতে নেই। তাই এই সময়কেই চলচ্চিত্রের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনাকাল ধরা হয়। তখন একে চলচ্চিত্র বা সিনেমা নয়, বায়োস্কোপ নামেই ডাকা হত। ভারতীয় উপমহাদেশে চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হয় এর মাস ছয়েক পরে ১৮৯৬ সালের ৭ জুলাই। লুমিয়ের ভাইদের একজন এসে মুম্বাই শহরের ওয়াটসন হোটেলে উপমহাদেশে বায়োস্কোপের প্রথম প্রদর্শনী করেন। ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় বায়োস্কোপের প্রদর্শনী হয়। ১৮৯৫ সালে ল্যুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় প্যারিসে বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্রটি নির্মাণের সূত্র ধরেই আরও অনেক চলচ্চিত্র বোদ্ধা বিশ্বে এই শিল্পকে ছড়িয়ে দিলেন। উপমহাদেশে প্রথম চলচ্চিত্র নামক শিল্পটির বাহক হলেন হীরালাল সেন। তিনিই প্রথম এই বাংলায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করেন। ১৮৯৮ সালে বরিশালের ভোলায় এসডিওর বাংলোতে প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হলো। লুমিয়ের ভাইদের মতো সেন ভাইয়েরাও উপমহাদেশে চলচ্চিত্রের বীজ বোপন করলেন এবং তৈরি করলেন এক নতুন সম্ভাবনা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসও কম পুরানো নয়। পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশ তথা পূর্ব বঙ্গেও সেই ১৮৯০ এর দশকে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছিল। এরই সূত্র ধরে এই অঞ্চলে ১৯০০-এর দশকে নির্বাক এবং ১৯৫০-এর দশকে সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন শুরু হয়। বাংলাদেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর যাত্রা শুরু হয় বায়োস্কোপ দেখানোর মধ্য দিয়ে। তখন বায়োস্কোপের ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন চলচ্চিত্র ছিল। বাংলাদেশ ভূখন্ডে প্রথম বায়োস্কোপ প্রদর্শনী হয় ১৮৯৮ সালের ৪ এপ্রিল। কলকাতার ব্রেডফোর্ড বায়োস্কোপ কোম্পানির উদ্যোগে বাকেরগঞ্জ জেলার ভোলা মহকুমার (বর্তমানে ভোলা জেলা) এসডিওর (ডিসি) বাংলোতে। ঢাকাতে প্রথম বায়োস্কোপ দেখানো হয় এবং একই সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার পাটুয়াাটুলীর ক্রাউন থিয়েটারে এই বায়োস্কোপ দেখানো হয়। ক্রাউন থিয়েটারের অস্তিত্ব এখন আর খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
গ.
হীরালাল সেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁকে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের জনকও বলা হয়। তাঁর হাত ধরেই ভারতীয় উপমহাদেশে চলচ্চিত্রের এক নতুন দিগন্ত রচিত হয়। তিনিই প্রথম নির্মাণ করেন বিজ্ঞাপন বিষয়ক চলচ্চিত্র। ভারতের প্রথম রাজনীতি বিষয়ক চলচ্চিত্রের সূচনাও হয় তাঁর হাতেই। চলচ্চিত্র নিয়ে হীরালাল সেনের চিন্তা ছিল সে-যুগের একটি নতুন উদ্ভাবনী ও উচ্চতর শৌখিন আকাঙ্কার প্রতিফলন। তবে হীরালাল সেনের এ ধরনের চিন্তার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে তাঁর ঐতিহ্যিক পরিবার ও পরিমন্ডল। গবেষক তপন বাগচী লিখেছেন, কলকাতায় যে বায়োস্কোপ কোম্পানি গঠিত হয়, তার মূল ভূমিকায় বাঙালিরা ছিল না। ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ মহকুমার (অধুনা জেলা) বকজুরী গ্রামের হীরালাল সেন (১৮৬৬-১৯১৭) দ্য রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি গঠন করে চলচ্চিত্র নির্মান ও প্রদর্শনী শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্য রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানিই বাঙালির প্রথম চলচ্চিত্র প্রচেষ্ঠা। অবিভক্ত বাংলার প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও হীরালাল সেনের নাম স্বীকৃত। বিভিন্ন স্থানে অভিনীত নাটকের খন্ড অংশের চিত্রায়ণ করে ১৯০১ সালের ৯ ফেব্রæয়ারি কলকাতার ক্ল্যাসিক থিয়েটারে প্রদর্শন করেন। সেই সময়ের সীতারাম, আলীবাবা, দোললীলা, ভ্রমর, হরিরাজ বুদ্ধ প্রভৃতি জনপ্রিয় নাটক পরিবেশনার গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ বিশেষ অংশ ক্যামেরায় ধারণ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রদর্শন করে তিনি বাঙালির চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রবল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেন। প্রামাণ্যচিত্র, বিজ্ঞাপনচিত্র এবং সংবাদচিত্রও নির্মাণের পথিকৃৎ হিসেবেও হীরালাল সেন নমস্য ব্যক্তি।
ঘ.
বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার হীরালাল সেন ১৮৬৬ সালে তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ মহকুমার বকজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর জন্ম তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তাঁর বাবার নাম চন্দ্রমোহন সেন ও মায়ের নাম বিধুমুখী। হীরালাল সেন এর পারিবারিক বংশ ছিল মুনশী। হীরালাল সেন ছিলেন মানিকগঞ্জের এক বিখ্যাত পরিবারের সন্তান। তাঁর পূর্বপুরুষের নাম ছিল বাঞ্চারাম মুনশি। বাঞ্চারাম মুনশির ছিল দুই ছেলে শ্রীকন্ঠ ও উগ্রন্ঠ মুনশি। শ্রীকন্ঠ মুনশির ছেলের নাম গোকুল মুনশি। গোকুল মুনশির ছিল চার সন্তান দীনলাল সেন, চন্দ্রমোহন সেন, শ্রীমাহন সেন ও পলতারু দেবী। গোকুল মুনশির চার সন্তানের মধ্যে দীনলাল সেন বেশি পরিচিতি লাভ করেন। তিনি এক সময় ত্রিপুরার মহারাজার মন্ত্রী ছিলেন। ১৮৯৮ সালে দীনলাল সেন মারা যান। হীরালাল সেন এর বাবা চন্দ্রমোহন সেন ছিলেন ঢাকা জর্জ কোর্টের উকিল। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় চলে যান এবং কলকাতায় আবার ওকালতি ব্যবসা শুরু করেন।
হীরালাল সেনের মা একজন গৃহীনি ছিলেন। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. দীনেশ চদ্র সেন ছিলেন হীরালাল সেন এর ফুফাত ভাই। হীরালাল সেনের ফুফুর নাম ছিল পলতারু দেবী। ডঃ দীনেশচন্দ্র সেন হীরালাল সেনের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। হীরালাল সেন ছিলেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন-এর দুই বছরের ছোট । তিনি হীরালাল সেনের বাড়িতে থেকেই পড়ালেখা করেন। চন্দ্রমোহন সেন ও বিষুমূনশীর ছিল আট সন্তান। তবে তাদের মধ্যে ৫ জনের নাম জানা যায়। তারা হলেন সুন্দরী দেবী, হীরালাল সেন, দেববাসী লাল সেন, মতিলাল সেন ও সোরজিনী দেবী।
ঙ.
হীরালাল সেনের শৈশবকাল কেটেছিল তাদের গ্রামের বাড়িতে। সেখানে তিনি সারাদিন খেলাধুলা করতেন গ্রামের আর আট-দশটি ছেলের মতই। সেখানে কোন ভেদাভেদ ছিলনা। সবাই মিলে নদীতে সাঁতার কাটতেন, গাছে উঠতেন ও মাটি দিয়ে খেলা করতেন। তবে তিনি খেলেধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ছবিও আঁকতেন। তাঁর শৈশব কালের সাথী ছিল তাঁর ফুফাত ভাই ড. দীনেশ চন্দ্র সেন। হীরালাল সেনের শিক্ষা জীবন শুরু হয় মানিকগঞ্জের বগজুরি গ্রাম থেকেই। তিনি প্রথম অবস্থাতে তার পরিবার থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করেন। হীরালাল সেন ও ড. দীনেশ চন্দ্র সেন ছিলেন সমবয়সী । তাঁদের ফারসি ভাষা শেখানোর জন্য একজন মৌলভী রাখা হয়। তারা তাঁর কাছে ফারসি ভাষা শেখেন। ধারনা করা হয়, হীরালাল সেন মানিকগঞ্জের মাইনর স্কুলে পড়ালেখা করেছেন। এরপর ১৮৯৫-১৮৯৬ সালের দিকে হীরালাল সেন ভর্তি হন কলেজিয়েট স্কুলে। তাঁর বাবাসহ পরিবারের সকলেই কলকাতায় চলে যাওয়ার ফলে তিনি সেখানে একটি কলেজে আই, এস, সি তে ভর্তি হন। ১৮৯৬ সালে কলকাতায় আই এস সি ক্লাসে অধ্যায়ননকালে স্টার থিয়েটার আয়োজিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী দেখে চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। পড়ালেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ কম ছিল। চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহের জন্য তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বেশিদূর যেতে পারেনি। তিনি পড়াশুনা ত্যাগ করে বায়োস্কোপ অনুশীলন শুরু করেন এবং ১৮৯৮ সালে কলকাতার ক্লাসিক থিয়েটারে চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু করেন। ১৮৯৮ সালে ভোলায় এস ডি ও’র ডাক বাংলোয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন।
চ.
হীরালাল সেন ছাত্র অবস্থাই চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৯০০ সালে ফরাসি কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশের রাজাদের রাজ্যের হাতি, ঘোড়া, উট, ইত্যাদিসহ শোভাযাত্রা, সাপের খেলাসহ বিভিন্ন ধরনের খেলার ছবি তুলে ইউরোপ, আমেরিকায় দেখাত। আর এর জন্য তারা এদেশে কিছু ক্যামেরাম্যান নিয়ে আসেন ছবি তোলার জন্য। তিনি তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করেন এবং তাদের কাছ থেকে ক্যামেরা চালানো শেখেন। ছোট ভাই মতিলাল সেনকে নিয়ে গড়ে তোলেন দ্য রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি। ১৯০০ সালে বিদেশ থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করেন এবং কোম্পানিকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করার প্রয়াস পান। পরে তিনি ম্যুভি ক্যামেরা চালানোর আধুনিক এবং বিশেষ কলাকৌশল রপ্ত করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের বৈচিত্র্যপূর্ণ গতিশীল দৃশ্যের চিত্রগ্রহণ শুরু করেন। হীরালাল সেনের নির্মিত চলচ্চিত্রটি প্রথম প্রদর্শিত হয় ৪ এপ্রিল ১৮৯৮ সালে কলিকাতার ক্লাসিক থিয়েটারে।
ছ.
আমরা জেনেছি হীরালাল সেনের কর্ম জীবন শুরু হয় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। আই, এস, সি পড়ার সময় তিনি পড়ালেখা বাদ দিয়েই চলচ্চিত্র পেশায় যোগ দেন। ১৮৯৮ সালে হীরালাল সেন ও তার ভাই মতিলাল সেন মিলে রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পনি করেন। এরপর শুরু করে দেন বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী। ১৮৯৯ সালে মিনারভা রঙ্গমঞ্চ ভাড়া করে একটি প্রদর্শনী করেন যেটি অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এই সব প্রদর্শনীতে সাফল্য অর্জন করার পর তিনি চিত্র নির্মাণের চিন্তা শুরু করেন। কিন্তু তাঁর নিজের কোন ক্যামেরা ছিলনা। প্যাথে ফ্রেবিজা ও আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরা ভাড়া নিয়ে অনেক ধরনের ছবি তোলা শুরু করেন। কিছু দিন পর নিজেই ক্যামেরা কেনার চিন্তা করেন। ১৯০০ সালে রয়েল বায়স্কোপ কোম্পানি লন্ডন ওয়ারউইক ট্রেডিং কোম্পানি থেকে ক্যামেরা প্রজেক্টিং মেশিন ও বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করেন। হীরালাল সেন এরপর থেকে শুরু করেন নিজের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা ও চলচ্চিত্র নির্মাণ। হীরালাল সেনের সুনাম দ্রæত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। নিজের ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবির প্রদর্শনীতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন। ১৯০১ সালে ৯ ই ফেব্রæয়ারি ক্লাসিক থিয়েতার চিত্রায়িত করেন কিছু বাংলা নাটকের বিশেষ বিশেষ দৃশ্য। এর মধ্য ছিল আলী বাবা, যীতারাম , হরিপদ ,ভ্রমর , সরলা, দোলযাত্রা, বন্ধু ইত্যাদি। ১৯০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি ব্যবসায়িকভাবে চিত্র প্রদর্শনী শুরু করেন। তাঁর প্রদর্শনী দেখার জন্য আসেন প্রধান বিচারপতি স্যার উইলিয়াম ম্যাকমিলান। হীরালাল সেন তাঁর নিজ গ্রাম বগজুরিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। তিনি তাঁর বাড়ির কাদের নাট মন্দিরে ১৯০২ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত প্রদর্শনী চালু রাখেন। ১৯০০ সালে ২ ফেব্রæয়ারি তার প্রতিষ্টিত রয়েল বায়স্কোপ কোম্পানি কলকাতার বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির বাসভবনে প্রদর্শনী করেন। তিনি একই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামে গঞ্জে এবং উড়িষ্যা উত্তর প্রদেশে ও বিহারে বিভিন্ন স্থানে বায়স্কোপ প্রদর্শন করেন। ১৮৯০ সালে ৪ এপ্রিল হীরালাল সেন তার ছোট ভাই মতিলাল সেন ও দোকিলাল সেন এবং তাঁর বোনের ছেলে ডোলনাথ সেনকে নিয়ে ‘দি রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি’ ব্যানারে প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। ১৮৯০ সালে তিনি তার নিজ গ্রাম বগজুরিতে প্রতিষ্ঠা করেন ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান অমরাবতী ফাইন আর্টস এসোসিয়েশন এবং এইচ এল সেন এ্যান্ড ব্রাদার্স। বাংলা ১৩০৯ সালে ২৬-২৭ ফাল্গুন ১৯০২ সালে তিনি শরীয়তপুর জেলার পালং থানায় (শরীয়তপুর সদর) বায়োস্কোপ প্রদর্শনী করেন। তিনি যখন ঢাকার কলেজিয়েট স্কুলে পড়তেন তখনই তিনি ফটোগ্রাফির প্রতি অধিক আকৃষ্ট হন।
জ.
হীরালাল সেন সম্ভবত ১৯০০ সালের কাছাকাছি সময়ে বিয়ে করেন। তবে এ নিয়ে মতভেদ আছে। হীরালাল সেনের বিয়ে হয় হেমাঙ্গিনী দেবীর সাথে। তাঁদের তিন সন্তানের কথা জানা যায়। প্রথম পুত্র বৈদ্যনাথ সেন ১৯০২ সালে জন্ম গ্রহন করেন। তৃতীয় সন্তান মেয়ে প্রতিভা সেনের বিয়ে হয় নরনাথ সেনের সাথে। নরনাথ সেনের ভাইপো দিবানাথ সেনের স্ত্রী ছিলেন কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্র সেন।
ঝ.
হীরালাল সেন এর শেষ জীবন কেটেছে খুবই কষ্টে। জীবনের শেষ সময়ে তাকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। ১৯০৫ সালের পর থেকে তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের পতন শুরু হয়। ধীরে ধীরে দেশে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান হতে থাকে। এতে চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এছাড়াও সে সময় দেশ বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের নামকরা চলচ্চিত্র আমদানি শুরু হয়। এতে সাধারণ জনগণ দেশীয় চলচিত্রের প্রতি আগ্রহ হঁড়িয়ে ফেলেন। বিদেশী চলচ্চিত্রের আমদানির ফলে তাঁর জীবনের সব সাধনা ধীরে ধীরে ভেস্তে যেতে থাকে। তারপরও তাঁরা তিন ভাই মিলে চলচ্চিত্র ব্যবসা করতেন। একসময় তাঁর ভাই দেববাসী লাল সেন চলচ্চিত্র ছেড়ে দিয়ে চাকরি ধরেন। সাথে থাকেন মতিলাল সেন। কিন্তু এক সময় হীরালাল সেন ও মতিলাল সেনের মধ্যে চরম দ্ব›দ্ব শুরু হয়। এরপর হীরালাল সেন তাঁর প্রতিপক্ষ রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি ত্যাগ করেন। হীরালাল সেন তাঁর ভাগ্নে কুমার সংকর গুপ্তকেও চলচ্চিত্র জগতে এনেছিলেন। কুমার সংকর গুপ্ত ও চলচ্চিত্র সম্পর্কে শিক্ষা নেন হীরালাল সেনের কাছ থেকে। কিন্তু এক সময় তাঁর ভগ্নেও তাকে ছেড়ে অন্য কোম্পানিতে চলে যান। এরপর হীরালাল সেন তাঁর এইচ এল সেন এন্ড ব্রাদার্স কোম্পানিতে কাজ করেন। পরে তিনি এই কোম্পানি ছেড়ে তাঁর ভাগ্নের প্রতিষ্টিত লন্ডন
বায়োস্কোপ কোম্পানিতে যোগদান করেন। ১৯১৩ সালের কোন এক সময়ে হীরালাল সেনের জীবনে ঘটে সবচেয়ে বড় এক দুঃখজনক ঘটনা। হীরালাল সেনের নির্মিত সব চলচ্চিত্র ও নথিপত্র ছিল তাঁর ভাই মতিলাল সেনের বাসায়। হঠাৎ একদিন মতিলাল সেন এর বাসায় আগুন লেগে যায়। হীরালাল সেনের নির্মিত সকল চলচ্চিত্র ও নথিপত আগুনে পুড়ে যায়। মতিলাল সেন এর কন্যা ও আগুনে পুড়ে মারা যায়। তখন থেকেই শুরু হয় হীরালাল সেনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের দিন। একদিকে পারিবারিক দ্ব›দ্ব অন্যদিকে তাঁর নির্মিত সব কিছু হারানোর বেদনা। আর্থিক অভাবের ফলে তাঁর ক্যামেরা ও সকল যন্ত্রপাতি এবং হাতের আংটি মালিকের কাছে বন্ধক রাখেন। পরবর্তীতে অনাদি বসু এগুলো মালিকের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন। বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান দেবী ঘোষ ক্যামেরাগুলো মেরামত করে নিজে ব্যবহার করেন।
ঞ.
উপমহাদেশের বিজ্ঞাপনের জনক হিসেব হীরালাল সেনকে উপমহাদেশের বিজ্ঞাপনের জনক বলা হয়। তাঁর আগে কেউ ভারতে বিজ্ঞাপন চিত্র তৈরি করেনি। ১৯০৩ সালে তিনি বিজ্ঞাপন চিত্র তৈরি করেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপনের তৈরি করেন তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো বটফেষ্ট পালের ‘এডওয়ার্স টনিক’, সি কে সেনের মাথার তেল জবাকুসুম ও ডবিøউ মেজর কোম্পানির ‘ সালমা পিলা’। এ বিজ্ঞাপনগুলো হয়েছিল রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি থেকে। নানামুখী উদ্যম ও গতিময় হীরালাল ভারত উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অথবা জনক হতে পেরেছেন। উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের জনক হীরালাল সেনের চলচ্চিত্রপঞ্জি এক নজরে দেখে নেওয়া যাক : কাহিনিচিত্র : ১. ভ্রমর; ২. আলিবাবা; ৩. হরিরাজ; ৪. দোল লীলা; ৫. সরলা; ৬. বুদ্ধ; ৭. সীতারাম। (১৯০০-১৯০১ সময়সীমায় তোলা এই ছবিগুলোর দৈর্ঘ্য ১০০ থেকে ১৫০ ফিট পর্যন্ত) ৮. দুটি প্রাণ; ৯. মৃণালিনী; ১০. সোনার স্বপন; ১১. মনের মতন; ১২. মজা; ১৩. বধূ; (১৯০২-১৯০৫ সময়সীমায় তোলা এই ছবিগুলোর দৈর্ঘ্য ২০০ থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত বিদেশ থেকে ক্যামেরা এনে নতুন ক্যামেরায় তোলা) ১৪. চাবুক; ১৫. গুপ্তকথা; ১৬. ফটিকজল; ১৭. দলিতা ফনিনী (১৯০৩-১৯০৫ সময়সীমায় তোলা ছায়াছবি)।
সংবাদচিত্র : ১. করোনেশন দরবার-দিল্লি (১৯০৩); ২. করোনেশন দরবার-কলকাতা (১৯০৩); ৩. গ্র্যান্ড প্যাট্রিওটিক ফিল্ম; (১৯০৫); ৪. সুরেন্দ্রনাথের শোভাযাত্রা (১৯০৫); ৫. দিল্লি কলকাতার দরবার চিত্র (১ম) (১৯১১-১২); ৬. দিল্লি কলকাতার দরবার চিত্র (২য়) (১৯১১-১২); ৭. দিল্লি কলকাতার দরবার চিত্র (৩য়) (১৯১১-১২); ৮. দিল্লি কলকাতার দরবার চিত্র (৪র্থ) (১৯১১-১২); ৯. দিল্লি কলকাতার দরবার চিত্র (৫ম) (১৯১১-১২); ১০. দিল্লি কলকাতার দরবার চিত্র (৬ষ্ঠ) (১৯১১-১২)।
তথ্যচিত্র : ১. পথের ছবি; ২. গঙ্গার ঘাটের ছবি; ৩. প্যাথে নৃত্য দৃশ্য; ৪. প্যাথে ছবি (গুচ্ছ) (১৯০০ সালে তোলা); ৫. চিত্র্পুর রোডে চলমান দৃশ্য; (১৯০০-১৯০১ সময়সীমায় তোলা ছায়াছবি); ৬. বগজুরি গ্রামের বিবাহোৎসব ; ৭. বগজুরি গ্রামের স্নানার্থী তথ্যচিত্র (১৯০২-১৯০৩ সময়সীমায় তোলা ছায়াছবি); ৮. রাজেন্দ্র মল্লিকের বাড়ির বিবাহোৎসব ; ৯. দুলিচাঁদ মল্লিকের বাড়ির বিবাহোৎসব; ১০. শিবচরণ লাহার বাড়ির বিবাহোৎসব; ১১. রাজেন্দ্র মল্লিকের বাড়ির বিভিন্ন উৎসব; ১২. শিবচরণ লাহার বাড়ির বিভিন্ন উৎসব (১৯০২-১৯০৫ সময়সীমায় তোলা ছায়াছবি)।
প্রচারচিত্র ১৩. এডওয়ার্ড অ্যান্টি ম্যালেরিয়া স্পেসিফিক কোম্পানির পেটেন্ট ওষুধ; ১৪. জবাকুসুম তেল (সি কে সেন-এর আগরপাড়া বাগানবাড়িতে গৃহীত); ১৫.সার্সাপেরিলা (ডাব্রিউ মেজর কোম্পানির তৈরি সি কে সেনের বাগানবাড়িতে গৃহীত) ১৯০৩ সালে তৈরি।
ট.
উপমহাদেশের প্রথম রাজনৈতিক চলচ্চিত্রের নির্মাণ : ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় বিশাল প্রতিবাদ সভার ডাক দেন। হীরালাল সেন এই সভার ভিডিও করেন। এছাড়া রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতায় যে বিশাল প্রতিবাদ সভা ও মিছিল হয়েছিল তার ছবিও তুলেছেন তিনি। ১৯০৫ সালে ২৫ নভেম্বর রাত্র ৯ টায় কলকাতায় থিয়েটার হলে এই চিত্রের প্রদর্শনী করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন। এছাড়াও তাঁর সাথে এসেছিলেন ময়মনসিংহের মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী, নাটোরের রাজা জগদীন্দ্র নাথ রায়সহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ । রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রদর্শনী দেখে খুবই প্রশংসা করেছিলেন। এমনকি তিনি হীরালাল সেনের পায়ের ধুলো মাথায় তুলে নিয়েছিলেন। হীরালাল সেন কতগুলো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়,তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র ৪০ টির মত হবে। তবে বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন ধরনের মতবাদও রয়েছে।
ঠ.
জীবনের শেষ কয়েক বছর হীরালালের পক্ষে সুখকর ছিল না। ক্যান্সার, অর্থকষ্ট ও হতাশায় তাঁকে ভুগতে হয়। মৃত্যুর কিছুদিন আগে অগ্নিকান্ডে তাঁর তৈরি সব চলচ্চিত্র নষ্ট হয়ে যায়। হীরালাল সেন নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৯১৭ সালে তাঁর শরীরে ধরা পড়ে দুরারোগ্য ক্যান্সার। অবশেষে তিনি ১৯১৭ সালের ২৯ অক্টোবর ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন এবং সেই সাথে শেষ হয় চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জল নক্ষত্রের বিশাল অধ্যায়।
ড.
আমরা জানি, বর্ণ লেখার আগে মানুষ ছবি এঁকেছিল, তার আগে ছবি নিয়ে কল্পনা করেছে, স্বপ্ন দেখেছে। একদিন এই কল্পনা এবং স্বপ্নকে প্রকাশ করার জন্য মানুষ ছবি আঁকল ঠিকই সেটি যন্ত্রস্থ এবং বহুদর্শী হলো হাজার বছর (এবং হাজার) পরে। এ সময় সেই কল্পনা এবং স্বপ্নকে মানুষ তার ব্যক্তিগত সম্পত্তির মধ্যে না রেখে বিলিয়ে দিল অপার জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিক ও দার্শনিক বিচারের জন্য। আর সেটিকে আমরা হয়তো বললাম চলচ্চিত্র।এই চলচ্চিত্রকে বিনোদনের মাধ্যম বললেও এটি সপ্তম শিল্পের মাধ্যম, যা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই চলচ্চিত্র আজকের দিনের প্রধান বিনোদন মাধ্যম। বিনোদনের পাশাপাশি এটি শিক্ষার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। জাতিগঠন ও সমাজ নির্মাণের হাতিয়ার। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ মাধ্যম পালন করে নিয়ামক ভূমিকা। আবার জাতি গঠনেও চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। চলচ্চিত্রে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক সমস্যা তুলে ধরেন সৃজনশীল নির্মাতাগণ। আবার সৃজনশীল যে কোন কাজে আমাদের, বাঙালিদের রয়েছে প্রকৃতিগত দক্ষতা। শিল্পকলার প্রতিটি মাধ্যম যেমন কাব্য, উপন্যাস, নাটক, সঙ্গীত, নৃত্য ও চিত্রকলার ক্ষেত্রে এদেশের মানুষ আবহমানকাল থেকে তাঁদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাইতো আমরা দেখি বিশ্বে প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাত্র তিন বছরের মধ্যেই আমাদের মানিকগঞ্জের সন্তান হীরালাল সেন বাংলাদেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেছিলেন। উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের কৃতিত্বও প্রকৃতপক্ষে তারই প্রাপ্য। মানিকগঞ্জের গৌরব ও অহংকারের বিশেষ ব্যক্তিত্ব, বাংলা চলচ্চিত্রের নির্মাতা হীরালাল সেনের ১৫৬ তম জন্মদিনে তার করকমলে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনম্র শ্রদ্ধা ও অন্তর্ময় ভালবাসা রইলো।
(তথ্যসূত্র : বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, হীরালাল সেন : সৈকত আসগর, প্রথম বাঙালি চলচ্চিত্রকার : হীরালাল সেন ও অন্যান্য : আজাহারুল ইসলাম: মানিকগঞ্জের শত মানিক, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন: মানিকগঞ্জ জেলার ইতিহাস, বিডিনিউজ২৪.কম, ইন্টারনেট ও গুগল )
[লেখক: মো. নজরুল ইসলাম: সাধারন সম্পাদক,হীরালাল সেন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংঘ,মানিকগঞ্জ]

Related Articles

Back to top button