sliderস্থানীয়

কলা গাছের শহিদ মিনারে শিশুদের শ্রদ্ধা

নাসির উদ্দিন, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : ফুল কিনে এনে কলা গাছের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা। তারা শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা, মার কাছে ও বই পড়ে শহিদ দিবস সম্পর্কে জেনেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা নিজ হাতেই গড়েছে এই শহিদ মিনার, তারপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। কেউ বাড়ির গাছের ফুল দিয়ে, কেউ বাবা মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফুল কিনে আবার কেউ বাবাকে দিয়ে ফুল কিনে এনে কলা গাছের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

বুধবার মহান ভাষা শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে হরিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চরঅঞ্চলে কলা গাছের তৈরি শহিদ মিনারে কোমলমতি শিশুদের শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে।

শিশুরা জানিয়েছে, অভিভাবক এবং বই পড়ে শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য জেনে তারা এমন উদ্যোগ নেয়। তারপর কলা গাছ কেটে ও রঙিন কাগজ এবং মাটি দিয়ে বাড়ির আঙিনায় অস্থায়ী শহিদ মিনার করে শ্রদ্ধা জানায়।

সরেজমিনে দেখা যায়,মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা আজিমনগর, লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ী ইউনিয়ন সহ প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের শিশুরা বাড়ির উঠানে মাটি দিয়ে উচু করে কলাগাছ পুতে শহিদ মিনার বানিয়েছে। শিশুরা তাতে বাঁশের কঞ্চি ও রঙিন কাগজ লাগিয়ে সৌন্দর্য্য বাড়িয়েছে। প্রতিটি মিনারের ওপর অপেক্ষাকৃত ছোট কলাগাছের আরও তিনটি টুকরা তির্যকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে। রঙিন কাগজ ও নানা রঙের ফুল দিয়ে প্রতিটি মিনার মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চারপাশে সুতা টানিয়ে তাতে রঙিন কাগজ ও বেলুন দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। শহিদ বেদিতে বুনোফুল, গাঁদা ও গোলাপফুল শোভা পাচ্ছে। পাশেই সাউন্ড সিস্টেমে দেশাত্মবোধক গান বাজছে। কোথাও কোথাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে ভোজের আয়োজনও করেছে শিশুরা।

শিক্ষার্থী আসা আক্তার বলে, ‘বাবা, মা ও স্কুলের বড় ভাই এবং টিভি দেখে ২১ ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে জেনেছি। কিভাবে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয় সেটাও আমাদের জানা থাকায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি।’

অপর শিক্ষার্থী আফছানা বলে, ‘ভাষার মাস শুরু হলেই আমরা পরিকল্পনা শুরু করি, কিভাবে শহীদ মিনার বানাব, কোথায় ফুল পাব, কে কে আমাদের কাজে সহযোগিতা করবে। শহিদ দিবসের আগের দিন থেকে আমরা কাজ শুরু করি। ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে গ্রামের ছেলে মেয়েরা মিলে মিশে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করি।’

শিক্ষার্থী শরিফ মিয়া বলে, ‘আমাদের মধ্যে কেউ নিজের বাড়ির ফুল আবার অনেকেই বাবাকে দিয়ে শহর থেকে ফুল কিনে এনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভালই লাগছে।’

সুমা আক্তার বলে, ‘আমি জানতে পেরেছি বাংলা ভাষার জন্য রফিক, শফিক, জব্বারসহ অনেকেই শহিদ হয়েছেন। তাদের সম্মানে সকালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি।’

মো. শহিদুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলের বায়নার প্রেক্ষিতে তিন বছর ধরে শহিদ দিবসের আগের দিন শহর থেকে ফুল কিনে আনি। ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে আমার ছেলে কলা গাছের শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এতে আমি মনে করি শিশুকাল থেকে তার ভাষা শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও দেশ প্রেম বৃদ্ধি পাবে।

হরিহদিয়া আদর্শ কিন্ডারগার্ডেন ইস্কুলে প্রধান শিক্ষক রাজিব বলেন, ‘শহিদ মিনার বানিয়ে শিশুদের শ্রদ্ধা নিবেদন আসলেই একটি ভালো দিক। এরফলে বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে জানার সুযোগ পাবে।’

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button