sliderদুর্নীতিশিরোনাম

কমলাপুর স্টেশনে মহিউদ্দিনের সাথে জাফরুল্লাহ : গেট বন্ধ করায় বাইরে অবস্থান

বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনির সাথে সংহতি জানাতে কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
রোববার বিকেল চারটার পর মহিউদ্দিন ও তার সহযোগীরা স্টেশনে যান। বিকেল পাঁচটার দিকে রেলস্টেশনে যান জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কিন্তু বাইরের ফটক আগে থেকেই বন্ধ থাকায় রেলস্টেশনের ভেতরে তারা ঢুকতে পারেননি। এ সময় জাফরুল্লাহ একটি হুইলচেয়ারে করে মহিউদ্দিনদের সাথে ফটকেই অবস্থান নেন। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, মুক্তিযোদ্ধা আক্তার হোসেন, হাবীবুর রহমান রিজু প্রমুখ।
এদিকে সব ফটকের সামনে অবস্থান নেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। এ সময় সব ফটক বন্ধ করে দেন তারা। তবে টিকিট দেখিয়ে সাধারণ যাত্রীদের স্টেশনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
এ বিষয়ে আন্দোলনকারী মহিউদ্দিন রনি বলেন, ‘আমাকে ঢুকতে দেয়নি ভালো কথা। কিন্তু দেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আটকে দিলো কেন তারা?’
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টারের উদ্দেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মহিউদ্দিন রনি টিকিট কালোবাজারির প্রতিবাদ করছেন। স্টেশনমাস্টারের কত ভাগ-বাঁটোয়ারা আছে, আমি জানি না। তারা এত ভয় পাচ্ছেন কেন, নিজেকে অন্ধকারে লুকিয়ে রাখছেন কেন? তাকে অসম্মান করা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা রেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা চাই, যাতে দেশবাসী একটু নিরাপদে ও আনন্দে রেলে ভ্রমণ করতে পারে। ফটক বন্ধ কারা করে? ফ্যাসিস্ট সরকার করে? কেন ফটক বন্ধ করে রেখেছেন? আমার হাতে কি অস্ত্র, লাঠি বা বন্দুক আছে?’
জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরো বলেন, ‘আমাদের পাঁচজন তার (স্টেশনমাস্টার) সাথে দেখা করে কথা বলতে চাই। আমাকে আটকে রেখে তিনি বোকামির পরিচয় দিচ্ছেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা দিনের পর দিন না খেয়ে যুদ্ধ করেছি। একাত্তরের পর ফিরে আসব, তা আমরা ভাবিনি। সুতরাং অনুগ্রহ করে স্টেশনমাস্টার মহোদয় আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। তাতে আপনার লাভ হবে না। ’এ সময় প্রয়োজনে ৪৮ ঘণ্টা ফটকের বাইরে অবস্থান করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান জাফরুল্লাহ।
অবস্থানের এক পর্যায়ে মহিউদ্দিন রনি ও তার সমর্থকেরা কমলাপুর রেল স্টেশনের বাইরের ফটকে ধাক্কা দিতে থাকেন। তখন তাদের থামিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্টেশনমাস্টার মহোদয়, আপনি লুকিয়ে থেকে রেহাই পাবেন না। আপনাকে একটা নমুনা দেখানো হলো। আর একটা ধাক্কা দিলেই আপনার এই লৌহশিকল উড়ে যাবে।’
রোববার রাতেও জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মহিউদ্দিন এবং তার সহযোগীরা কমলাপুর রেলস্টেশনের কলাপসিবল ফটকের বাইরে অবস্থান করছিলেন।

Related Articles

Back to top button