sliderস্থানীয়

কটিয়াদীতে তিন দিনের মাথায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বদলি

রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ২৫/২৬ দিন যাবত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজকর্মে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আসন্ন ঈদুল আযাহার বেতন ও বোনাস বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে সরকারি এক আদেশে একজন নতুন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার হিমেল খান কে উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের তিন দিনের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে অন্যত্র বদলি করা হয়।

জানা যায় গত ১৩ মে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমান অন্যত্র বদলি হন। তারপর পর থেকেই উক্ত খালি পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ডাক্তার মেহেদী হাসান। গত ২১ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাগেরহাট জেলা থেকে ডাক্তার হিমেল খানকে কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ বদলি করা হয়। গত ২৫ মে ডাক্তার হিমেল খান তার নতুন কর্মস্থল কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তিনি যথারীতি কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার সাইফুল ইসলামকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (প্রশাসনিক) কর্মকর্তার বদলি জনিত চিঠি জমা দিলে তার বদলির চিঠি সিভিল সার্জনের মন মত না হওয়ায় তিনি ডাক্তার হিমেল খানের যোগদানের চিঠি গ্রহণ করেননি, উপরন্ত মৌখিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। যে কারণে ডাক্তার হিমেল খান জেলা সিভিল সার্জন এর কথামতো কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু তিনদিন পরেই হঠাৎ করে ডাক্তার হিমেলকে সুনামগঞ্জে বদলি করা হয়। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাক্তার সাইফুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে ডাক্তার হিমেলের যোগদানের পত্রটি গ্রহণ করা হয়নি। তিনি আরো বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডাক্তার হিমেল এর আদেশটি সংশোধন করা হবে”। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না বলে জানান। ৯ জুন রবিবার কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২৫/২৬ দিন যাবত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সেখানে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মন মানসিকতার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তারা বলেন যেহেতু ঈদুল আযহা সমাগত অথচ এখন পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা না থাকায় তাদের বেতন ও বোনাস উঠানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button