sliderস্থানীয়

কটিয়াদীতে ৫শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা শুরু

রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি :কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের ভোগবেতালে আজ ৭ জুলাই রবিবার সনাতন ধর্মের প্রথম পর্বের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে বিকেল ৩ ঘটিকায়। ৯ দিন ব্যাপী এই উৎসব উল্টো রথের মাধ্যমে শেষ হয়ে ১৫ জুলাই সোমবার। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেবতা গোপীনাথ জীউর বিশেষ বাহন রথে চড়ে তার বোন, সুভদ্রা দেবী স্বামীর বাড়ি থেকে পিত্রালয়ে নায়রে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুভদ্রার ভাই বলরাম, গোপীনাথ জিউর বাড়িতে আসেন। ৯ দিন পর উল্টোরথে চড়ে সুভদ্রাকে নিয়ে আসবেন তার স্বামীর বাড়িতে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই বিশ্বাস থেকেই কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ৫শত বছর যাবত পালিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব। কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের ভোগবেতালে ঈঁসাখাঁ ও রাজা নবরঙ্গ রায়ের স্মৃতি বিজড়িত ৫ শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী গোপিনাথ জিউর মন্দির। ৭ই জুলাই রবিবার শুরু হচ্ছে প্রথম পর্ব। আগামী ১৫ই জুলাই সোমবার শেষ হবে উল্টোরথ যাত্রার মাধ্যমে ৯ দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানের।

কথিত আছে গোপীনাথ জিউর রথের গোড়াপত্তন হয় রাজা নব রঙ্গ রায়ের আমলে। পরবর্তীতে এই মন্দিরে ২ শত একর জমি দান করেন ঈঁসাখাঁ। তবে মন্দিরের গোড়াপত্তন কে করেছিলেএ ব্যাপারে কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। রথযাত্রা উপলক্ষে কটিয়াদী গোপীনাথ জিউর মন্দির প্রাঙ্গনে হাজার হাজার ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ লোকের মিলন মেলায় পরিণত হয়। বিভিন্ন ধর্মালম্বী মানুষের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দিরের আশপাশ এলাকা। মন্দির এলাকায় লোকজ মেলা, ফলমূল ও বিভিন্ন জাতের পাখির পসরা বসে। উৎসবমুখর পরিবেশে নানা ধর্মীয় আচার-আচরনাদি শেষে হিন্দু রমণীদের অবিরাম উলুধ্বনির মাধ্যমে বিশাল আকৃতির রথের চূড়ায় স্থাপন করা হয় শ্রী শ্রী গোপীনাথ,বলরামও সুভদ্রার মূর্তি। রথের চাকার সাথে বাঁধা হয় পাটের মোটা রশি। হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ সামনে থেকে বিকেল পাঁচটায় এই মোটা রশি টানের মধ্য দিয়ে রথ টানা শুরু করবেন । বিশাল আকৃতির কৃত্রিম ঘোড়া টানা বাহন, যাত্রা শুরু করে সুভদ্রার পিত্রালয়ের দিকে। সে সময় এলাকায় হাজারো মহিলার কন্ঠে উলুদ্বনী খূল-কর্তাল ঢাক -ঢোল ও ব্যান্ডের তালে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। মন্দিরের নিজস্ব সড়ক দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিরাট আকৃতির এই রথটি এক সময় পৌঁছে যায় সুভদ্রার পিত্রালেয়ে।

কিশোরগঞ্জ-২ সংসদ সদস্য, এডভোকেট সোহরাব উদ্দিন বলেন, “রথ যাত্রার এই উৎসব মূলত হিন্দু ধর্মালম্বিদের অনুষ্ঠান হলেও এলাকায় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ রথযাত্রা উপভোগ করেন। প্রায় পাঁচশত বছরের পুরনো এই রথযাত্রা কিশোরগঞ্জ জেলাবাসীর কাছে বরাবরই সার্বজনীন উৎসব হয়ে ওঠে “। উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাইনুজ্জামান অপু বলেন , এ রথযাত্রা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক- সম্প্রীতি ও শান্তি- শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button