sliderস্থানীয়

কটিয়াদিতে শুরু হলো ৭ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই মেলা

রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের কুড়িখাই নামক স্থানে বারো আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহ শামসুদ্দিন সুলতান বুখারী (র:)ওরস ঘিরে শুরু হয়েছে সাতশত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই মেলা। জনশ্রুতি আছে যে ১২২৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আউলিয়ার সঙ্গে হযরত শাহ শামসুদ্দিন আউলিয়া সুলতানুল বুখারী(র:) সহচর শাহ নাসির, শাহ কবির ও সাহ কলন্দর কে নিয়ে ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের কুড়িখাই গ্রামে আস্তানা স্থাপনা করেন। এখানে এই মেলা প্রতিবছর বাংলা সনের মাঘ মাসের শেষ সোমবার রাতে ফকিরি মেলার মাধ্যমে শুরু হয়ে চলবে প্রায় ১০-১২ দিন। এ মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শত শত বছরের মাছেরহাট। এই ওরষে ধর্ম বর্ণের কোন ভেদাভেদ নেই। সোমবার রাতে ওরষে মোমবাতি আগরবাতি নগদ অর্থ বা মানতের দক্ষিণা দিয়ে সাধ্যমত একটি মাছ ক্রয় করে তবেই বাড়ি ফিরেন ভক্তরা। বিশাল এলাকা জুড়ে বসে মাছের পসরা। মেলায় মাছের কদর ধনি- গরিব সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি । গতকাল রবিবার সরজমিনে মেলায় ঘুরে দেখা যায় বড় বড় মাছের মধ্যে বোয়াল, চিতল, রুই, কাতল,আইর, পাঙ্গাস, সিলভার, সহ নানা প্রজাতির মাছের প্রায় চার শতাধিক দোকান বসেছে। সাধারণত ৪০-৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২৫/৩০কেজি ওজনের মাছ সারা বছর চোখে না পড়লেও ওরষের এ কুড়িখাই মেলাতে দেখতে পাওয়া যায়। মাছ বিক্রেতারা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী থেকে এ মেলায় প্রায় আট দশ দিন আগে থেকে এ সমস্ত মাছ সংগ্রহ করে মেলায় বিক্রি জন্য নিয়ে আসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধনাঢ্য ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের লোকজন এ মেলা থেকে মাছ কিনে নিয়ে যায়। এলাকায় প্রবাদ আছে হযরত শাহ শামসুদ্দিন সুলতান বুখারী(র:)ওরস উপলক্ষে মেলার মাছ খেলে সকল প্রকার দুরারোগ্য রোগ ব্যাধি দূর হয়। মেলাকে কেন্দ্র করে মেলা সংলগ্ন প্রতি বাড়িতেই নতুন জামাই ও আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াতের রীতি রয়েছে বিশেষ করে এলাকার মেয়ের জামাতারা শশুর বাড়িকে খুশি রাখতেই নাকি বড় বড় মাছ কিনে নিয়ে যান তারা। বর্তমানে এটা হয়ে উঠেছে এখানকার রীতি। সরে জমিনে দেখা যায় প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন দোকানপাট বসেছে। বিশেষ করে কাঠের আসবাবপত্র,শিশুদের খেলনা, দৈনন্দিনের পণ্য সামগ্রী, মেয়েদের সাজগোজের জিনিসপত্র উল্লেখযোগ্য। তাছাড়াও রয়েছে নানান স্বাদের খাবারের দোকান, মুড়ি, মিষ্টি, খই, বিন্নি খই, জিলাপি, মোয়া প্রভৃতি ক্রেতারা দরদাম করে নিয়ে যাচ্ছেন। মেলাতে নাগরদোলা, পুতুল নাচ, সার্কাস ও মোটরসাইকেল রেস সহ রয়েছে বিভিন্ন বিনোদন এবং কাঠ বাঁশ ও লোহার আসবাবপত্র সহ রকমারি নানা আয়োজন, যা দেখে শিশুদের পাশাপাশি বড় রাও আনন্দ পাচ্ছেন। মেলা সকাল থেকেই গভীর রাত অবধি চলে।

মেলা পরিচালনা কমিটির সম্পাদক মাইনুজ্জামান অপু জানান, মাজার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আচরণ অনুষ্ঠান। এ মেলার দোকান বরাদ্দ থেকে যে আয় হয় তা ব্যয় করা হয় মাজার ও স্থানীয় মসজিদের উন্নয়নের কাজে। কটিয়াদি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দাউদ জানান,মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুড়িখাই মেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তামারা তাসবিহা জানান, প্রায় সাতশত বছর ধরে মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ মেলাটি এখন সার্বজনীন উৎসব ও ঐতিহ্যের রূপ নিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button