sliderস্থানীয়

উলিপুরে ছাত্রী নিবাস নির্মাণে অনিয়ম, হস্তান্তরের আগেই ফাটল

এ আর লিমন,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী নিবাস নির্মাণে অনিয়ম, হস্তান্তরের আগেই ফাটল

কুড়িগ্রামের উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ তলা বিশিষ্ট ছাত্রী নিবাসের নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দেড় বছরের কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। এদিকে নির্মানাধীন ভবন হস্তান্তরের পূর্বেই দেখা দিয়েছে ফাটল, ধসে পড়ছে পলেস্তরা। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে ২০১৯ সালে উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে ৬ কোটি ৫৬ লাখ ৭০ হাজার ২শ ৮৭ টাকা ব্যয়ে ১শ ৫২টি আসন বিশিষ্ট পাঁচ তলা ছাত্রী নিবাসের নির্মান কাজ শুরু হয়। কাজটির দায়িত্ব পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুপালী কনস্ট্রাকশন বরিশাল। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাব-ঠিকাদারী নিয়ে কাজ করছেন স্থানীয় হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। এই কাজের কার্যাদেশে দেড় বছরের মধ্যে ভবনের কাজ সম্পূর্ণ করার নিদের্শনা রয়েছে।

সরেজমিনে বুধবার (৩ জুলাই) উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রী নিবাস ভবনটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। কিন্তু হস্তান্তরের পূর্বেই পাঁচ তলা ভবনের দক্ষিন দিকের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার বাহিরের দিকের একটি অংশের পলেস্তরা ধসে পড়েছে। এছাড়া পঞ্চম তলার পূর্ব দিকে পিছনের অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। ভবনের দরজা-জানালা, গ্রিলসহ বিভিন্ন জায়গায় নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহার করায় তা ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।

কলেজের পক্ষে কাজের তদারকি কমিটির প্রধান ও উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছাত্রী নিবাসের নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়ম করে আসছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় আমাদের অনুপস্থিতিতে তারা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ভবনের ছাদ ঢালাইসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ গুলো করে থাকেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন। একারনে ভবন হস্তান্তরের পূর্বেই ভবনের পলেস্তরা ধসে পড়ছে, দেয়ালের কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। দরজা-জানালাগুলো এখনি ব্যবহারের অনুপযোগি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবনের নির্মান নকশায় ছাত্রী নিবাসের চারিদিকে পাকা বাউন্ডারী ওয়াল নির্মানের কথা উল্লেখ থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভবনের সামনের অংশ নতুন ওয়াল নির্মান করলেও পিছনের পুরো অংশে বহু পূর্বে নির্মিত ভাঙাচুরা জরাজীর্ণ বাউন্ডারী ওয়ালটাকেই তারা সংস্কার করে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এসব বিষয়ে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমানের সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তারা আমাদের কথা কর্ণপাত করছেন না।

মেসার্স রুপালী কনস্ট্রাকশন বরিশালের পক্ষে সাব-ঠিকাদার হাবিবুর রহমান ভবনের পলেস্তরা ধসে পড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, যে অংশটি ধসে পড়েছে তা মুলত ফিক্সিং ব্রিকস (সৌন্দর্য বন্ধনের জন্য ব্যবহৃত টালী)। কি কারনে এটি ধসে পড়েছেন তা বুঝে আসছে না, সম্ভবত অতি বৃষ্টির কারনে এটি খুলে পড়েছে। আমরা সেটি ঠিক করে দিব। ভবনের ফাটলের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনটা হয়ে থাকলে তা ঠিক করে দেয়া হবে। দেড় বছরের কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ জমির পজেশন বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব করার কারনে এ সমস্যা হয়েছে। ভবন জুড়ে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এছাড়া বাউন্ডারী ওয়ালের ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে টেন্ডার হওয়ার কথা শুনেছি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিজন চন্দ্র রায় জানান, উলিপুর সরকারি কলেজের ছাত্রীনিবাস ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। ভবনের ত্রুটিপূর্ণ বিষয়গুলো ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে। পূর্বেই ফিক্সিং ব্রিকসের কাজ করার জায়গুলোয় ফাটল দেখা দেয়। এরপর বৃষ্টির কারনে তা ধসে পরে। ভবনের ফাটলসহ নিম্নমানের সামগ্রি দিয়ে কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি কোন সমস্যা থাকে তা সমাধান করার পরেই ভবন হস্তান্তর করা হবে। তবে তিনি বলেন ভবনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিকুর রহমান খোকন নির্মান কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রী নিবাসের ভবন নির্মানে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button