sliderস্থানীয়

ইউএনও নজরুল ইসলামকে জনস্বার্থে নলছিটিতে রাখার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

মোঃ রায়হান জোমাদ্দার,নলছিটি : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলামকে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বার্থে বদলি না করে জনস্বার্থে সরকারি বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ সময় নলছিটিতে রাখার দাবিতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন নলছিটি উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন। ১৮ ফেব্রুয়ারী দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার মো:শওকত আলীর নিকট পেশ করেন। উপজেলার সেচ্ছাসেবী এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে স্মারকলিপিটি প্রদান করেন সমাজকর্মী বালী তূর্য।

এসময় তারা বলেন, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার সাধারণ মানুষের পক্ষে অতি দু:খের সাথে জানাতে চাই যে,আমাদের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এই উপজেলায় যোগদানের চার-পাচ মাসের মাথায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রোষানলে পরে গেছেন। তার দেশ প্রেমের চেতনা,সততা,দক্ষতা,সাহসিকতা এই উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিলেও তা কিছু প্রভাবশালীদের জন্য সমস্যার কারন হয়ে গেছে। তাই তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নলছিটি থেকে বদলি করার জন্য নানা ভাবে চেষ্টা করছে। কিন্তু উপজেলার সকল সাধারণ মানুষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে জনস্বার্থে সরকারি বিধি মোতাবেক যথা সম্ভব সর্বোচ্চ সময় নলছিটির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে চায়।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে যাতে কোনো মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে বদলি না করা হয় এবং জনস্বার্থে সর্বোচ্চ সময় নলছিটিতে সেই দাবিতে স্মারকলিপিটি দিয়েছেন তারা।

এতে আরও উল্লেখ করেন,নলছিটি উপজেলাটি অতি প্রাচীন বানিজ্যিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ উপজেলা এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় পৌরসভাও নলছিটি পৌরসভা। এখানে সরকারি বিধি মোতাবেক বিভিন্ন সময় একেকজন নির্বাহী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। ধারাবাহিকতায় এবং বিধি মোতাবেক এখানে কর্মকর্তাদের বদলি হবে। কিন্তু কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বার্থ হাসিলের জন্য কোনো সৎ এবং কর্মঠ কর্মকর্তাকে অস্বাভাবিক বদলির পক্ষে নন তারা।

স্মারকলিপি থেকে জানা যায়,মো: নজরুল ইসলাম এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই তার মেধা,সততা,সাহসিকতা,এবং বিচক্ষণতার দ্বারা সাধারণ মানুষের অন্তরে যায়গা করে নিয়েছেন। তিনি যোগদানের পরেই উপজেলা পরিষদ চত্তরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়েছে। মহান বিজয় দিবসে বাংলাদেশের পতাকার আদলে আলোকসজ্জা তার মেধা এবং দেশপ্রেমের এক উদাহরণ ছিলো,যা দেশ জুড়ে প্রশংসা কুরিয়েছিলো। তিনি যোগদানের পর উপজেলার বিভিন্ন ঐতিহ্য রক্ষা এবং সম্ভাবনাময় ক্ষাত চিনহিত করে তার উন্নয়নে কাজ শুরু করেছেন। যার মধ্যে শীত কালীন অতিথি পাখির ককলকাকলিতে মুখরিত কুমারখালি মরা নদীকে পর্যটন স্পট বানানোর উদ্যোগ নেয়া ও নলছিটিতে পার্ক নির্মানের চেষ্টা অন্যতম।
তিনি যোগদানের পরপরই উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদখল যায়গায় ইজিবাইক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে দেশের ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারের ভাবমূর্তি রক্ষা করেন।
উপজেলা পরিষদ চত্তরে পুরনো ছোট্ট শিশুপার্ক ফের নতুন করে দোলনা এবং আরও কয়েকটি খেলার উপকরণ পেয়ে শিশুদের হাসিখুশিতে মুখরিত হয়েছে তার উদ্যোগে।
উপজেলা পরিষদ চত্তরের ফাকা যায়গায় গাড়ি পার্কিং করে দখল করে রাখা হতো, সেখানে সৌন্দর্য বর্ধন করে ফুলের বাগান নির্মান করা হচ্ছে।

এছাড়াও উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সের মশার উপদ্রব বন্ধে, রোগীর সেবার মান, খাবারের মান উন্নয়নে তার তড়িৎ গতিতে উদ্যোগ গ্রহন রোগীদের দুর্ভোগ অনেকাংশেই লাঘব হয়েছে মাত্র এক দিনের মধ্যে। উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের দেখতে গিয়ে রোগীদের সমস্যার কথা শুনে দ্রুত তা সমাধান করার নজির এই উপজেলায় খুব একটা নেই।

উপজেলার সিদ্ধকাঠী ইউনিয়নের একটি সরকারি খালে একজন প্রভাবশালীর দেয়া বাধের কারনে কৃষকদের বোরো চাষ ব্যাহত হচ্ছে শুনেই তিনি এক দিনের মধ্যে সেই বাধ কেটে কৃষকদের পাশে দাড়িয়েছেন।
তিনি বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নিয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানের ময়লা পরিস্কার করে ফুলের গাছ রোপণ করিয়েছেন,যা আসলে এই উপজেলার মানুষের কল্যানেই করা হয়েছে।
অসহায় দরিদ্র রোগীদের জন্য তিনি নিজের পকেটের টাকা দিয়ে ঔষধ কিনে দিয়েছেন,কিন্তু প্রচার করতে নিষেধ করেছেন।
নিজের হাতে শীতকালীন কম্বল বিতরণ করেছেন নলছিটিতে বসবাসরত ৭০টি বেদে পরিবার, আশ্রয়ন প্রকল্পের বাদিন্দা এবং প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিশুদের মাঝে। যারা প্রকৃতপক্ষে এই কম্বল পাওয়ার যোগ্য।

উপজেলার মেধাবী এবং কির্তীমানদের সংবর্ধনা দিয়ে সম্মানিত করেছেন,যা এলাকার মানুষের দায়িত্ব ছিলো কিন্তু তিনি তা বাস্তবায়ন করেছেন। কিছুদিন আগে স্বর্নপদক জয়ী কারাতে ব্ল্যাকবেল্ট মিথিলা মৌ এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই স্বর্নকিশোরীকে সংবর্ধনা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম,এতে ব্যাপক প্রশংসিত হন তিনি।

এছাড়াও তিনি যোগাদানের পরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন। এখনো একটি ড্রেজার জব্দ করা রয়েছে মল্লিকপুর খালে। যারফলে অনেকের অবৈধ আয়ে বাধা পরেছে। কিন্ত শান্তি পাচ্ছে নদী তীরের মানুষ, কমেছে নদীর ভাঙন।
তিনি অভিযান চালিয়ে অবৈধ পলিথিন ব্যাবসা বন্ধ করতে চেয়েছেন। জব্দ করা আছে এক ট্রাক পলিথিন,এরফলে এই খাতের অবৈধ ব্যবসায়ীরাও নারাজ। কিন্তু বেচে গেছে পরিবেশ।

তারা আরও বলেন,তার কাজগুলো সব আমাদের উপজেলার কল্যানেই করছেন। তিনি চলে গেলেও এগুলো আমাদের কল্যানের জন্য থেকে যাবে। তাই আমরা চাই তিনি সরকারি বিধি মোতাবেক যথা সম্ভব সর্বোচ্চ সময় নলছিটি উপজেলায় কর্মরত থাকুন।
তিনি এই সকল জনবান্ধন কাজ,সততা এবং মেধা অনেক প্রভাবশালীর চক্ষুশূল হয়েছেন। কিন্তু পুরো উপজেলার সাধারণ মানুষ তার পক্ষে আছে। আমরা সবাই চাই তাকে যাতে কোনোভাবেই অস্বাভাবিকভাবে কোথাও বদলি না করা হয়।

মানবাধিকার সদস্য এম আর রাসেল জানান তারমতো চৌকস এবং মানবিক জনবান্ধব অফিসার উপজেলার জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ, তাকে বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ সময় নলছিটিতে রাখার জোড় দাবি জানাচ্ছি।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button