sliderজাতীয়শিরোনাম

ইউএনও’র ওপর হামলা এবং আটক যুবলীগ নেতাকে ঘিরে প্রশ্ন

দিনাজপুরে নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে জড়িতদের আইনানুগ কঠোর শাস্তি দাবি করা হয়েছে৷ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে স্থানীয় যুবলীগ আহ্বায়কসহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ৷
মানবাধিকার কর্মী নূর খান মনে করেন, যেহেতু এই ঘটনায় একজন যুবলীগ নেতা জড়িত, তাই কোনো-না-কোনোভাবে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হতে পারে৷ তাই তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতে অনেক ঘটনা ধামাচাপা দিতে দেখেছি৷ তদন্ত ও বিচারের নামে যেন কোনো প্রহসন না হয়৷’
আটক জাহাঙ্গীর হোসেন ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবং আটক আরেকজন আসাদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের সহযোগী ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য৷ যুবলীগ শাসক দল আওয়ামী লীগেরে ভ্রাতৃপ্রতীম যুব সংগঠন৷ গত বছর এই যুবলীগই ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে৷
বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘোড়াঘাটের সরকারি বাসার দাড়োয়ানকে বেঁধে মই দিয়ে উঠে ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়িপেটা করে ও কোপায়৷ এ সময় তার বাবার ওপরও হামলা চালানো হয়৷ ওয়াহিদা মাথায় গুরুতর আঘাত পান৷ ঢাকায় আনার পর চিকিৎসকরা তার মাথায় নয়টি আঘাতের কথা জানিয়েছেন৷
আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচারের পর তার জ্ঞান ফিরেছে বলে চিৎিসকরা জানিয়েছেন৷
এদিকে পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোর রাতে হাকিমপুর এলাকা থেকে প্রথমে আসাদুল ইসলামকে এবং পরে তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেনকে তার ঘোড়াঘাটের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে৷
ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম ওই দু’জনকে আটকের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘‘আমরা আরো কয়েকজনকে আটক করেছি৷ ইউএনও’র বাসার চারটি সিসি ক্যামেরা ও আশপাশের সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাদের আটক করা হয়৷ এই মুহূর্তে তাই সবার নাম প্রকাশ করছি না৷ এর সঙ্গে আরো কেউ জাড়িত থাকতে পারে৷’’
হামলার মোটিভ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না৷’’
এদিকে হামলার পর সহযোগীরা আত্মগোপনের জন্য এলাকার বাইরে চলে গেলেও যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর তার ঘোড়াঘাটের বাসাতেই ছিলেন৷ তাকে তার বাসা থেকেই আটক করা হয়৷
২০১৭ সাল থেকে তিনি উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক৷ স্থানীয় সংসদ সদস্য (দিনাজপুর-৬) ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শিবলি সাদিক দাবি করেন, এই যুবলীগ নেতা কয়েক মাস আগে তার গাড়িতেও হামলা চালিয়েছিল৷ একাধিকবার তাকে মাদক মামলাসহ নানা অপরাধে গ্রেফতার করার হলেও জেলে আটকে রাখা যায়নি৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি লিখিতভাবে যুবলীগের জেলা কমিটির কাছে তাকে সংগঠন থেকে বাদ দেয়ার জন্য বলেছি৷ কিন্তু অদৃশ্য কারণে তাকে বাদ দেয়া হয়নি৷ যারা মাদক ব্যবসাসহ আরো অনেক অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত, তারাই তাকে টিকিয়ে রেখেছে এতদিন৷’’
থানায় কথা বলে জানা গেছে, এই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মাদক, জমি দখল ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে মামলা রয়েছে৷ তারপরও তিনি যুবলীগের আহ্বায়ক কীভাবে থাকে জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ বলেন, ‘‘আমরাও জুলাই মাসে তাকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিকে চিঠি দিয়েছি৷ চিঠির সাথে সংসদ সদস্যের ডিও লেটারও দিয়েছি৷ তারপরও হয়ত করোনার কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি৷ আজও (শুক্রবার) আমি কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল ভাইকে ফোন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছি৷’’
স্থানীয় পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর হোসেন তাউপজেলায় পুরো মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন৷ টেন্ডার ও ঠিকাদারীও তার নিয়ন্ত্রণে৷ তার এইসব অপকর্মে কেউ বাধা হলেই তার ওপর সে হামলা চালাতো৷ দুই মাস আগে ত্রাণ বিতরণের সময় সে পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলনের ওপরও হামলা চালায়৷
নূর খান বলেন, ‘‘আটক যুবলীগ নেতার পেছনে আরো কোনো শক্তি থাকতে পারে৷ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করতে হবে৷ আমরা ক্রসফায়ার বা অন্য কৌশলে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল হতে দিতে চাই না৷ তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সব অপরাধী চিহ্নিত হোক তা চাই৷’’
তার মতে, ‘‘অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে সুষ্ঠু বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে৷ তাহলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ কেউ করতে আর সাহস পাবে না৷ আর তা না করে যদি কোনো শর্টকাট পদ্ধতিতে যাওয়া হয়, তাহলে আরো যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা বিচারের আওতায় আসবে না৷ এই ধরনের ঘটনা আবারো ঘটবে৷’’
ঘোড়াঘাট উপেজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন ও সদস্য আসাদুল ইসলামকে শুক্রবার সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button