sliderরাজনীতিশিরোনাম

আওয়ামী দখলদারদের হাতে ৯৫ ভাগ মানুষের অধিকার আজ বন্দী-এবি পার্টি

পতাকা ডেস্ক: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত মাসব্যাপী গণইফতারের ১১তম দিনে অসহায় মানুষের সাথে অংশগ্রহণ করেন গুম হওয়া পরিবারগুলোর সংগঠন মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম সহ বেশ কয়কটি গুম পরিবারের সদস্য। গুমের শিকার শত শত পরিবার নিয়ে গত এক যুগ ধরে কাজ করছে “মায়ের ডাক”। সানজিদা ইসলাম এর ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমন গুমের শিকার হন ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে, বিএনপির রাজনীতি করতেন বলে তাকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। ভাইকে খুঁজে ফেরার লড়াই থেকে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মায়ের ডাক’ নামক মানবাধিকার সংগঠন যা পুরো দুনিয়ার মানবতাবাদী মানুষ এবং সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। মায়ের ডাক’র প্রতিনিধি সংগঠকরা আজ গণ-ইফতারে জন মানুষের সাথে ইফতারে অংশ নেন।
গণ-ইফতার পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সানজিদা ইসলাম, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা।
সানজিদা তার বক্তব্যে বলেন, প্রিয়জনকে হারানোর কষ্টের যেন শেষ নেই। কারন আমরা আমাদের ভাই এবং স্বজনদের কারো মৃত্যুর খবর পাইনি, জানাজা দিয়ে কারো লাশ দাফন করতে পারিনি। বছর শেষে বিশেষ কোন দিনে দোয়ার আয়োজন করা বা কবর জেয়ারত করতে পারছি না কারন আমরা জানি না ওনারা বেঁচে আছেন না রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন নাকি এখনও আয়না ঘরে বন্দী আছেন। এই অজানা আশঙ্কায় দিন কাটানোর বেদনা গুমের পরিবার ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না। আজকের গনইফতারে উপস্থিত সকলের কাছে আমরা দোয়া চাই এবং চলমান বেঁচে থাকার লড়াই এ আপনাদের সমর্থনই আমাদের পাথেয়।


এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফু্য়াদ বলেন, অনেক প্রাণের বিনিময়ে যে গনপ্রজাতন্ত্র আমরা কায়েম করতে চেয়েছিলাম সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে, তা পাঁচ যুগ পেরিয়ে অধরাই রয়ে গেল। অবৈধ সরকারের সমালোচনা করা সংবিধানসিদ্ধ হলেও বাকশালসিদ্ধ নয়। বৈষম্য আর অধিকারের প্রত্যয় নিয়ে যে দেশে মুক্তির লড়াই হয়েছিল, সেদেশের ৯৫ ভাগ মানুষের অধিকার আজ আওয়ামী দখলদারদের হাতে বন্দী হয়ে আছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ সব কিছুই হারিয়ে গেছে নিজ দেশের আওয়ামী হানাদারদের হাতে। চেতনার খোলসে নির্বাচন ও ভোটকে ধ্বংস করে দিয়ে আওয়ামী লীগ ইয়াহিয়া আর আইউব খাঁনের সামরিক শাসন কায়েম করে রেখেছে গনতন্ত্রের মোড়কে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নাগরিকদের করের টাকায় তাদেরকে গুম, খুন ও জেলে বন্দী করবার মহৌৎসব চলছে গত দেড় যুগ ধরে। আমরা এগুলোর অবসান চাই; সেজন্য দরকার সম্মিলিত লড়াই, প্রতিবাদ ও গনআন্দোলন।
গত দেড় যুগ আগে গুম হয়ে যাওয়া শত শত পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন নাসরিন জাহান স্মৃতি যার স্বামী জনাব ইসমাইল হোসেন বাতেনকে ২০১৯ সালের ১৯ জুন গুম করা হয় ওনার মিরপুরস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে। নাসরিন স্মৃতি বলেন, প্রায় পাঁচ বছর হতে চলেছে আমরা কোন খবর পাচ্ছি না; পুলিশ, র‍্যাব থেকে শুরু করে এই রাষ্ট্রের কেউ কোন সহযোগীতা করছে না। আমার দুটো নিষ্পাপ সন্তান নিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে বেচে থাকাটা অনেক কষ্টের। মাঝে মাঝে মনে হয় যে আর পারছি না, হাল ছেড়ে দেই। কিন্তু আমরা লড়াই করে বেঁচে থাকতে চাই আপনাদের দোয়া এবং সহযোগীতা নিয়ে। আমরা কৃতজ্ঞ ‘মায়ের ডাক’ সহ দেশী ও বিদেশী মানবাধিকার সংগঠন এবং শুভাকাঙ্খীদের কাছে যারা আমাদেরকে সাহস ও শক্তি যুগিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর থেকে।
গণ-ইফতারে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম আহবায়ক বিএম নাজমুল হক, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার ফারুক, যুগ্ম সদস্যসচিব কেফায়েত হোসেন তানভীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মশিউর রহমান মিলু, রিপন মাহমুদ, পল্টন থানা আহবায়ক আব্দুল কাদের মুন্সি, যাত্রাবাড়ী থানা সমন্বয়ক সিএম আরিফ সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button