sliderরাজনীতিশিরোনাম

অবৈধ সরকারের ছত্রছায়ায় খুনী আর সিন্ডিকেট জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে-এবি পার্টি

পতাকা ডেস্ক: বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি। আজ বিদ্যুৎসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের উপর্যুপরি মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে দলটি। এসময় নেতারা বলেন, দূর্ঘটনাজনিত আগুন লাগলে সরকার আগুন নেভাতে পারেনা, মানুষ বাঁচাতে পারেনা তারা সিন্ডিকেট বানিজ্য করে জিনিস পত্রের দাম বাড়িয়ে মানুষ মারতে পারে। দেশের জনগণের টাকায় যত ছোট উন্নয়নই হোকনা কেন তার কৃতিত্ব নিতে প্রধানমন্ত্রী ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। কৃতিত্ব যদি ওনার হয় এই সকল ব্যার্থতার দায়ও প্রধানমন্ত্রীর। এতো গুলো মানুষ মারা যাওয়ার পর রাজউক সহ অন্যান্য তদারকি সংস্থা সমুহ বিবৃতি দিচ্ছে এটার অনুমোদন ছিলোনা ওটার অনুমোদন ছিলোনা। প্রশ্ন হলো অনুমোদন ছাড়া বেইলি রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এতদিন ধরে ব্যবসা গুলো চলছে কিভাবে? তবে কি সব কমিশনখোরদের উপর ভর করেই এই রাষ্ট্র চলছে?
এবি পার্টির নেতারা আরো বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতেই একের পর এক বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে এই আওয়ামী বাকশালি সরকার। এই লুটপাটকে যেন কেউ চ্যালেঞ্জে করতে না পারে সেই জন্যই ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছে।
তারা সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইনডেমনিটি দিয়ে যেভাবে অতীতে অনেকেই রক্ষা পায়নি আপনারাও এই লুটেপাটের দায় থেকে রেহাই পাবেন না।


এবি পার্টির যুগ্ম আহবায়ক বিএম নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুবপার্টির আহবায়ক এবিএম খালিদ হাসান সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কাকরাইল, বিজয়নগর, পল্টন সহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, খোঁজ নিলে দেখা যাবে অবৈধ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বঙ্গভবন ও গণভবনেই অনিয়মের কোন শেষ নেই। যখন সুযোগ সন্ধানীরা দেখে দেশে প্রধানমন্ত্রী হতেই কোন নিয়ম মানতে হয়না, জনগণের ভোট লাগেনা সেখানে বিল্ডিং বানাতে বা রেষ্টুরেন্ট বানাতে আর কি আইন মানতে হবে। আমরা জনগণকে বলতে চাই, কেউ আসুক বা না আসুক, এবি পার্টি এই ফ্যাসিবাদি সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, স্বাধীনতার মাস শুরু হলো নাগরিকদের পরাধীনতার মধ্য দিয়ে। ভোট ও ভাতের অধিকার কেড়ে নিয়ে এই অনির্বাচিত সরকার প্রতিনিয়ত জনগনের সাথে তামাশা করে যাচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে, আগুনে পুড়িয়ে, বেশী দামে কম টাকার জিনিস কিনতে বাধ্য করিয়ে বিশ কোটি মানুষকে এক রকম জিম্মি করে রেখেছে দ্বিতীয় বাকশাল। অরক্ষিত সীমান্ত নিরাপদ রাখতে না পারলেও দেশপ্রেমিক বাহিনীগুলোকে দিয়ে বিরোধীদল নিধনযজ্ঞ চলমান রয়েছে অবিরত। হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতা কর্মীকে জেলে পুরে, নির্যাতন করে স্বাধীনতা দিবস বা স্বাধীনতার মাস উদযাপন করাটা তামাশা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। তাই প্রতিবাদ আর লড়াই ছাড়া স্বাধীনতা ফিরে পাবার কোন বিকল্প নেই আমাদের সামনে।

সভাপতির বক্তব্যে, বিএম নাজমুল হক বলেন, আজকের এই বিক্ষোভ উপর্যুপরি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে, নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে, বেইলি রোডে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রমজানের আগে যারা জিনিস পত্রের দাম বাড়াবে তাদের গণধোলাই দিতে, আমরা বলতে চাই যে সরকারের প্রধানমন্ত্রী দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে জনগণকে আইন হাতে তুলে নিতে উস্কানি দেয় তাঁর ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই।

বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, হাদিউজ্জামান খোকন, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক গাজী নাসির, যুগ্ম সদস্যসচিব সফিউল বাসার, কেফায়েত হোসেন তানভীর, মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সেলিম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমেনা বেগম, রিপন মাহমুদ, মশিউর রহমান মিলু, শরন চৌধুরী, এনামুল হক, যুবপার্টি মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক তোফাজ্জল হোসেন রমিজ, উত্তরের সদস্যসচিব শাহীনুর আক্তার শীলা, এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, পল্টন থানা আহবায়ক আব্দুল কাদের মুন্সি, ছাতপক্ষের সহকারী সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান খান সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button