sliderবিনোদনশিরোনাম

অনিবার্য ইশতেহারের কবি আসাদ বিন হাফিজ আর নেই

অনিবার্য ইশতেহারের কবি হিসেবে পরিচিত দেশের ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক, ছড়াকার, সাহিত্যিক ও প্রকাশক কবি আসাদ বিন হাফিজ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

রোববার (৩০ জুন) রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন কবির ছোট ছেলে আহমদ শামিল।

মরহুমের সালাতুল জানাযা আজ সোমবার জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে বাদ যোহর (জামায়াত ১.১৫) অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় সালাতুল জানাযা বাদ আসর ৫.৩০ গাজীপুর জেলা কালিগঞ্জের নিজ বাড়ি-সংলগ্ন বড়গাঁও বাইতুল উলুম আলিম মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে শনিবার রাতে স্ট্রোক করে রাজধানীর ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

আসাদ বিন হাফিজ ১৯৫৮ সালের ১ জানুয়ারি গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত বড়গাও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহাম্মদ হাফিজউদ্দীন মুন্সী এবং মা জুলেখা বেগম।

তিনি আদর্শিক দিক দিয়ে কবি ফররুখ আহমদের অনুসারী। তার সাহিত্যে বাংলার মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণ এবং বিপ্লবের অণুপ্রেরণা প্রকাশ পেয়েছে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সৃজনশীলতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির ব্যবহারেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি ছিলেন ইসলামি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক, ছড়াকার ও সাহিত্যিক, প্রকাশক এবং সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক (৩য়) পরিচালক। তার বহু ইসলামী গান ও কবিতা নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে।

তার সাহিত্যে বিপ্লবী চিন্তা-চেতনারও প্রকাশ ঘটেছে। তিনি ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কবি আসাদ বিন হাফিজ ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৮৩ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, শিশু সাহিত্য, গবেষণা, সম্পাদনা ইত্যাদি সাহিত্যের সব শাখাতেই কবি আসাদ বিন হাফিজ রেখেছেন তার অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর। তিনি প্রায় ৮১টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। কবি আসাদ বিন হাফিজ তার বর্ণাঢ্য কর্ম ও সাহিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

কবি আসাদ বিন হাফিজ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি, গীতিকার, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, বিশুদ্ধ সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম সফল সংগঠক ও প্রকাশক। ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাকে ছড়িয়ে দেবার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিলো অনন্য। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের আদর্শিক ধারায় বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হলো।


কবি আসাদ বিন হাফিজের নামাজে জানাজায় মানুষের ঢল

বর্তমান বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রসিদ্ধ কবি ও সাহিত্যিক আসাদ বিন হাফিজের নামাজে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণী-পেশার মানুষ।

সোমবার (১ জুলাই) বাদ যোহর জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

কবি আসাদ বিন হাফিজ রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎধীন অবস্থায় গত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতাসহ নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদ্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, ড. হেলাল উদ্দীন, উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন কামাল হোসাইন ও ড. আব্দুল মান্নান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, কবি আব্দুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

পরে মরহুমের লাশ তার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের নিজ গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয় এবং বাদ আছর সেখানে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নামাজে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য গাজীপুর মহানগরীর আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর জেলা আমির ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম, টাঙ্গাইল জেলা আমির আহসান হাবিব মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন ও ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, গাজিপুর মহানগরী নায়েবে আমির মুহাম্মদ খায়রুল হাসান, মহানগর সেক্রেটারি আ.স.ম ফারুক, গাজিপুর জেলা নায়েবে আমির মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা শেফাউল হক, নরসিংদী জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আমজাদ হোসেন,ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল সালাম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য শাহীন আহমেদ খান, উত্তরের সাহিত্য সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি আবিদুর রহমান, সাহিত্য সংস্কৃতি বিভাগ মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি মাহবুব মুকুল, সাইমুমের বর্তমান ও সাবেক পরিচালকবৃন্দ। কালীগঞ্জ উপজেলা আমির মাওলানা মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নায়েবে আমির আফতাব উদ্দিন, উপজেলা সেক্রেটারি তাজুল ইসলামসহ মরহুমের আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার পরিবারের সকলের এই শোক সহ্য করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। কবি আসাদ বিন হাফিজের অনবদ্য সব লেখার জন্য রাব্বুল আলামিনের দরবারে উত্তম পুরস্কার প্রাপ্তির দোয়া করছি। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ও ৮০-এর দশকের খ্যাতিমান বিশ্বাসী কবি, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ও সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক পরিচালক কবি আসাদ বিন হাফিজের জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করছি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button